সুরা আসরের এ মর্মার্থ থেকে বোঝা যায় যে, মানুষ ভুল করে। এ ভুল শুধু ঈমানহীন ব্যক্তিরাই করে এমন নয়, বরং ঈমানদার লোকেরাও করে থাকে। তবে ঈমানদার ব্যক্তি ভুল করার বিষয়টি বুঝতে পারলেই সঙ্গে সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে।

আবার ঈমানদার বান্দারা যাতে ইবাদত-বন্দেগিতে ভুলের খেসারত দেয়া থেকে বিরত থাকতে পারে, সে কারণেই প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদিসে ঈমানদার বান্দার জন্য সহজ আমল তুলে ধরেছেন। হাদিসে এসেছে-

হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি সকাল-বিকাল সুরা রূমের (১৭-১৯) তিনটি আয়াত তেলাওয়াত করবে, ওই ব্যক্তির সারাদিন ও সারারাতের সব আমলের (জানা-অজানা) ভুল-ভ্রান্তিসমূহ এ (তিন আয়াত) তেলাওয়াতের বরকতে দূর করে দেয়া হবে।’ (আবু দাউদ, তাবারানি)

আমলের ভুল থেকে মুক্ত থাকতে পড়তে হবে-
فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ – وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ – يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَيُخْرِجُ الْمَيِّتَ مِنَ الْحَيِّ وَيُحْيِي الْأَرْضَ بَعْدَ مَوْتِهَا وَكَذَلِكَ تُخْرَجُونَ
উচ্চারণ : ফাসুবহানাল্লাহি হিনা তুমসুনা ওয়া হিনা তুসবিহুন। ওয়া লাহুল হামদু ফিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়া আশিয়্যাওঁ ওয়া হিনা তুজহিরূন। ইয়ুখরিঝুল হাইয়্যা মিনাল মায়্যিতি ওয়া ইয়ুখরিঝুল মায়্যিতা মিনাল হাইয়্যি ওয়া ইয়ুহয়িল আরদা বাদা মাওতিহা ওয়া কাজালিকা তুখরাঝুন।’ (সুরা রূম : আয়াত ১৭-১৯)
অর্থ : অতএব, তোমরা আল্লাহর পবিত্রতা স্মরণ কর সন্ধ্যায় ও সকালে, এবং বিকালে এবং দুপুরে। নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলে, তাঁরই প্রসংসা। তিনি মৃত থেকে জীবিতকে বের করেন, জীবিত থেকে মৃতকে বের করেন এবং ভূমির মৃত্যুর পর তাকে পুনঃজীবন দান করেন। এভাবে তোমরাও উঠে আসবে।’

ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত মুমিন মুসলমানের জন্য সুরা রূমের উল্লেখিত তিনটি আয়াতই গুরুত্বপূর্ণ। এ তিন আয়াতের নিয়মিত আমলে মুমিন বান্দা যাবতীয় ভুল-ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকবে ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুরা রূমের এ তিন আয়াত নিয়মিত তেলাওয়াত করার মাধ্যমে সারাদিন ও সারারাতের আমলের সব ত্রুটি থেকে মুক্ত থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •