মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে কক্সবাজারস্থ বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) থেকে ১১ জুন নিয়ে যাওয়া পিসিআর (পলিমারি চেইন রি-এ্যাকশন) মেশিন দিয়ে কোভিড-১৯ ভাইরাস টেস্ট করা যাবেনা। এই পিসিআর মেশিনটি করোনা ভাইরাস এর জীবাণু টেস্টের জন্য নয়, মাছ, মাৎস্য ও সামুদ্রিক প্রাণীর ভাইরাস টেস্টের জন্য তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে চালু থাকা অপর ২টি পিসিআর মেশিনে যে কিট দিয়ে করোনা ভাইরাস এর জীবাণু টেস্ট করা হচ্ছে, সে কিট দিয়ে বিএফআরআই থেকে নিয়ে যাওয়া পিপিআর মেশিনে কোভিড-১৯ জীবাণু সনাক্ত করা যাবেনা।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের নির্ভরযোগ্য সুত্র সিবিএন-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সুত্রমতে, গত ২ দিন ১২ ও ১৩ জুন আইইডিসিআর এর মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ইঞ্জিনিয়ারদের একটি টিম কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে এসে বিএফআরআই থেকে আনা তৃতীয় পিসিআর মেশিনটি সরেজমিনে পরীক্ষা করে দেখেছেন। তারা জানিয়েছেন, এ মেশিনটি দিয়ে কোন অবস্থাতেই কোভিড-১৯ ভাইরাস জীবাণু সনাক্ত করা সম্ভব নয়। এই পিসিআর মেশিনটি নতুন প্রযুক্তির মেশিন নয়। বর্তমানে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে চালু থাকা অপর ২টি পিসিআর মেশিন আধুনিক প্রযুক্তির মেশিন।

প্রসঙ্গত, কক্সবাজারস্থ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে আগে থেকেই একটি পিসিআর মেশিন ছিলো। সেই পিসিআর মেশিনটি করোনা ভাইরাসের স্যাম্পল টেস্ট করতে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পত্র দেন। জেলা প্রশাসকের প্রেরিত পত্রের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব একই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে পিসিআর মেশিনটি কক্সবাজার মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়ার জন্য মন্ত্রীর কাছ থেকে এ বিষয় অনুমোদন নেন। গত ১১ জুন কক্সবাজার মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পিসিআর মেশিনটি কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছিলো।

এখন সেখানে চালু থাকা ২টি পিসিআর মেশিনে প্রতিদিন ৪৭৭টি (কমবেশি) স্যাম্পল টেস্ট করা হয়। গত ১২ জুুন পর্যন্ত কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবের ২টি পিসিআর মেশিনে ১০২৬৭ টি স্যাম্পল টেস্ট করা হয়। যা চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যা। তারমধ্য ১৫৬৫ জনের স্যাম্পল টেস্ট রিপোর্ট ‘পজেটিভ’ পাওয়া যায়। এরমধ্যে, কক্সবাজার জেলায় সনাক্ত হওয়া করোনা রোগীর সংখ্যা ১৩৪৩ জন। বাকী গুলো বান্দরবান জেলার ও চট্টগ্রামের লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •