লকডাউন ডায়েরি -০৫

প্রকাশ: ১০ জুন, ২০২০ ০২:৪৯ , আপডেট: ১০ জুন, ২০২০ ০৩:৩৭

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


গতকাল রাত বারটায় বিটিভির সংবাদদাতা জাহেদ সরওয়ার সোহেলের উপস্থাপনায় অনলাইন TTN এ কক্সবাজারে কভিড১৯ করোনা মহামারী বিভিন্ন বিষয় এবং আসন্ন বাজেটে স্থানীয় মাননীয় সাংসদদের ভুমিকা নিয়ে আলোচনা শুনলাম । আলোচক ছিলেন কক্সবাজার -৩ মাননীয় সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, কক্সবাজার -২ মাননীয় সংসদ সদস্য আশেকউল্লাহ রফিক, সাবেক স্বাস্হ্য সচিব এম এম নাসির উদ্দীন। সোহেলের উপস্থাপনায় বিটিভির আদলে সরকারের ভাবমূর্তি বাড়ানো প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা ছিল। সাংসদ দু’জনেই সুআলোচক ।দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য থাকার কারণে অনেক পরিনিত হয়েছেন । সাবেক সচিব কুতুবদিয়ার সন্তান এম নাসিরউদ্দীন ঝানু আমলা ছিলেন ।সরকারের অনেক কিছুই তার নকদর্পনে ।১/১১ সরকারের সময় কক্সবাজারে সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন । যার সুফল কক্সবাজারবাসী এখন ভোগ করছে ।সাংসদদ্বয় সামনের বাজেট আলোচনায় কক্সবাজারের বিভিন্ন সমস্যার দৃষ্টিআকর্ষণে আশ্বাস দিলেন ।বাজেট সরকারের খাত অনুযায়ী এক বৎসরে আয় ব্যয়ের অনুমানিক হিসাব । বাজেট বানানোর দায়িত্বপ্রাপ্ত আমলারা মন্ত্রী এবং মন্ত্রনালয়ের সচিবসহ উধ্বর্তন কর্মকতাদের সাথে পরামর্শ করে সব টিক করেন । অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সরকারের রাজস্ব বিভাগ ,বিভিন্ন পেশাজীবি নেতা দের প্রাক বাজেট প্রণয়নের জন্য গুরত্ব সহকারে সিরিজ পরামর্শ নিয়ে থাকলেও স্থানীয় উন্নয়নের জন্য এমপিদের মতামত উপক্ষিত থাকে ।সংসদের বাজেট অধিবেশন এর বক্তৃতা শুনে এলাকার জনগন খুশী হয় এইটুকু এমপিদের সন্তুষ্টি । কাজ আদায় করতে অনেক কাঠখড় পুড়াতে হয় । কক্সবাজারের স্থানীয় এমপি রা প্রায় সব অধিবেশনে বিদেশ থেকে লবণ আমদানী বন্ধ করতে বলেন সরকারকে কিন্তু আমদানি বন্ধ হয় না ।শিল্পের লবন বলে প্রতি বৎসরই বিপুল পরিমান লবণ আমদানী হয় । ঈদগাহকে উপজেলা করা ,কক্সবাজার পৌরসভা সিটি করপোরেশনে উন্নত করা অধিবেশনে অনেকবার উত্থাপিত হয়েছিল কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না । সরকারী বরাদ্দকৃত গম চাল ভাগ করে দেওয়া আর বক্তৃতায় উন্নয়নের আশ্বাস দেওয়া ছাডা আর কিই বা করার আছে এমপিদের । এমপি কমল সাহেবের আলোচনায় করোনা মহামারী প্রতিরোধে কক্সবাজার হাসপাতালে আগামী ২০শে জুনের মধ্যে দশটি ICU বেড এবং দশটি ভেন্টিলেটর মেশিন UNIHR কতৃক স্থাপনের আশ্বাস পেয়েছেন । কক্সবাজারবাসীর জন্য সুখবর ।তবে এমপি সাহেবে কথায় আত্মবিশ্বাসের কমতি ছিল ।কক্সবাজার জেলায় করোনা সংক্রামন ঊর্ধ্বমুখি । করোনার চরিত্রনুযায়ী আগামী চার থেকে ছয় সপ্তাহর মধ্যে সামাজিক সংক্রামণ এবং মৃত্যু দুইটায় ব্যাপক হারে বাড়ার সম্ভবনা । আমরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পড়ার সময় English translation করতে হতে এই বাক্যটি, ‘ডাক্তার আসার পুর্বে রোগী মারা গেল ‘।আমাদের ভবিষৎ প্রজন্মদের যাতে এই বাক্যটা যোগ করতে না হয় ,’কক্সবাজার সরকারী হাসপাতালে ICU বেড এবং ভেন্টিলেটর মেশিন স্থাপন করার পুর্বে শত শত করোনা রোগী মারা গেল ‘।

লুৎফুর রহমান কাজল
জুন ১০,২০২০
নিরিবিলি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •