সিবিএনঃ
কক্সবাজার পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের সমিতি পাড়ায় নির্মানাধীন বক্স কালভার্টটির কাজ শেষ হওয়ার আগেই দেবে ভেঙে গেছে। প্রবল বৃষ্টির সময় গত বুধবার এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় এক তৃতীয়াংশ এখন পানির ভেতরে। মানুষের প্রয়োজনে নির্মিতব্য কালভার্টি এখন দুর্ভোগের কারণ হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা বলছে, প্রয়োজনীয় উপকরণ যথাযথ ব্যবহার না করায় দেবে গেছে। ভেঙে পড়েছে পানিতে।

কালভার্ট উদ্বোধনের আগেই বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া নিয়ে বেশ সমালোচনা তৈরি হয়েছে। দোষছে ঠিকাদারকে।

তবে এটি নির্মাণের দায়িত্ব কার উপর ছিল, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারছে না কেউ।

স্থানীয় কাউন্সিলর বলছেন, তিনি দেখভাল করেছেন মাত্র। টেন্ডার কে পেয়েছে, জানেন না।

আর পৌরসভা বলছে, এ বিষয়ে তারা মোটেও অবগত নয়।

এলাকাবাসীর প্রশ্ন, জনগুরুত্বপূর্ণ কাজটি করছে কে?

কক্সবাজার পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা বলছে, টানা তিনদিন বৃষ্টির কারণে পানির উচ্চতা বৃদ্ধিতে নব-নির্মিতব্য কালভার্টটির কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। বাকি অংশ সেখানেই বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে থাকে।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজার পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আলমের নিকট জানতে চাইলে বলেন, ব্রিজটি কোনো সরকারি প্রকল্পের অধীনে নয়। পৌরসভার পক্ষ থেকে কাউকে টেন্ডারও দেয়া হয় নি। হয়তো স্থানীয় কাউন্সিলর নিজে উদ্যোগি হয়ে করছিলেন।

তিনি বলেন, ভেঙ্গে পড়া ব্রিজটির কাছেই আরেকটি ব্রিজ নির্মাণের কাজ চলছে, যেটির নির্মাণের দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের।

স্থানীয় কাউন্সিলর এসআইএম আকতার কামাল আজাদ বলেন, সেতুটি নির্মাণ সম্পর্কে তিনি অবহিত থাকলেও এটি নির্মাণের দায়িত্ব কোন প্রতিষ্ঠানের ওপর ছিল সেবিষয়ে তিনি জানেন না। এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে তদারকি করছিলেন মাত্র।

কোন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এটির নির্মাণের দায়িত্বে ছিল, তা কাগজপত্র দেখে নিশ্চিত হয়ে বলতে হবে জানান কাউন্সিলর।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, আট ফুট প্রস্থ ও ২২ ফুট দৈর্ঘ্যের বক্স কালভার্টটি যেই জলপথের ওপর নির্মিত হচ্ছিল, সেই পথ দিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ নৌকার মাধ্যমে পারাপার করে। জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকে পথঘাট। এখানে একটি ব্রিজ বা কালভার্ট করার দাবী দীর্ঘদিনের। কাজটি হতে দেখে খুশি হয়েছিল স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে ১ কিলোমিটারজুড়ে পানির উচ্চতা অন্তত ১০ ফুট বেড়েছে। সে কারণে এটি দেবে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

কাউন্সিলর আকতার কামাল বলেন, ব্রিজের গোড়ায় যেন পানি না আসে, তা নিশ্চিত করতে বাঁধ দেয়া হয়েছিল। তবে বৃষ্টিতে বাঁধে পানি উঠে যাওয়ার পর স্রোতে ব্রিজটি দেবে যায়।

এর নির্মাণ খরচ অনুমান ৫ লক্ষ টাকা বলেও জানিয়েছেন কাউন্সিলর আকতার কামাল।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •