জে.জাহেদ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

এই সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা নুসরাত ফারিয়া পুত্রবধু হিসেবে আসছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে। বর সাবেক সেনা প্রধান এম হারুন-অর-রশীদের (বীর প্রতীক) ছেলে রনি রিয়াদ রশীদ। তারা মূলত দুজনই ঢাকা সেনা নিবাসের বাসিন্দা হলেও ফারিয়ার বাড়ি কুমিল্লা আর রনির চট্টগ্রামের হাটহাজারী।

দীর্ঘ ছয় বছর পর হঠাৎ বাগদান সারলেন দুভূবনের দুজন। এনিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সাথে খোলামেলা কথাও বলেছেন চিত্র নায়িকা নুসরাত ফারিয়া। সেখানে চট্টগ্রামের সন্তান রনির ব্যাপক প্রশংসাও করেছেন ফারিয়া।

রনি রিয়াদ রশীদের সাথে পরিচয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে ফারিয়া বলেন, প্রথম পরিচয়টা হয়েছিল ২০১৪ সালের ২১ মার্চ। তখন তিনি অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে এসেছেন। আমাদের দু’জনের কমন এক বন্ধুর মাধ্যমে তার সঙ্গে পরিচয়। প্রথম দেখায় আমরা পড়াশোনা, কাজ, লাইফস্টাইল- এগুলো নিয়েই কথা বলেছি। উনি হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন তখন। সেই বিষয়গুলোও আমাদের আলাপচারিতায় উঠে আসে।

এরপর আর তেমনভাবে আমাদের দেখা হয়নি। একদিন আমার সেই বন্ধু বললো, উনি আমার সম্পর্কে ওকে জিজ্ঞেস করেছিল! আমি বললাম, ও আচ্ছা, ঠিক আছে। কোনও অসুবিধে নেই। এর অনেকদিন পর আবারও উনার সঙ্গে আমার দেখা ও কথা হয়।

প্রেম পড়ার সময়টুকুর কথা বর্ণনা করে ফারিয়া বলেন, পরিচয়ের এক, দুই মাস পর উনিই প্রথম আমাকে বন্ধু হওয়ার প্রস্তাব দেন। তখন আমাদের নিয়মিত যোগাযোগ হতে থাকে। তার সঙ্গে যখন আমার পরিচয় তখন আমি উপস্থাপনা করি। আমার নায়িকা হয়ে ওঠার পেছনে তার অনেক ভূমিকা ও অনুপ্রেরণা আছে। হয়তো তার কারণেই আমি নায়িকা হতে পেরেছি। সবসময় ইতিবাচক কথা বলে আমাকে সহযোগিতা করতেন এসব বিষয়ে। যখন জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে যুক্ত হলাম, খুব ভয়ে ছিলাম। অনেকেই অনেক কথা বলেন। তিনি শুধু বলেছেন, অন্যের কথা শোনার দরকার নাই। নিজের কথাটা শোনা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, এভাবেই তার প্রতি আমার ভালোলাগা বাড়তে থাকে। তবে পরিচয়ের এক বছর পর ভালোবাসার প্রস্তাবটা তার পক্ষ থেকেই আসে। কথা বলার সুবাদে আমরা ভালো বন্ধু বনে যাই, এরপর ভালোবাসা। আমার হাতে একটা ডায়মন্ডের আংটি আছে, যা আমি অনেক আগে থেকেই পরি। উনি ডায়মন্ডের আংটি দিয়ে আমাকে প্রপোজ করেন। উনার প্রপোজের ভাষাগুলো আমার মনে ধরেছিল। সেটা আজ আর না বলি। আমার প্রতি তার ভালো লাগাটা অনেক বেশি। সে আমাকে অনেক বোঝে। শত ব্যস্ততার মাঝেও উনি আমাকে সময় দেন। আমার যে কোনও সমস্যা বা পরামর্শে, সবার আগে আমি উনার সাপোর্ট পাই। বাবা-মা তো আছেই, পাশাপাশি উনিও অভিভাবক হিসেবে পাশে থেকেছেন গেল ছয়টি বছর।

কুমিল্লার মেয়ে আর চট্টগ্রামের ছেলের প্রেম বিয়ে কীভাবে হল তা জানাতে গিয়ে ফারিয়া বলেন, ‌‘রনি আর্মি পরিবারের সন্তান। আমিও। তার বাবা সাবেক সেনাপ্রধান এম হারুন-অর-রশীদ বীর প্রতীক। আমাদের দুজনের বেড়ে ওঠা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়।

রনি থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়। বিয়ের পর কি তাহলে ফারিয়াও স্বামীর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া পাড়ি দিবে? এমন প্রশ্ন যখন সামনে তখন জনপ্রিয় এ নায়িকা বলেন, অস্ট্রেলিয়াতো যাবোই! তবে নিয়মিত থাকতে নয়। দেশ ও অস্ট্রেলিয়া দু’জায়গাতেই থাকবো। অনেকেই হয়তো ভাবছে চলচ্চিত্র ছেড়ে দেব। আসলে বিষয় তা নয়। আমার হবু শাশুড়ি লায়লা নাজনীন রশীদ বিটিভির তালিকাভুক্ত সংগীতশিল্পী। তাই তাদের পরিবারে সাংস্কৃতিক আবহ অনেক পুরনো। আমি চলচ্চিত্র নিয়মিতই করব। সাধারণত আমি বছরে ৩টা ছবি করি। সেটাই ধরে রাখব।

হবু স্বামীর সুনাম করে ফারিয়া বলেন, আমার বয়স যখন ১৯ ছিল, তখন থেকে এখন পর্যন্ত রনির যে সাপোর্ট আমি পেয়েছি বা পাচ্ছি, তা বলার নয়। সিনেমাতে আসার পেছনে যে দুজন মানুষ বড় ভূমিকা রেখেছে তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রনি। তাই সিনেমা ছাড়ার খুব বেশি সুযোগ নেই।

চট্টগ্রামের ছেলে রনিকে নিজের আসল হিরো মন্তব্য করে রূপালী পর্দার এ নায়িকা বলেন, রনি আমার সুপারহিরো। আর আমার হবু বরের মতো এমন ভালো মনের মানুষ আমি দেখিনি।

যারা পর্দায় দেখে নুসরাত ফারিয়ার প্রতি ক্রাশ খেয়েছে তাদের প্রতি ফারিয়া দিয়েছেন পরামর্শ। বলেছেন, আমিও মানুষ। আমাকেও বিয়ে করতে হবে। এবং বেছে নিতে হবে একজনকে। সুতরাং এটা মেনে নিন। আপনার জন্যও এমনই ভালো সময় অপেক্ষা করছে!

বাগদানের ঘোষণার সাথে সাথেই নিজের জীবনে একটা পরিবর্তন এসেছে বলেও জানান জনপ্রিয় এ নায়িকা। বলেন, বিয়ের খবর পেয়ে আমার ফলোয়ার এক ধাক্কায় ১০ হাজার কমেছে (হাসি)! এছাড়া বাকি সব স্বাভাবিকই ছিল। অনেকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এখনও জানাচ্ছেন। খুব ভালো লাগছে।

প্রেমের বিষয়টা ৬ বছর লুকালেও বিয়ের বিষয়টা ঢাকঢোল পিটিয়ে করবেন বলে জানান নুসরাত ফারিয়া। বলেন, সম্ভবত ডিসেম্বরের দিকে আয়োজন হবে। এটা নির্ভর করছে পরিস্থিতির ওপর। করোনার প্রভাব কমে গেলেই ধুমধাম করে আয়োজন করতে চাই।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •