মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাব হতে সন্দেহজনক করোনা রোগীদের স্যাম্পল টেস্টের রিপোর্ট পাওয়া নিয়ে কক্সবাজার পৌরসভার ২ জন কাউন্সিলর তাদের নিজস্ব ফেসবুক আইডি-তে পৃথক ২ টি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। সোমবার ৮ জুন রাতে স্ট্যাটাস পোস্টকারীরা হলেন-প্যানেল মেয়র ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন কবির ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান। ২ জনই পর পর ২ বার কক্সবাজার পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। তারমধ্যে ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান করোনা পজেটিভ হয়ে হোম কোয়ারান্টাইনে আছেন।স্যাম্পল টেস্টের রিপোর্ট পাওয়া নিয়ে সময় ক্ষেপন বিষয়ে তাঁরা ২ জন কাউন্সিলরের প্রায় একই সময়ে দেওয়া স্ট্যাটাসে প্রকৃত অবস্থা ফুটে উঠায় এনিয়ে শহরে তোলপাড় চলছে।

প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন কবির তাঁর স্ট্যাটাসে বলেছেন-করোনা ভাইরাসের স্যাম্পল টেস্টের রিপোর্ট পাওয়ার জন্য তদবির করতে হয়। নতুবা রিপোর্ট পেতে একমাস সময় লাগতে পারে। অনেক সময় রোগী কবরে যাওয়ার পরও টেস্ট রিপোর্ট পাওয়া যায় না। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন।

নিম্মে প্যানেল মেয়র হেলাল উদ্দিন কবির এর স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো :

“করোনা পরীক্ষার রিপোর্টের জন্য তদবীর করতে হয়, না হলে রিপোর্ট আসতে একটু ১ মাস সময় লাগে, বেশীদিন না। রোগী কবরে যাওয়ার পরেও রিপোর্ট আসে না।প্রশাসনের নজরদারী বাড়াতে হবে।”

২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান হোম কোয়ারান্টাইনে থেকে তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে সকল প্রশাসনিক কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেছেন- ৯ দিন আগে তাঁর পরিবারের সকলের স্যাম্পল পরীক্ষা দিয়ে এখনো তিনি রিপোর্ট পাননি। প্রশাসনিক সকল কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করেও তিনি কোন সহযোগিতা পাননি। একজন আরেকজনকে দেখিয়ে দেন। ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান তাঁর স্ট্যাটাসে বলেন, পরিবারের সদস্য ও তাঁর প্রতিবেশীরা এখন চরম আতংকে আছেন। তিনি কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের চিকিৎসার মান বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা নেওয়ারও আবেদন জানিয়েছেন। তিনি তাঁর স্ট্যাটাসটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে এ বিষয়ে জনমত গড়ে তুলতে সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।

নিম্মে কক্সবাজার পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান এর স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো :

“প্রশাসনিক সকল কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আমি করোনা প্রজেটিভ রোগী।আজ প্রায় ০৯ দিন হল আমার পরিবারের সবাই করেনার স্যাম্পল পরীক্ষায় দিলাম। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমার পরিবারের রিপোর্ট এখনো পাওয়া যায় নাই। বর্তমানে পরিবারের সবাই আতঙ্কিত। আশে পাশে অনেকেই আতংকে আছেন। রিপোর্টের বিষয় নিয়ে। সিভিল সার্জন, সদর হাসপাতালের আরএমও‌, এসি (ল্যান্ড) সদর, ইউএনও সদর, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মহোদয়, জেলা প্রশাসক মহোদয়, এমপি সদর- সবার কাছে অনেক বার অনুরোধ করছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি, রিপোর্ট পায়নি। জানিনা কখন পায়। প্রশাসনিক সকল কর্মকর্তাদের সাথে অনেকবার যোগাযোগ করেছি, কারো সহযোগিতা পায়নি। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করলে এক এক জন এক এক জনের বাহানা দিয়ে থাকে। তারপর রোগী মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে যায়। ইতিমধ্যে অনেক মায়ের বুক খালি এবং অনেক মেয়ে বিধবা হয়ে গেল। কেউ তাহাদের খবর রাখে নাই। বর্তমানে মানুষের দুঃখ-দুর্দশার এই দায়ভার কে নিবে। একবার ভেবে দেখুন, মানুষ কি পরিমান কষ্ট পাচ্ছে এবং চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে। যেসব সব ব্যক্তিরা চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন, আমি তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। মৃত ব্যক্তিরা যদি আপনাদের সন্তান হতো। আপনাদের পিতা-মাতা হত। অথবা আপনাদের প্রতিবেশী হত, তখন বুঝতেন যন্ত্রণা মায়া-মমতা কাহাকে বলে। আমরা কক্সবাজারবাসী আর কান্নার ঢল দেখতে চাই না। দয়া করে দুই হাত জোড় করে বলছি, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের চিকিৎসার মান বৃদ্ধি করা হোক। সবার কাছে বিনীত অনুরোধ করছি যে, যেভাবে পারেন আপনারা আমার লেখাটুকু বিভিন্ন পত্রিকায় এবং ফেইসবুক আইডিতে তুলে দিবেন। আজ আমি নিজে মানবতার সেবা করতে গিয়ে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়েছি। আমরা মানব সেবা করতে খুব পছন্দ করি। দীর্ঘ ১০ বছর মানবসেবা নিয়ে ব্যস্ত। কক্সবাজারের সবাই ভাল জানেন। আজ আমি হতভাগা, আপনাদের কাছে কোন মূল্য পায়নি। এটা দুঃখের বিষয়। আমার পরিবারের দরকার নেই, বাঁচানোর মালিক আল্লাহ। ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন, সচেতন থাকুন, অন্যকে সচেতন করুন। এ দেশ রক্ষা করার দায়িত্ব সকলের।”

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •