যৌতুক!

প্রকাশ: ১৮ জুন, ২০২০ ০৩:৩৯ , আপডেট: ১৮ জুন, ২০২০ ০৩:৪০

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


  • ওমর ফারুক 

শব্দটা অনেক ছোট কিন্তু এই শব্দ যখন মানুষ ব্যবহার করে।তখন বুঝা যায়। যৌতুকের কারণে আজ হাজার হাজার দরিদ্র বাবার মেয়ের বিয়ে হচ্ছে না। আবার অনেক মেয়ের বিয়ে হলেও যৌতুকের দাবির কারণে বিয়ে উচ্ছেদ হচ্ছে আবার কোন কোন মেয়ে হচ্ছে হাজারো নির্যাতনের শিকার। জীবন যাচ্ছে হাজার হাজার মেয়ের।

কিছু কিছু অবৈধ কালো টাকার মালিক আছে যারা তাদের মেয়ের জন্য টাকা দিয়ে বর কিনে নেই। গাড়ি, বাড়ি,টাকা সব কিছুই দেয়। আসলে তারাই তো দেশটাকে শেষ করে দিছে। তারা যদি আজ যৌতুক না দিয়ে তাদের মেয়েদের বিয়ে দিত? তাহলে আজ ৬ কোটি মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে থাকা দেশে কি ভাবে কেও যৌতুক দাবি করত?

আমি মনে করি যারা যৌতুক নিয়ে বিয়ে করে তারা নামে এবং শারীরিক পুরুষ হতে পারে। কিন্তু তারা আসলে পুরুষ না, তারা ৪র্থ লিংগের মানুষ।
আসলে ছেলেদের বুঝা উচিত একটা বাবা তার মেয়েকে কি ভাবে লালন-পালন করে? ছোট কাল থেকে শুরু করে তাদের জন্য কত কষ্ট না করতে হয় বাবাকে। আবার কোন কোন বাবার চার পাঁচটা মেয়েও আছে তাদের কি অবস্থা হবে একটা বার চিন্তা করেন? আমার চোখে এমন ও ঘটনা দেখেছি তিন চারটা সন্তান হওয়ার পর ও বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। আমরা কি একটা বার চিন্তা করেছি বিয়ে বিচ্ছেদ হওয়ার পরে ঐ নারীটা কেমন আছে? কি ভাবে আছে? এই মেয়ে গুলো হয়ে যায় এক একটা পতিতা। আবার কেও হয়ে যায় কারো বাড়ির চাকর । তারাও তো মানুষ। আমরা যদি লক্ষ লক্ষ টাকা দিয়ে বর কিনে না নিতাম মেয়ের জন্য আর কেও ছেলের পরিবার যৌতুক দেওয়ার সাহস দেখাতে পারত না।পারত না তারা তাদের জীবনকে মেয়ের কাছে বিক্রি করে দিতে।হতো না হাজারো মেয়ের জীবন নষ্ট। আমাদের চার পাশে এমন হাজার হাজার বিয়ে হচ্ছে যেগুলো যৌতুক দিয়ে হচ্ছে কিন্তু আমরা সবাই দেখেও না দেখার মতো করে আছি কারণ আমরা ভয় পায়। আমাদের সবাইকে এই যৌতুক নামক বিষকে পৃথিবী থেকে বিদায় দিতে হবে।

আমাদের প্রাণ প্রিয় ধর্ম ইসলাম থেকে শুরু কোন ধর্মে কি আছে বিয়ের সময় কনের বাড়ি থেকে বাড়ির সব ব্যবহারের জিনিসপত্র নিতে? শুধু বিয়ের সময় না।বিয়ের পরে নাকি আবার বরকে তার পশুর বাড়ি থেকে জামা কাপড় কিনে দিতে হবে। আর রমজানের সময় রমজানের বাজার থেকে শুরু করে ঈদের জামা কাপড় ও নাকি কিনে দিতে হয়। আবার দুই মাস পর যখন ঈদুল আযাহা আসবে তখন কনের বাড়ি থেকে কুরবানি পশু কখন পাটাবে তার অপেক্ষায় বসে থাকে। আমার ধর্ম নিয়ে এতো বেশি জ্ঞান নাই তার পরও বলতেছি।

আশা করি এই রকম কাজ বিষয়কে কোন ধর্মে জায়গা দিবে না।কারণ এটা মানুষকে বিশেষ করে মেয়ের পরিবারকে অনেক বেশি কষ্ট দেয়।

আমরা পুরুষ জাতিরা এমন কেন? কেন আমরা এতো কিছুর লোভ করি? আমরা কি নিজে অর্থ উপার্জন করে গাড়ি,বাড়ি, নিজের বাড়ি নিজে সাজাতে পারি না? কেন অন্যের অর্থের লোভ করি?আমরা কি একসাথে চাইলে এই দুনিয়া ততা বাংলাদেশ থেকে এই যৌতুক নামক অভিশাপটাকে বের করে দিতে পারি না? এটা চাইলে আমরা পুরুষটা বের করে দিতে পারি।কারণ এগুলা আমরাই নিয়ে থাকি। আর আমরা যদি না নিই তাহলে এটা পৃথিবী থেকে চিরতরে চলে যাবে। আমাদের বাংলাদেশ হবে সোনার দেশ।

বি:দ্র: এটা কারো একার জন্য না কাউকে ছোট করার জন্য এই কথা গুলো দেওয়া হয় নাই। সবাই ভাল চোখে দেখবেন আশা করি। কোন কিছু যদি ভুল হয় ক্ষমার চোখে দেখবেন।

লেখক:ওমর ফারুক, একাদশ শ্রেণি, মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল কলেজ,টেকনাফ,কক্সবাজার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •