সমুদ্রের লোনাজল আর মাটির সোদা গন্ধের পরিবেশে বেড়ে উঠা সন্তান মো. নজিবুল ইসলাম। বিশ্বমারী করোনা প্রকোপের কারণে কক্সবাজারে লকডাউন ঘোষণার পর থেকে নিজের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে রেখে ঘুরছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। অসহায় মানুষদের খোঁজ-খবর নিতে চষে বেড়াচ্ছেন কক্সবাজার শহরের অলিগলি। অহোরাত্রি নিবেদিত মানুষের সেবায়।

কক্সবাজারে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, রাজনীতিবিদ ও সংবাদপত্র জগতের দিকপাল মো. নুরুল ইসলামের পুত্র নজিবুল ইসলাম শুধু মানুষের খোঁজ-খবর নিয়ে কান্ত থাকেননি; লকডাউনের কারণে নিরন্ন ও দুর্ভোগে থাকা মানুষের সহায়তায় প্রসস্থ করেছেন উদার হস্ত।
নজিবুল ইসলাম কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি। এছাড়া সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ শ্রীম্প হ্যাচারী এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (সেব) মহাসচিব সহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবীূ সংগঠনের দায়িত্বও পালন করে চলছেন।

করোনাকালের প্রথমদিক থেকে নজিবুল ইসলাম কক্সবাজারে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছেন মাঠে ময়দানে। এর স্বীকৃতি স্বরূপ দায়িত্ব পেয়েছেন জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটি এবং লকডাউন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্যের।

তিনি ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিকভাবে করোনা প্রকোপের প্রথম থেকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বিতরণ করেছেন মানুষের মাঝে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মিদের পিপিই সহ সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করেছেন বেশকিছু। করোনা আক্রান্তদের আইসোলেশন সেন্টারগুলোতে অক্সিজেনের সংকট কাটাতে নিজে উদ্যোগী হয়ে সেব’র মাধ্যমে বিতরণ করেছেন ৫০ টি পূর্ণাঙ্গ অক্সিজেন সিলিন্ডার বিতরণ করেছেন। এছাড়াও নিজ তহবিল থেকে কক্সবাজার পৌর এলাকার ৬ হাজার পরিবারের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন খাদ্য সামগ্রী।

অদম্য তরুণ এ রাজনীতিক করোনার এ মহামারীকালে নিজেকে সপে দিয়েছেন মানুষের সেবায়। করোনার সংক্রমণ থেকে মানুষকে রক্ষায় লকডাউন বাস্তবায়নে কক্সবাজার পৌর এলাকার ১২ টি ওয়ার্ডে গড়ে তুলেছেন স্বেচ্ছাসেবকদের ৩৬ টি সুশৃংখল টিম। যাদের তৎপরতায় কক্সবাজারের রেড জোন ঘোষিত লকডাউন করা এলাকাগুলোতে মানুষ সুফল পেতে শুরু কছে। লকডাউন আজ অনেকটা কার্যকরে পরিনত হয়েছে।

লকডাউনের কার্যকারিতা ও সুফলের ধারা অক্ষুণ রাখতে মো. নজিবুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের নিজের আইডিতে কক্সবাজার পৌরবাসীর প্রতি আবেগঘন একটি খোলা চিঠি লিখেছেন। এতে করোনা মহামারীর সংক্রমণ ঠেকাতে তিনি মানুষকে সচেতনতা অবলম্বনের পাশাপাশি কষ্ট করে হলেও আরো কিছুদিন ঘরে অবস্থান করার অনুরোধ জানিয়েছেন। পৌরবাসীর উদ্দ্যেশে লেখা তার খোলা চিঠিটি নিচে হুবহু তুলে ধরা হল:


প্রিয় কক্সবাজারবাসী,

আসসালামু আলাইকুম। নীল জলে ঘেরা সমুদ্র বেষ্টিত কক্সবাজার আজ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত রেডজোন।সারাদেশেই করোনা আক্রান্ত রোগির সংখ্যা বেড়ে চলছে। এমন অবস্থায় মনটা আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত। ইতিমধ্যে আমাদের অনেক স্বজন,প্রতিবেশী, বন্ধুকে আমরা হারিয়েছি। আমাদের কয়েক প্রজন্ম এর আগে কখনো বিশ্বজুড়ে এমন ভয়াবহতার মুখোমুখি হয়নি৷ দেশে নানা ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে আমরা গিয়েছি। কিন্তু কখনোই এমন কিছু আমাদের সবাইকে সমানভাবে প্রভাবিত করেনি৷রোহিঙ্গা সংকটের মতোন কঠিন বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংকট আমরা শক্ত হাতে মোকাবেলা করেছি। কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানীয় সংকট কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সকলে একসাথে মিলে নিরসন করেছি।কিন্তু এখন এমন এক বিপদের সম্মুখীন আমরা, যা আমাদের সবাইকে এক কাতারে নিয়ে এসেছে৷ বিশ্বজুড়ে এখন মানবজাতির একটাই শত্রু- নভেল করোনা ভাইরাস৷ একটা সাধারণ কথা আমরা বুঝতে পারছি না আর তা হলো, ভাইরাস কোনো ধর্ম চেনে না, দল চেনে না৷ ভাইরাসের জন্য নয়, ভাইরাস ঠেকাতে আপনাদের উদাসীনতায় আমি বেশি আতঙ্কিত৷আমি নিজেকে নিয়ে নয়, বরং কক্সবাজারবাসীকে নিয়ে বেশি চিন্তিত৷করোনা ভাইরাসের সংক্রমন থেকে দেশবাসীকে রক্ষায় আমার প্রাণপ্রিয় নেত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা রাত দিন দেশের মানুষের কল্যানে কাজ করে যাচ্ছেন। আমার সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কক্সবাজার পৌর শাখার নেতৃবৃন্দ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় কাজ করছেন। শুধু আপনাদের প্রাণ বাঁচানোর জন্যে।লকডাউনে আপনাদেরকে প্রথম থেকেই ঘরে থাকার আহব্বান জানিয়ে আসছি। আজ আবারো মিনতি করছি দয়া করে বাসায় থাকুন। চায়ের দোকানে, বাজারে অযথা আড্ডা দিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাইরাস লেনদেন বন্ধ করুন। আমার আর আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা গুনতে ইচ্ছে করছে না।যারা বিদেশ থেকে এসেছেন, আপনারা স্বার্থপর হলেও তো নিজের পরিবারের কথা চিন্তা করে কোয়ারান্টিনে থাকা উচিত৷ তা না করে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরছেন, বিয়ে করছেন, যেখানে সেখানে আড্ডা দিচ্ছেন৷ আমি আপনাদের কী বলবো, খুঁজে পাচ্ছি না৷আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ঘর বন্দি। ৭১’এ যে মানুষটা রণাঙ্গণে নেতৃত্ব দিয়েছেন। জেলার সকল ভালো কাজে নিজের জীবনের আত্মনিয়োগ করেছেন সেই মানুষটাও মাঝে মাঝে আমার কাছে জানতে চান আপনারা কেমন আছেন, ঘরে থাকছেন কি না?? আপনাদের সেবা করতে গিয়ে আমার প্রিয় নেতা পৌর মেয়র মুজিবুর রহমান আজ স্বপরিবারে করোনা আক্রান্ত। আমি দেশে লকডাউন শুরুর থেকে পৌর আওয়ামীলীগ এর নিজস্ব তহবিল থেকে এবং বিভিন্ন অনুূদান নিয়ে অক্সিজেন সিলেন্ডার সহ চিকিৎসা সামগ্রী ও পৌরসভার প্রায় ৬ হাজার পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছাতে পেরেছি। ভবিষ্যতে ও আপনাদের পার্শ্বে থাকব শরীরের শেষ নিঃশ্বাস থাকা পর্যন্ত।আপনারা মাস্ক কেনার জন্য, স্যানিটাইজার কেনার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন৷ রাস্তায় পানের পিক আর থুতু ফেলা বন্ধ করেছেন? টিস্যু যেখানে সেখানে ফেলা বন্ধ করেছেন?মানুষ কতটা বুদ্ধিহীন হলে নিজের পরিবারকে এমন বিপদে ফেলতে পারে?পুরো বিশ্ব তাকিয়ে রয়েছে বিজ্ঞানীদের দিকে, কবে আবিষ্কার হবে ভ্যাকসিন৷ বিষয়টা খুব সিরিয়াস, আপনারা সিরিয়াস হোন৷ গুজবে কান দেবেন না।বিজ্ঞানী ও ডাক্তারদের কথা শুনুন৷আমাদের ডাক্তার-নার্সেরা প্রাণপন লড়াই করছেন। আমাদের মাননীয় জেলা প্রশাসক আপনাদের জন্যে নিজের সর্ব্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছেন। আমাদের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিজের জীবন বিপন্ন করে আপনাকে বাঁচাতে মাঠে আছেন।আপনারা জানেন, ইটালি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, এস্তোনিয়াসহ ইউরোপের প্রায় প্রতিটি দেশ হয় লকডাউনে আছে, না হয় জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে, অথবা কারফিউ ঘোষণা করা হয়েছে৷ কারণ একটাই, সবাইকে নিরাপদে রাখতে বাধ্য করা৷আপনাদের কে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে আমার কর্মীদের শুনতে হচ্ছে অপবাদ, সইতে হচ্ছে। আমার পৌর আ.লীগের মানবিক, সাহসী,অকুতোভয় কর্মীদের প্রতি হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসাআর কেউ মানুক আর না-ই মানুক, আমি জানি, এই যুদ্ধে আমরা জয়ী হবো৷ এই অন্ধকার অমানিশা কেটে আলো আসবে। একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও গ্রহণযোগ্য অঙ্গীকার দিয়ে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগামীর সকালটি শুভ হউক _ এটাই প্রত্যাশায়ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন,ঘরে থাকুন।

ইতি,

আপনাদের স্বজন

মোহাম্মদ নজিবুল ইসলাম

সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ,

কক্সবাজার পৌর শাখা।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •