এ কে এম ইকবাল ফারুক, চকরিয়া :

মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ভারী বর্ষণের ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি মাতামুহুরীতে হুঁ হুঁ করে বাড়ছে। ভারী বর্ষন ও ঢলের পানিতে চকরিয়া পৌর এলাকাসহ উপজেলার সিংগভাগ ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়ে শত শত লোক পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে খুটাখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মুহুরী ছড়াখালের বাঁধ ও ডুলাহাজারা পাগলীরবিলের বেড়িবাধ ভেঙ্গে যাওয়ায় বিভিন্ন গ্রামে ঢলের পানি ঢুকে পড়ছে। এছাড়া চকরিয়া পৌর এলাকায় উন্নয়ন কাজের ধীরগতি ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের যথাযথ ব্যবস্থা না থাকায় ওয়ার্ড গুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। মাতামুহুরী নদীতে পাহাড়ী ঢলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়েছে পৌরশহর রক্ষাবাধটি। যে কোন মূহুর্তে বাধটি ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

বুধবার (১৭ জুন) বিকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গত মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে ভারী বর্ষণের ফলে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি ও বৃষ্টির পানিতে চকরিয়া পৌর এলাকাসহ উপজেলার সিংগভাগ ইউনিয়নের নিন্মাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গিয়ে শত শত লোক পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। এসব ইউনিয়নে রাস্তাঘাট ও আভ্যন্তরিণ সড়কগুলো বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। খুটাখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মুহুরী খালের বাঁধ ভেঙ্গে অন্তত অর্ধ-শতাধিক ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। খুটাখালী বাজারে হাটু পরিমান পানি থাকায় বন্ধ রয়েছে দোকানপাট। বিএমচর ও পূর্ববড়ভেওলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানি জমে থাকায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছে শত শত মানুষ। অপরদিকে সাহারবিল ইউনিয়নের চোয়ারফাড়ি স্লইচ গেট, ঢেমুশিয়ার স্লইচ ও কোনাখালীর স্লইচ গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ ঘটনাস্থলে গিয়ে এসব স্লইস গেইটগুলো খুলে দেন। ফলে বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ায় স্বস্থি ফিরে এসেছে এলাকাবাসীর মধ্যে।

খুটাখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বাহাদুর আলম বলেন, দু’দিনের বৃষ্টির পানিতে খুটাখালীর বাজারে হাটু পরিমান পানি জমে রয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার-দোহাজারী রেললাইনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন না হওয়ায় দ্রুত পানি চলাচল করতে পারছে না। ফলে মুহুরী খালের বাঁধটি ভেঙ্গে গেছে। এতে বিভিন্ন ওয়ার্ডের একাধিক এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।

এছাড়াও চকরিয়া পৌরসভার শহর রক্ষা বাঁধটি ঝুকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। বাঁধের বিভিন্ন জায়গায় মাটি সরে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে যে কোন মুহুর্তে শহর রক্ষাবাধটি ভেঙ্গে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

এখনো বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় চকরিয়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড়ের আভ্যন্তরীণ সড়ক গুলো পানির নিচে ডুবে রয়েছে। বিশেষ করে ২নং ওয়ার্ডের হালকাকারা, মৌলভীরচর ও ৮নং ওয়ার্ডের নামার চিরিঙ্গা ও কোচপাড়াসহ একাধিক এলাকার রাস্তাঘাট ও সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ওইসব এলাকার মানুষগুলো চলাচল করতে না পারায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন।

করোনা ইস্যুকে কেন্দ্র করে চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সরিয়ে নেয়া অস্থায়ী কাচাবাজারও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চিরিঙ্গা পুরাতন বাসষ্টেশন জামে মসজিদের ভেতরে পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে মুসল্লিরা ঠিকমতো নামাজ আদায় করছে পারছেনা। কয়েকজন মুসল্লি আক্ষেপ করে বলেন, বর্ষার শুরুর আগে পৌরশহরের বড়বড় ড্রেনগুলো সংস্কার ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ওয়ালিদ মিল্টন বলেন, চকরিয়া পৌরসভার ড্রেনেজ ব্যবস্থা খুবই নাজুক। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে পরিকল্পিতভাবে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ঠিক না করা ও সংস্কারকৃত ড্রেনের কাজ ঠিকাদার যথাসময়ে সম্পন্ন না করায় দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসীকে।

চকরিয়া পৌরসভার সচিব মাসউদ মোরশেদ বলেন, পৌর এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নের কাজ চলছে। করোনার কারণে এ কাজের কিছুটা ধীরগতি হয়েছিল। তবে বর্তমানে আবারো কাজ শুরু হয়েছে। হঠাৎ করে টানা ভারী বর্ষণ শুরু হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে পৌরবাসীর কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে অচিরেই এ সমস্যা কেটে যাবে বলে জানান তিনি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •