ধর্ম ডেস্ক:
হজে যাওয়ার সময় বয়ে যাচ্ছে। মহামারি করোনার কারণে ২০২০ সাল তথা ১৪৪১ হিজরিতে হজ অনুষ্ঠিত হবে কিনা তা এখনও নিশ্চিত নয়। হজের আয়োজক দেশ খোদ সৌদি আরব এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে মহামারি করোনার কারণে আট দেশ হজে নিজ দেশের লোক পাঠাবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে হজে অংশগ্রহণকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সুস্থ থাকা এবং মানসিক শক্তি অর্জন করা।

প্রতি বছরের এ সময়টিতে অর্থাৎ শাওয়াল মাসের ১৫ তারিখের পর সারাবিশ্ব হজ উপলক্ষে পবিত্র নগরী মক্কা ও মদিনায় জমায়েত হয় মুমিন মুসলমান। আরাফাতের ময়দানে উপস্থিত হওয়ার আগে লোকে-লোকারণ্য হয়ে ওঠে এ পবত্রি দুই নগরী।

মদিনার মুসল্লিদের মুখে শোনা যায়, সালাত ও সালামের আবেগঘন আওয়াজ- ‘আসসালাতু আসসালামু আলাইকা ইয়া রাসুলাল্লাহ’। পবিত্র নগরী মক্কায় ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ নামক স্বর্গীয় সুধার অপূর্ব ছন্দের আওয়াজে থাকে মুখরিত। উভয় স্থানেই মুমিন মুসলমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জান্নাতি অভ্যর্থনায় নিয়োজিত ফেরেশতাকূল। তাতে একত্রিত হয় মুসলিম মিল্লাত।

মক্কা-মদিনার সেই চেনা ও পরিচিত আমেজ এবার এখনও ধরা দেয়নি। মহামারি করোনার কারণে আটকে হজের মতো বিশাল আয়োজনের সব ব্যবস্থাপনা। যদিও এবারের হজ অনুষ্ঠিত হয় তবে তা হবে সংক্ষিপ্ত পরিসরে। স্বল্প আয়োজনে।

এখন পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ কমিয়ে মাত্র ২০ শতাংশ লোক নিয়ে হজ আয়োজনের চিন্তা করছে হারামাইন ওয়াশ শারিফাইন। আর তাতে অনেক কড়াকড়ির বিধি-নিষেধের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে হজ। সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য সতর্কতা অবলম্বন করা হবে। নিজ নিজ দেশ থেকে সর্বোচ্চ স্বাস্থ্য পরিক্ষা সম্পন্নের মাধ্যমে হজযাত্রা থেকে শুরু করে সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনায় স্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতা ও বিধি-নিষেধ মেনেই হজ আদায় করতে হবে।

এমনিতেই হজের জন্য আর্থিক, শারীরিক, মানসিক ও আত্মিক প্রস্তুতির খুব বেশি প্রয়োজন। তারপর এবারের করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্য বিষয়ক পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে অনেককে। তবে বয়স্ক ও অসুস্থ হজযাত্রীরা বিধি-নিষেধের আওতায় এমনিতেই হজের এ সফর থেকে বাদ পড়ে যাবে। তারপরও যারা হজে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে এবং হজের চিন্তা করেন তাদের কিছু প্রস্তুতি রাখা জরুরি।

হজে গমণের আগে করণীয়
– বৈধ অর্থের উৎস থেকেই হজ্বের সব ধরনের খরচের আঞ্জাম দেয়ার ব্যবস্থা রাখা
– স্বাস্থ্য সম্মত ইহরামের কাপড় সংগ্রহ করা।
– পাসপোর্ট, টাকা-পয়সা ও জরুরি কাগজপত্র রাখার জন্য কোমরবন্দ বেল্ট তথা ওয়াটার ফ্রুপ ব্যাগ সংগ্রহ করা।
– পাড়া-পড়শিসহ নিকটআত্মীয়দের কাছ থেকে দায়-দাবি মুক্ত হওয়া।
– নিজের কোনো ভবিষ্যৎ চিন্তা বা অসিয়ত থাকলে তা তৈরি করে রাখা।
– ঋণগ্রস্ত হলে হজের সফরের আগেই ঋণ পরিশোধ করা।
– দুনিয়াবী সব ধরনের লেন-দেন ও সমস্যা থেকে মুক্ত হওয়া।
– ইবাদত-বন্দেগির পরিমাণ বাড়িয়ে আত্মা বা দিলকে আল্লাহর প্রেমের উপযোগী করে তোলা।
– নামাজ, ইহরাম, বায়তুল্লাহ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া সাঈর দোয়া ও তালবিয়া শিখে নেয়া।
– গুরুত্বপূর্ণ আমল ও দোয়া এখন থেকেই শিখে নেয়া।
– হজের তলবিয়া সহিহ শুদ্ধ করে মুখস্ত করে নেয়া।

সর্বোপরি হজে রওয়ানা মনে হচ্ছে মৃত্যুর জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে বাইতুল্লাহর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া। হতে পারে এই যাত্রাই একজন আল্লাহ প্রেমিকের জীবনের শেষ যাত্রার প্রস্তুতি। এ মানসিকতায় নিজেকে পরিপূর্ণ তৈরি করে নেয়া।

হজে রওয়ানা হওয়ার আগেই যা ত্যাগ করা জরুরি
– সব ধরনের মোহ, লোভ-লালসা ত্যাগ করা।
– সব ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা।
– হজের এ যাত্রাকে জীবনের শেষ যাত্রা মনে করে প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
– আভিজাত্য, পদমর্যাদা, গর্ব ও অহংকার ত্যাগ করা।
– তাড়াহুড়া ও উদাসিনতার ভাব ত্যাগ করা।
– দুনিয়াবি সব ধরনের অন্যায় কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা।

মহামারি করোনায় যেসব সতর্কতা ও প্রস্তুতি জরুরি
– উন্নত মানের পর্যাপ্ত পরিমাণ মাস্ক সংগ্রহ রাখা।
– উন্নত মানের হ্যান্ডগ্লাভস।
– জায়নামাজ ও বিছানা চাদর।
– হ্যান্ড স্যানিটাইজার, স্প্রে, জীবাণুনাশকসহ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সামগ্রী।
– সৌদি আরব কর্তৃক ঘোষিত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সমাগ্রী সঙ্গে রাখার প্রস্তুতি থাকা।

প্রত্যেক দেশের হজ মন্ত্রণালয় অবস্থার আলোকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। নিজ দেশ ও সৌদি সরকার কর্তৃক ঘোষিত প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো সংগ্রহে রাখাই হবে হজ পালনকারীদের জন্য একান্ত আবশ্যক।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবে এ দুঃসময়ে হজের যাবতীয় প্রস্তুতি রাখার তাওফিক দিন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যথাযথভাবে হজ সম্পাদন করার তাওফিক দান করুন। হজের ওসিলায় মহামারি করোনা থেকে পুরো বিশ্বকে হেফাজত করুন। আমিন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •