আবুল কালাম , চট্টগ্রাম :

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি বাবুনগর মাদ্রাসার মোহতামিম আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী নাজিরহাট বড় মাদরাসা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবারের মত এবারও একটি মহল নাজিরহাটকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। অন্য এলাকা থেকে নাজিরহাটের বিষয়ে কথা বলছে। এতে আমি শঙ্কিত, উদ্বিগ্ন।

এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন থেকে হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালক মাওলানা আহমদ শফী নাজিরহাট মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা সলিমুল্লাহকে নাজিরহাট মাদরাসার পরিচালক নিয়োগ দেয়ার জন্য অবৈধ সব পন্থা অবলম্বন করে আসছেন। এতে এলাকাবাসী উত্তেজিত ও বিক্ষুব্ধ হচ্ছে। আমি বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীকে এখনও নিয়ন্ত্রণে রেখে শান্তি রক্ষার স্বার্থে সকল প্রকার উস্তানীমূলক তৎপরতায় ধৈর্য ধারণের নির্দেশ দিয়েছি। আমি বলে দিয়েছি, যা হবে, আইন ও শুরার মাধ্যমে হবে।

আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী আরও বলেন, কিন্তু এটাকে একটি কুচক্রীমহল দুর্বলতা হিসাবে মনে করছে বলে আমার মনে হয়। গতকাল হাটহাজারী মাদরাসার তামাশার শুরা আয়োজনের পরেও আমি কোন উচ্চবাচ্য করিনি। আমি বলে দিয়েছি, মাওলানা আহমদ শফী আমাকে অবৈধভাবে শুরায় দাওয়াত না দিলেও হাটহাজারী নিয়ে কোন কথা বলব না। আমার মাথাব্যথা ফটিকছড়ি, নাজিরহাট নিয়ে। এরই মধ্যে আজ মাওলানা আহমদ শফী সম্পূর্ণ উস্কানীমূলকভাবে একটি ভিডিও ক্লিপ অনলাইনে ছেড়ে সলিমুল্লাহকে নাজিরহাট মাদরাসার মোহতামিম নিয়োগের বেআইনী ঘোষণা দেন। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ছে।

তিনি আরো বলেন, মাওলানা আহমদ শফী নিজেকে মুতাওয়াল্লী দাবি করেন। তিনি ভুলে গেছেন, মোতাওয়াল্লী শুরার অধীনের একটি পদ, খোদার পদ নয়। তিনি যাই ইচ্ছা তাই করতে পারেন না। তাহলে আমিও বলতে পারি, আমি হাটহাজারী মাদরাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও নাজিরহাট মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা সুফী আজীজুর রহমান সাহেব রহ.-র নাতি। তাঁর চাইতে আমার অধিকার অনেক বেশি। আমি বারবার বলেছি, যা হবে আইন ও মূল শুরার মাধ্যমেই হবে।
আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, আমি ফটিকছির সংসদ সদস্য, উপজেলা চেয়ারম্যান, ওসি, হাটহাজারী আসনের সংসদ সদস্য ও হাটহাজারী থানার ওসিকে এই মর্মে আহ্বান জানাচ্ছি, তাঁরা যেন মাওলানা আহমদ শফীর উস্কানীমূলক ভিডিও প্রত্যাহারে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন এবং হাটহাজারী মাদরাসা থেকে ফটিকছড়িকে অস্থিতিশীল করার সব অপচেষ্টাকে নিবৃত করেন।