cbn  

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া :

কক্সবাজারের চকরিয়ায় তিনদিনের ভারি বর্ষণ ও মাতামুহুরী নদীতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে করোনাকালে ভয়াবহ বন্যার পদধ্বনি হয়েছে। নদীতে বিপদসীমা অতিক্রম করে প্রবাহিত হচ্ছে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি। ভেঙে পড়েছে উপজেলা সদরের সাথে ইউনিয়নগুলোর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। জরুরী প্রয়োজনে মানুষ নৌকায় চেপে যাতায়াত করছেন। এতে উপজেলার শতাধিক গ্রামের অন্তত দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কোথাও কোথাও বেড়িবাঁধ উপচে গিয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। মাতামুহুরী নদীতে লাঁকড়ি ধরতে নেমে তীব্র স্রোতে পড়ে ভেসে গিয়ে আরিফুল ইসলাম নামের এক যুবক নিখোঁজ রয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত তার খোঁজ মেলেনি।

এদিকে রেল লাইনের নির্মিতব্য প্রায় ১০ ফুট উঁচু মাটির রাস্তার কারণে আটকা পড়েছে ঢলের পানি। তার ওপর ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকায় ভাটির দিকে পানি দ্রুত নামতে পারছেনা।

চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আহমদ রেজা জানান, বুধবার মধ্যরাতে মাতামুহুরী নদীতীরের কোচপাড়া পয়েন্টের এক নম্বর গাইডবাঁধ এলাকায় ভাঙন শুরু হলে আতঙ্ক দেখা দেয় বাসিন্দাদের মাঝে। এ সময় প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে বুধবার রাতভর শ্রমিক দিয়ে মাটি ও বালির বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানো হয়। ব্যক্তিগতভাবে তিনি এই কাজ করেন বাদশা সওদাগর, সেলিম ও জয়নাল হাজারিকে নিয়ে। উপজেলার কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, বমুবিলছড়ি, হারবাং, কৈয়ারবিল, লক্ষ্যারচর, চিরিঙ্গা, পশ্চিম বড় ভেওলা, পূর্ব বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, বিএমচর, ডুলাহাজারা, খুটাখালী ইউনিয়ন এবং পৌরসভাসহ পুরো উপজেলার শতাধিক গ্রামের অন্তত দুই লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন বলে জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।

সরজমিন বন্যাকবলিত এলাকা ঘুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ জানিয়েছেন, উপকূলীয় এলাকার শতাধিক স্লুইস গেট এবং নাঁশিও খুলে দেওয়া হয়েছে ইতোমধ্যে। এতে দ্রুত পানি নামলেও ভারি বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার কেউ যাতে অনাহারে না থাকে, সেজন্য প্রায় ২১ হাজার পরিবারে প্রাথমিকভাবে শুকনো খাবার ও পানি বিতরণ করা হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •