হুমায়ূন রশিদ, টেকনাফ:

হোয়াইক্যং খারাংখালী বাজারে একাধিক মামলার মোস্ট ওয়ানটেড আসামী এবং এক নিরীহ দোকানদারকে গুলিবর্ষণকারী সন্ত্রাসী সাদ্দাম এবার মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। মামলা তুলে না নিলে প্রাণনাশের হুমকি নেওয়ায় এই নিরীহ দোকানদারের পরিবার নিরাপত্তাহীনতা ভোগছে। এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা কামনা করেছেন ভূক্তভোগী পরিবার।

গত ৮ জুন রাত বাদে এশা হ্নীলা মৌলভী বাজারের মৃত সোলতান আহমদ ওরফে চামড়া বাদশাহর পুত্র সাদ্দাম হোছন (২৬) হোয়াইক্যং ইউনিয়নের খারাংখালী আলী আকবর মেম্বারের রাস্তার মাথার মার্কেটে মৃত মোহাম্মদ হোছনের পুত্র সোলতান আহমদ (৫৫) এবং তার পুত্র আলমগীরের দোকানে গিয়ে তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা তুলে নেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। আর মামলা তুলে না নিলে পরিণতি ভাল হবে না বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়। এরপর হতে নিরীহ দোকানদার পরিবার নিরাপত্তাহীন ভোগছেন বলে দাবী করে এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহায়তা কামনা করেছেন।

উল্লেখ্য,গত বছরের ২৯নভেম্বর রাত ১১টারদিকে খারাংখালী উত্তর ষ্টেশনের জাফর আলী মার্কেটের মুদি দোকানদার পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়ার সোলতান আহমদের পুত্র আলমগীর (২৪) দোকানে ছোট ভাই তারেককে শুয়ে দিয়ে পার্শ্ববর্তী স্থানে ব্যাট মিন্টন খেলতে যায়। কিছুক্ষণ পর দোকানে গিয়ে হ্নীলা মৌলভী বাজারের ক্রসফায়ারে নিহত সোলতান আহমদ ওরফে চামড়া বাদশাহর পুত্র ইয়াবা কারবারী ও সন্ত্রাসী সাদ্দাম হোছন (৩২) এবং তার অপর সহযোগী পূর্ব মহেশখালীয়া পাড়ার আহমদ কবিরের পুত্র আব্দুর রাজ্জাক, খুইল্যা মিয়ার পুত্র জয়নাল আবেদীন মিলে স্পীডক্যান দেওয়ার জন্য ডাকতে শুরু করে এবং লাথি মারতে থাকে। তখন দোকানে ঘুমিয়ে থাকা আলমগীরের ছোট ভাই তারেক (২০) ঘুমের মধ্যে থাকায় উঠতে একটু দেরী করে। সে উঠে পুলিশ না ডাকাত বুঝতে না পেরে দোকানের নীচ থেকে ২টি স্পীডক্যান বের করে দেওয়ার চেষ্টাকালে সাদ্দামের শোর-চিৎকারে পাশের দোকানে ঘুমিয়ে থাকা তারেকের পিতা সোলতানের ঘুম ভেঙ্গে যায়। সে বের হয়ে সন্ত্রাসী সাদ্দামকে স্বশস্ত্র অবস্থায় দেখে ছেলে তারেককে দোকান খুলে স্পীডক্যান দিতে বলে। দোকান খুলতে দেরী হওয়ায় সাদ্দাম দোকানদারকে ধাক্কা দিয়ে গুলিবর্ষণ করে। ভাগ্যক্রমে দোকানদারের গায়ে লাগেনি।

এই সময় দোকানদার আলমগীর গুলির শব্দ শুনে দ্রুত দোকানে এসে এসব বিষয় জানতে চাইলে সাদ্দাম দোকানদার আলমগীরকে লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করলে শরীরের বাম উরুতে গিয়ে লাগে। গুলিবিদ্ধ আলমগীরকে দ্রুত উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। এই ঘটনার পর খবর পেয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন আইসি নাজমুল আলম এই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

এই ব্যাপারে দোকান মালিক সোলতান আহমদ ৪জনকে আসামী করে টেকনাফ মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এই মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধের কারণে পুলিশ তাকে হন্য হয়ে খুঁজছে। এতেই সন্ত্রাসী সাদ্দাম নিরুপায় হয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে ব্যর্থ প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে।

 

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •