সোয়েব সাঈদ , রামু :
রামুর জোয়ারিয়ানালায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষকের বসত বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই শিক্ষকের স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে সহ ৪ জন আহত হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ৯৯৯ এ কল দিলে রামু থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আহতদের উদ্ধার করে। বুধবার (১৭ জুন) সকাল ৯টায় রামুর জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের চর পাড়া এলাকায় মাস্টার আয়োয়ারুল হকের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন, মাস্টার আয়োয়ারুল হকের স্ত্রী হামিদা খানম, ছেলে আজিজুল হক ও আমিনুল হক ছোটন এবং অপর কন্যা।
এ ঘটনায় আহত আমিনুল হক ছোটন বাদি হয়ে বুধবার রাতেই রামু থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন। এতে অভিযুক্তরা হলেন, একই এলাকার মৃত ইশবাল আহমদের ছেলে এনামুল হক, এমদাদ আলীর ছেলে রাহামত আলী, মৃত কালা মিয়ার ছেলে নুরুল আজিম প্রকাশ ডাকাত আজিম, রাহামত আলীর ছেলে আইয়ুব মিয়া সহ অপ্সাত ৬/৭ জন।
হামলার শিকার মাষ্টার আনোয়ারুল হকের স্ত্রী হামিদা খানম ও ছেলে আজিজুল হক জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দা-লোহার রড, লাটি-সোটা নিয়ে পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে প্রবেশ করে তাদের উপর হামলা শুরু করে। হামলায় তাদের পরিবারের ৪ জন সদস্য গুরতর জখমপ্রাপ্ত হন। হামলাকারিরা বসত ঘরের ঘেরা-বেড়া,আসবাবপত্র ভাংচুর, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে।
জানা গেছে, হামলা চলাকালে শিক্ষকের পরিবারের সদস্যরা নিরুপায় হয়ে ৯৯৯ নাম্বারে কল করে পুলিশের সহযোগিতা চান। কল পেয়ে রামু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল সহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত হামিদা খানম, আজিজুল হক ও আমিনুল হক ছোটনকে উদ্ধার করে রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায় এবং ঘটনাস্থলে উত্তেজনা নিরসন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এজাহার দায়েরকারি আমিনুল হক ছোটন জানান, হামলাকারিরা এলাকার চিহ্নিত ভূমিসদস্যু, ইয়াবা ব্যবসায়ি ও বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িত। তার পিতা মাস্টার আনোয়ারুল হক বাদি হয়ে রাহামত আলী গং এর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ সহকারি জজ আদালতে ২৬১/১০ মামলা দায়ের করেন। যা এখনো বিচারাধিন রয়েছে। এ মামলা দায়ের করার পর থেকে হামলাকারিরা তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিলো।
রামু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন এ ঘটনায় আহত আমিনুল হক ছোটন লিখিত এজাহার দিয়েছেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ঘটনাটি ঘটেছে। তাই উভয় পক্ষকে নিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মিমাংসার চেষ্টা করা হবে। মিমাংসা না হলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •