ওসমান আবির, টেকনাফ :
কক্সবাজার টেকনাফের শাহ পরীর দ্বীপ জালিয়া পাড়া নামক এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে ৬০ লক্ষ টাকার সুপেয় পানির সরকারি প্রকল্প।প্রান্তিক জনগোষ্ঠির বিশুদ্ধ পানির অভাব দূর করতে পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের অধীনে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিবিএ-ইসিএ প্রকল্পের আওতায় ২০১৫ সালে বাস্তবায়িত হয় “সৌর চালিত লবণমুক্ত সুপেয় পানির প্রকল্প”।কিন্তু দীর্ঘ ১ বছর যাবত এই প্রকল্প পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় প্রান্তিক জনগোষ্ঠির হত দরিদ্র পরিবার গুলো এই প্রকল্পের কোন সেবা কার্যক্রম পাচ্ছে না বলে জানান স্থানীয় জনসাধারণ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্প দেখ-ভালের এক ব্যক্তি বলেন, প্রায় সময় পানি পরিশোধানাগারের মেশিন গুলো নষ্ট হয়ে যায়।উপকার ভোগীদের প্রয়োজনের তুলনায় পানি পরিশোধানাগার করা যায় না।এই এলাকার প্রায় ৫’শ পরিবারের দৈনিক কম পক্ষে ৪ হাজার লিটার বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন হলেও দৈনিক পানি পরিশোধানাগার করা যায় সর্বোচ্চ ১ হাজার লিটার।যার কারনে এক দিকে উপকার ভোগীদের মাঝে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি সরবরাহ করতে না পারা আবার অন্যদিকে বার বার পানি পরিশোধানাগার মেশিন গুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এত বড় প্রকল্পের সেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।সরকারি বিধি মোতাবেক যেভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার কথা সেভাবে বাস্তবায়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেন এই ব্যক্তি।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল গনি বলেন, বিগত ৮ বছর আগে শাহ পরীর দ্বীপের পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরের তীর ঘেষেঁ অবস্থিত বাঁধরক্ষা ভেড়িবাঁধ ভেঙ্গে গেলে জালিয়া পাড়া সহ শাহ পরীর দ্বীপের অধিকাংশ গ্রাম প্লাবিত হয়।যার কারণে দেখা দেয় বিশুদ্ধ পানির অভাব।আর এ অভাব দূর করতে জালিয়া পাড়ায় সরকারের পরিবেশ মন্ত্রনালয় কতৃক প্রায় ৬০ লাখ টাকার সুপেয় পানির প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও স্থানীয় জনসাধারণ এর কোন সুফল পাচ্ছে না দীর্ঘ ১ বছর যাবত এর সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকায়।

সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের অধীনে সরকারের বিশুদ্ধ পানির এত বড় প্রকল্পের জন্য আমরা সবারাং ইউনিয়ন বাসী বর্তমান সরকার শেখ হাসিনার প্রতি অত্যন্ত সন্তুষ্ট ও সাধুবাদ জানায়।কিন্তু এত বড় প্রকল্প দীর্ঘ ১ বছর যাবত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক।বৃহৎ সৌর প্যানেল ও অত্যাধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এ প্রকল্প সচল থাকলে জালিয়া পাড়ার প্রায় ৫’শ হত দরিদ্র পরিবারের বিশুদ্ধ পানির অভাব দূর হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহি অফিসার সাইফুল ইসলাম সাইফ বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মাঝে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য সরকারের এত বড় প্রকল্প কেন সেবা কার্যক্রম বিহীন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে তা আমি অবগত নয়।তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রকল্পের সেবা কার্যক্রম চালু রাখার জন্য চেষ্টা করা হবে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রফিক আহমেদ বলেন,পরিবেশ অধিদপ্তরের সিবিএ-ইসিএ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৫ সালে এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেন তৎকালীন পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. কামাল আহমেদ।বাস্তবায়নের পর প্রান্তিক জনগোষ্ঠির উপকার ভোগীরা নিয়মিত সেবা ও সুফল পেয়েছিল এই প্রকল্পের।কিন্তু অত্র এলাকায় সরকারের বড় পরিসরে ভেড়িঁবাধ নির্মানে কমিউনিটি পর্যায়ের হত দরিদ্র পরিবার গুলো বাস্তুচ্যুত হওয়া ও প্রকল্পের কিছু যান্ত্রিক ত্রুটির কারনে দীর্ঘ দিন এই প্রকল্পের সেবা কার্যক্রম বন্ধ আছে।তবে দেশের চলমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খুব শিগ্রই সরেজমিনে গিয়ে এর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি পরিবেশ মন্ত্রনালয় কতৃক আনুমানিক ৫০-৬০ লাখ টাকা খরচ করে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল।এই প্রকল্পের দৈনিক পানি পরিশোধন ক্ষমতা প্রায় ৫ হাজার লিটার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •