প্রেস বিজ্ঞপ্তি : 

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থ আত্মসাতের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার বাদী হয়ে ট্রাস্টি সেক্রেটারি লরেল মুজিবসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অনুসন্ধানে ট্রাস্টি বোর্ডের অপরাপার সদস্য যারা লরেল মুজিবের স্ত্রী ও আত্মীয় তাদের আরো ব্যপক অনিয়ম, দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) হতে সকলের অগোচরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এমনকি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপিকে না জানিয়ে ভূয়া রেজুলেশন তৈরি করে এক কোটি চুরানব্বই লক্ষ পঁচাশি হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করে সেই টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টে জমা না দিয়ে আত্মসাত করার প্রমাণ পায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই আত্মসাতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ বাদী হয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশ থানায় গত ১২ জুন ২০২০ ইং তারিখে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ০৮/১৪৮। মামলার বিবরণ ও অনুসন্ধানে জানা যায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০ অনুযায়ী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সরকারী অনুমোদনের পূর্ব শর্ত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে কোন তফসিলি ব্যাংকে দেড়কোটি টাকার স্থায়ী আমানত থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে এই দেড় কোটি টাকার স্থায়ী আমানত (এফডিআর) রাখা হয়েছিলো এবং সেই স্থায়ী আমানতের ইন্সট্রুমেন্ট প্রস্তাবিত বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সেক্রেটারি লরেল মুজিবের কাছে গচ্ছিত ছিলো। পরবর্তীতে মহামান্য রাস্ট্রপতি কর্তৃৃক বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে প্রফেসর আব্দুল হামিদ নিযুক্ত হলে তিনি এফডিআরের মূলকপি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট হস্তান্তরের জন্য বারবার তাগাদা দেন। কিন্তু লরেল মুজিব আজ কাল করে সময় ক্ষেপন করতে থাকে। অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন মূলকপি প্রদর্শনের জন্য চিঠি প্রদান করে। তখন ট্রেজারার প্রফেসর আবদুল হামিদ ট্রাস্টি সেক্রেটারি লরেল মুজিবকে এফডিআরের মূলকপি জমা দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে তারা বিভিন্নভাবে ট্রেজারারকে অসহযোগিতা শুরু করে। পরবর্তীতে তাদের নামে প্রায় তিন কোটি টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা দায়ের করলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মসাতকৃত অর্থ নিয়ে পলাতক হয়ে যায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্থিতিশীল রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের চিঠির জবাব দিতে ট্রেজারার রূপালী ব্যাংক নিউ মার্কেট শাখা চট্টগ্রামে লিখিতভাবে যোগাযোগ করেন। তার এই পত্র যোগাযোগের প্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানতে পারে যে, ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রটারি অপর আট ট্রাস্টি সদস্য যারা সেক্রেটারির নিকট আত্মীয় যথাক্রমে মাহবু্বা সুলতানা (স্ত্রী), আব্দুস সবুর (বড় ভাই) এস এম সাইফুর রহমান (শ্যালক), মোহাম্মদ মহসিন (স্ত্রীর বড়ো বোনের স্বামী), সালেহা সুলতানা (স্ত্রীর বড় বোন) এএইচএম হামিদুল্লাহ মেহেদী (ভাতিজা), অলিদ মাহমুদ (ভাতিজা) ও আব্দুল মাবুদ( ভাই) মিলে ট্রাস্টি বোর্ডের রেজুলেশন প্রস্তুত করে ০২-০৫-২০১৯ ইং তারিখ সকাল বেলা দুইকোটি ষোল লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকার এফডিআর স্থানান্তর করে ওই দিনেই এক কোটি চুরানব্বই লাখ পঁচাশি হাজার টাকা ঋণ উত্তোলন করা হয়। ব্যাংকের বরাতে জানা যায়, ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতির সম্পূর্ণ অগোচরে এই কাজটি করা হয় ট্রাস্টি সেক্রেটারি লরেল মুজিবের স্বাক্ষরে। এবং তাকে সহযোগীতা করে তার আত্মীয় অপর আট ট্রাস্টি সদস্য। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঋণ হিসেবে উত্তোলিত প্রায় দুইকোটি টাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোন একাউন্টে জমা হওয়ার কোন প্রমাণ না পাওয়ায় তারা এই জালিয়াতি ও এফডিআরের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি জানতে পারে। এফডিআরের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি জানার পর ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি বিভিন্ন ওয়াকিবহাল মহলের পরামর্শ মতে বাদী হয়ে লরেল মুজিব ও তার আট আত্মীয়র বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় মামলাটি দায়ের করেন বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন। মামলার অপর আসামিগণ হলেন, ট্রাস্টি বোর্ডের উল্লিখিত আট সদস্য। এ বিষয়ে ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতির বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী আমানতের অর্থ আত্মসাতের খবর জানার পরপরই আমি পাঁচলাইশ থানায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করি। এছাড়া প্রথম মামলা দায়েরের পর লরেল মুজিব আত্মগোপনে থেকে অর্থ আত্মসাতকারী বাকি আট সদস্যদের নিয়ে একটি বিবৃতি প্রদান করেছে। যা স্থানীয় কিছুৃ অনলাইন নিউজ পোর্টালে এবং দৈনিক কক্সবাজার পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে আমাকে জড়িয়ে নানা মিথ্যা তথ্য ও মানহানিকর অভিযোগ করা হয়েছে। যেগুলোর জবাব দিতে আমার রুচিতে বাঁধছে। তবু কিছু কথা বলতেই হয়, নাহলে জনগণ আমাকে ভুল বুঝতে পারেন। বলা হয়েছে, আমি নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের জন্য মিডিয়া হিসেবে কাজ করছি এবং এর জন্য আমাকে অর্থ পরিশোধ করেছে। কতোবড়ো জালিয়াত হলে পরে, এ ধরণের অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারী ও প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে করা যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা কক্সবাজারে উখিয়ার বিশাল জনসভায় প্রকাশ্য ঘোষণায় তিনি আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিতে বলেন। তার পূর্বেই আমি লিখিতভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অনুমোদনের জন্য একটি আবেদন জমা দিযেছিলাম। কক্সবাজারবাসীর দাবী ও আমার আবেদনের প্রেক্ষিতেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ওই ঘোষণাটি দিয়েছিলেন। লরেল মুজিব তার বিবৃতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই অবদানকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে চরম বেয়াদবি করেছে বলে আমি মনে করি। শুধু তাই নয় আমাকে অর্থ পরিশোধ করেছে বলে যে মিথ্যাচার করেছে তার বিচারের ভার আমি জনগণের উপর ছেড়ে দিলাম।

আমি সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপি সুখে দুঃখে কক্সবাজারবাসীর সাথে আমার জীবনের সবটুকু সময় অতিবাহিত করেছি। আমি সততার সাথে ব্যবসা করে জাতীয় রপ্তানি শিল্পে অবদান রাখার জন্য তিন তিনবার রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেযেছি এবং এগারো বছর সিআইপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। যেই আমি কক্সবাজারের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, মসজিদ প্রতিষ্ঠাসহ এসব প্রতিষ্ঠানে গোপনে প্রকাশ্যে নানা অনুদান দিয়ে আসছি, বিপদে আপদে কক্সবাজারের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি, আমি চকরিয়া কলেজের গর্ভনিং বডির দশ বছর সভাপতির দাযিত্ব পালন করেছি, আমি চকরিয়া কলেজকে সরকারিকরণের আবেদন করি এবং আমার আবেদনের প্রেক্ষিতেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চকরিয়া কলেজকে সরকারি করেছেন সেই আমাকে লরেল মুজিব টাকা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য এটাও কি জনগণকে বিশ্বাস করতে হবে? যেখানে আজকে লরেল মুজিবের অর্থ আত্মসাতের নানা কাহিনী বেরিয়ে আসছে। কক্সবাজার এবং চট্টগ্রামের বহুলোকের কাছ থেকে বিভিন্ন বাহানায় কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এই লরেল মুজিব। পরবর্তীতে সেই টাকা আদায়ের জন্য পাওনাদাররা চাপ প্রয়োগ করলে লরেল মুজিব তাদের চেক প্রদান করে। সেই চেকও ব্যাংক থেকে ডিজঅনার হলে চট্টগ্রামের কোর্টে যার নামে কয়েক কোটি টাকার মামলা চালু রয়েছে। এমন একজন ঠগবাজ ব্যক্তির নিকট থেকে আমার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আসা একটা হাস্যকর বিষয়। আমি ব্যবসার কাজে ব্যাস্ত থাকায় এরূপ একজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাচিবিক কাজসহ মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ রক্ষার দায়িত্ব দিযেছিলাম যা ছিলো আমার চরম ভুল কারণ আমি আগে তার এই ঠগবাজি ও জোচ্চুরি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। এখন যখন অবগত হয়েছি তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের শিক্ষামন্ত্রণালয়ে অবগত করেছি। তারা উপযুক্ত ব্যবস্থা নিবেন মর্মে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন। এছাড়া লরেল মুজিব বিভিন্ন মাধ্যমে বারবার বলছে যে, ইউনিভার্সিটির সমস্ত ইনভেস্টমেন্ট তার ও তার পরিবারের। আমি বলতে চাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কি ইনভেস্টের জায়গা নাকি দানের জায়গা? লরেল মুজিব কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে এক পয়সাও দান বা ইসভেস্ট করেনি। বরং আমার দেয়া ২৫ লক্ষ টাকা দিয়ে এই ইউনিভার্সির পথচলা শুরু হয়। পরবর্তিতে এক্সিম ব্যাংক থেকে এককোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজে লাগানো হয়। যেই ঋণটি আমার একক প্রচেষ্টায় ব্যাংক মঞ্জুর করেছিলো। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করার মতো অর্থ তার বা তার পরিবারের কি রয়েছে? যদি থেকে থাকে তাহলে তার উপযুক্ত প্রমানাদি সে উপস্থাপন করুক। তার সলভেন্সি রিপোর্ট, ইনকাম ট্যাক্স রিপোর্ট উন্মুক্ত করে সে প্রমাণ করুক কতো টাকা লরেল মুজিব বা তার পরিবারের লোকজন কবে কোথায় ইনভেস্ট করেছে? আমি এনবিআরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহকে অনুরোধ করছি মুজিব ও তার আত্মীয়দের সম্পত্তির হিসাব এবং আয়ের উৎস নিয়ে খোঁজ খবর করে জনসম্মুখে প্রকাশ করার জন্য। লরেল মুজিব তার দুর্নীতির এই অপকর্ম ধামাচাপা দেয়ার জন্য বিষয়টিকে রাজনৈতিক হয়রানি বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে। প্রকৃতপক্ষে এটা কোন রাজনৈতিক বিষয় নয় বরং এটা অর্থ আত্মসাতকারী দুর্নীতিবাজ একটি পরিবারের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একটি শুদ্ধি অভিযান।

[বি: দ্র: পুরো সংবাদটি বাদী পক্ষের পাঠানো । কোন প্রকার সংশোধন ছাড়া প্রকাশ করা হল । এতে সিবিএন’র কোন বক্তব্য নেই । – সিবিএন]

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •