মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে স্যাম্পল জট কমে আসছে। বুধবার ১৭ জুন পর্যন্ত গত ১২ জুন ল্যাবে জমা হওয়া স্যাম্পল টেস্ট করা সম্পন্ন হয়েছে। স্যাম্পল টেস্টের কিট সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আগামী রোববার ২১ জুনের মধ্যে স্যাম্পল জট প্রায় শেষ হয়ে যাবে। সোমবার ২২ জুন থেকে ল্যাবে যেসব স্যাম্পল টেস্টের জন্য জমা করা হবে, সেগুলোর টেস্ট রিপোর্ট পরবর্তী ৭২ ঘন্টার মধ্যে সরবরাহ করা যাবে ইনশাআল্লাহ।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা সিবিএন-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উক্ত কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজারে করোনা সংক্রমণের আধিক্যের কথা মাথায় রেখে পিসিআর ল্যাবের প্রতিটি দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারী সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে প্রচুর সময় দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। যেজন্য ভয়াবহ স্যাম্পল জট এখন স্বাভাবিক হয়ে আসছে। প্রতিদিন কমপক্ষে ৫ শ’ স্যাম্পল টেস্টের টার্গেট নিয়ে ল্যাবে কাজ করা হচ্ছে। চাহিদা মতো কিট ও অন্যান্য ল্যাব সামগ্রী সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে এবং পিসিআর মেশিনে কোন কারিগরি সমস্যা না হলে এই টার্গেট পূর্ণ করা যাবে। তিনি আরো বলেন, করোনা যুদ্ধের ফ্রন্ট লাইনের অকুতোভয় সেনানীরা মানবিক সেবা দিতে গিয়ে ল্যাবের অনেকেই করোনা ‘পজেটিভ’ হয়ে এখন আইসোলেশনে আছেন।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে গত ২ এপ্রিল থেকে একটি পিসিআর মেশিন ও গত ৩০ জুন থেকে যুক্ত হওয়া অপর একটি মেশিন সহ মোট ২ টি পিসিআর মেশিন দিয়ে স্যাম্পল টেস্ট করে করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হচ্ছে। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে মোট অর্ধ্ব কোটি জনসাধারণ অধ্যুষিত এলাকার স্যাম্পল টেস্ট করা হয়। তারমধ্যে, কক্সবাজার জেলার প্রায় ২৩ লক্ষ নাগরিক, বান্দরবান জেলার প্রায় ৮ লক্ষ নাগরিক, রোহিঙ্গা শরনার্থী প্রায় সাড়ে ১১ লক্ষ এবং চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলার সাড়ে ৭ লক্ষ নাগরিক কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবের অন্তর্ভুক্ত। চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাব স্যাম্পল টেস্টের সংখ্যার দিক দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে গত ১৬ জুন পর্যন্ত ১২৪৫৫ জনের স্যাম্পল টেস্ট করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •