রাজনীতির সময়কাল ১৯৮৩ থেকে ৯১ সাল। স্থান-কক্সবাজার।

স্কুলে ছাত্র অবস্থায় রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ি। ১ জানুয়ারী ৭৯ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল গঠিত হয়। ৮১ সালে ছাত্রদলে যোগদান করি। তখন আমাদের নেতা ছিল কালিরছড়ার দিদার ভাই, মরহুম আমির মোঃ চৌধুরী বাচ্চু, ইকবাল বদরী প্রমুখ। রাজনীতিতে বেশী সক্রিয় হয় সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে। বৈরী পরিবেশে ছাত্র আন্দোলনের নেশায় আলাদা। ৮৩ সালের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ কর্কৃক ছাত্র হত্যার কারণে তৎকালীন সামরিক সরকার এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। বিএনপির নেতৃত্বে ৭ দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪দল, জামায়েতে ইসলামী বাংলাদেশ যুগপৎ আন্দোলন শুরু করে। কক্সবাজারে বিএনপি ছাড়া ৭দলে অন্যদলের অস্তিত্ব ছিল না। ১৪ দলে আওয়ামী লীগ , বাকশাল, জাসদ ন্যাপ (মো) কমিউনিস্ট পার্টি সক্রিয় ছিল। ছাত্রদল, ছাত্রলীগ, জাতীয় ছাত্রলীগ (বাকশাল) ছাত্র ইউনিয়ন ছাত্রসমিতি (ন্যাপ) আন্দোলনে সক্রিয় ছিল। সে সময়কালে কক্সবাজারে জাতীয় ছাত্রলীগ এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংগঠন শক্তিশালী ছিল। ১৪ দলের ছাত্র সংগঠন গুলো একসাথে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে আন্দোলন পরিচালনা করতো।এলাকা এবং শিক্ষা প্রতিস্টানের আধিপত্য নিয়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ও ছাত্র শিবির প্রায় সংঘর্ষে জড়াত। বিএনপি এবং ১৪দল কখনো এক সাথে কখনো আলাদা কর্মসুচী পালন করলেও ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ , ছাত্রদল এক সাথে সভা সমাবেশ মিছিল করতো। সামরিক সরকার বিরোধী গণতন্ত্রের আন্দোলনে বিএনপির নেতৃত্বে ছিলেন চকরিয়ার মরহুম জনাব মাহমুদুল করিম চৌধুরী, মরহুম জনাব একরামুল হুদা চৌধুরী মরহুম জনাব আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী, জনাব গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ । আওয়ামী লীগে মরহুম জনাব এ কে এম মোজাম্মেল হক, মরহুম জনাব এডভোকেট জহিরুল ইসলাম চৌধুরী, জনাব নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বাকশালের মরহুম জনাব মো: ইসহাক বি এ, মরহুম জনাব গোলাম রব্বান। ন্যাপ (ম) মরহুম জনাব ইদ্রিস, জাসদে ফরিদ ভাই জনাব জসিম ভাই কমুনিস্ট পার্টির বাবুল শর্মা।
ছাত্রনেতাদের মধ্য উল্লেখ্যযোগ্য জাতীয় ছাত্রলীগ জনাব রেজাউল করিম, মহেশখালীর জনাব ফরিদুল ইসলাম , জনাব ইয়াসিন মোহাম্মদ সামশুল হুদা , আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগের বর্তমান পিপি জনাব ফরিদুল ইসলাম, জনাব কামালউদ্দীন রহমান পেয়ারু।
ছাত্র সমিতির জার্মান প্রবাসী জনাব শামীম জাসদ ছাত্র লীগে মাস্টার নুরুল ইসলাম , জনাব মোঃ আলী জিন্নাত, জনাব মাসু জাতীয়তাদী ছাত্রদলের লুৎফর রহমান কাজল, এড আবদুল্লাহ , মোহাম্মদ সেলিম এড কাইয়ুম , অধ্যাপক আকতার চৌধুরী , প্রমুখ। ছোট শহর কক্সবাজার।
রাজনৈতিক দল ভিন্ন হলেও সকলের মাঝে আন্তরিকতা ছিল এক পরিবারের মত। তৎকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের জেলা সভাপতি ছিলেন জনাব মোজাম্মেল সাহেব। সাহসী এবং কর্মী বান্ধব নেতা ছিলেন । জনাব হক সাহেবের বাসাতে কর্মীদের অবাধ যাতায়ত ছিল। রান্না ঘরও সবার জন্য উম্মুক্ত ছিল। খাওয়া দাওয়া আপ্যায়নে তিনি এবং চাচী কৃপনতা করতেন না। বিএনপির সভাপতি ছিলেন জনাব একরামুল হুদা চৌধুরী। সততা এবং নীতিবান মানুষ হিসাবে সবাই সমীহ করতো। তাঁরা উভয়ে সহপাঠী ছিলেন। উভয়ে কক্সবাজার পৌর নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতেন। আমার মরহুম পিতাও তাঁহাদের সহপাঠী ছিল। দুজনেই আমাকে পুত্রসম স্নেহ করতেন। স্মৃতি আনন্দ বেদনা নিয়ে জীবন প্রবাহমান। এক সময় দাপটের সাথে নেতৃত্বের আসনে ছিল। আজ অতীতের ইতিহাস।
হে মহান আল্লাহ, তোমার কাছে চলে যাওয়া আমাদের অগ্রজ নেতাদের জান্নাতবাসী করুন। আমিন।

লুৎফুর রহমান কাজল
জুন ১৪, ২০২০
নিরিবিলি, কক্সবাজার ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •