শাহেদ মিজান, সিবিএন:

এদেশের সর্বপ্রথম ঘোষিত রেডজোন কক্সবাজার শহর। তাই বিচ্ছিন্নভাবে কক্সবাজার শহরে দ্বিতীয় দফায় ১৪ দিনের লকডাউন চলছে। গত ৬জুন থেকে লকডাউন শুরু হয়। প্রথমবারের সারা দেশের সাথে সম্পূরক লকডাউনের চেয়ে কক্সবাজারে বর্তমানে চলমান লকডাউনের পার্থক্য বহু। কেননা চলমান লকডাউনটি চলছে অত্যন্ত ‘কঠোর’ ভাবে! এই লকডাউনে সপ্তাহে দুইদিন দরকারি দোকানপাট শহরে দোকানপাটসহ সব ধরণের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। করোনার জরুরী প্রয়োজন ব্যতীত বন্ধ রয়েছে সব ধরণের যানবাহন। ঘরে আবদ্ধ রয়েছে সব ধরণের মানুষ। এতে লকডাউনের সুফল পাওয়ার প্রত্যাশা করছে সচেতন মহল।

করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটন নগরী কক্সবাজার শহরকে রেড জোনভুক্ত করেছে প্রশাসন। শুক্রবার (৫ জুন) দিবাগত রাত ১২ টা থেকে দ্বিতীয় দফায় লক ডাউন শুরু হয়েছে। শেষ হবে ২০ জুন রাত ১২ টায়। প্রাথমিকভাবে পৌরসভার ১২টি প্রশাসনিক ওয়ার্ডকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে শুক্রবার জরুরি নির্দেশনা জারি করেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। একই সাথে টেকনাফ পৌরসভা ও উখিয়া কোটবাজার এলাকাও রেডজোনভুক্ত করা হয় এবং সেখানেও লকাউন চলছে।

৬জুন শহরের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জনসাধারণ এবং যানবাহন চলাচলের উপর জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিনা প্রয়োজনে জনসাধারণকে বাসার বাইরে না আসতে অনুরোধ করা হচ্ছে। মাঠে রয়েছে প্রশাসনের শক্তিশালী টিম। একই সাথে কঠোরভাবে কাজ করছে জেলা প্রশাসনের নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকরাও। মূলত এলাকা ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করায় এবার লকডাউনের কার্যকারিতা বেড়েছে বেশি। কারণ প্রশাসনের যৌথ টহল দল গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন থাকলেও কিছুদূর দূরত্বে দূরত্বে অবস্থান নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবকরা। ফলে শহরের প্রধান সড়কের প্রতিটি স্থান নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। একই অভ্যন্তরীণ অলি-গলিতে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে কার্যকরভাবে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবকরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের সব গুরুত্বপূর্ণূ পয়েন্টে সেনা, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও আর্মড পুলিশের সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছে। একই সাথে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান টিমও প্রতিনিয়ত টহল দিচ্ছে। সাথে নিকট দূরত্বে দূরত্বে স্বেচ্ছাসেকরা নিয়োজিত রয়েছে। এতে প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে কোনো প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট খুলতে পারছে না। একইভাবে যানবাহনও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ঘর থেকে বের হচ্ছে না লোকজনও। এর ফলে এক কঠোর লকডাউনের মধ্যে চলছে করোনা ভয়াবহ বিস্তার করা পর্যটন শহর কক্সবাজার।

সচেতন লোকজন বলছেন, বর্তমানে যেভাবে লকডাউন চলছে তাতে করে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমবে। তবে তার সাথে আক্রান্ত করোনা রোগীদের সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণও করতে হবে। কারণ তাদের মাধ্যমে নিকটজনদের সংক্রমিত হলে লকডাউনের সুফল ভেস্তে যাবে। তাই সে বিষয়টিও গুরুত্ব দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি আহŸান করছে সচেতন লোকজন।

জেলা প্রশাসনের ৭ জুনের আপডেট তথ্য মতে, কক্সবাজার জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত রোগির সংখ্যা ১০০৬ জন। মারা গেছে ২৫ জন।

জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, দেশের প্রথম হিসেবে রেডজোন ঘোষণা করা কক্সবাজার শহরকে দ্বিতীয় দফায় ১৪ দিনের লকডাউন করা হয়েছে। আশা করছি এই লকডাউন করোনা সংক্রমণ রোধে অনেক ভালো কাজ দেবে। প্রয়োজন হলে লকডাউন আরো বাড়ানো হবে।

তিনি আরো বলেন, জনগণের সুরক্ষার জন্যই লকডাউন দেয়া হয়েছে। তাই সবাইকে বুঝতে বিষয়টি; লকাডাউনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ঘরে থাকতেই হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •