আনোয়ার হোছাইন ,ঈদগাঁহ ,কক্সবাজার :

কক্সবাজারের সিনিয়র এক সিনিয়র সাংবাদিক করোনায় এবং অপরজন করোনা উপসর্গে অকালে মৃত্যু বরণ করেছেন।এদিকে এ আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে জেলার সাংবাদিক মহলে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়েছে।রবিবার (৭ জুন) পৃথক সময়ে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। মৃত্যু হওয়া কক্সবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক ও দা ফিনেন্সিয়াল এক্সপ্রেসের জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার শহরের বাসিন্দা আবদুল মোনায়েম খাঁন করোনা চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রয়োজনীয় সময়ে আইসিইউ ও অক্সিজেনের অভাবে রবিবার দুপুর আড়াইটার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর কেলে ঢলে পড়েন।এ সংবাদ মুহুর্তেই কক্সবাজার পৌছলে সহকর্মী ও জেলার সাংবাদিক মহলে শোকের আবহ সৃষ্টি হয়।বিশ্বের প্রসিদ্ধ পর্যটন নগরী কক্সবাজারে আইসিইউর বেবস্থা না থাকাতে অকালে সহকর্মী হারানোর ঘটনায় সংবাদিক সমাজে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।ইতিপূর্বে তিনিসহ তার এইচএসসি পড়ুয়া সন্তানের পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ হলে প্রথমে হোম কোয়ারান্টাইন এবং পরে অসুস্থতা বাড়লে আইসোলেশনে যান।এরপরেও অবস্থার অবনতি হলে তিন দিন পূর্বে তাকে চমকে নেয়া হলে অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেন।রবিবার সকালে হঠাৎ অক্সিজেন চরমভাবে উঠানামা করায় তার আইসিইউ আবশ্যক হয়ে পড়ে।কিন্তু আইসিইউ খালী না থাকায় স্থানান্তর সম্ভব হচ্ছিলনা।অবস্থা গরমের দিকে পৌঁছালে বিভিন্ন তদবিরে অন্য রোগি থেকে অক্সিজেন নিয়ে দুপুর দুইটার দিকে তার মুখে লাগানো হয়।ততক্ষণে দেরি হয়ে যাওয়ায় অকালেই সাংবাদিক মোনায়েম খাঁন মৃত্যু পথযাত্রী হয়ে যান।
একই দিন মধ্যে রাতে সাংবাদিক মেনায়েম খানকে করোনা স্বাস্থ্য বিধি মেনেই পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।এ শোকের রেশ কাটিয়ে না উঠতেই জেলার দৈনিক সকালের কক্সবাজার নামের পত্রিকার সার্কুলেশন ম্যানেজার শাকের উল্লাহ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে রাতেই তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয় চিকিৎসক। কিন্তু পথিমধ্যে তীব্র শ্বাস কষ্টে তিনিও রাত ১ টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।এসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকসহ জেলার সর্ব মহলে তীব্র করোনা আতন্ক দেখা দেয়।এদিকে এর পূর্বে কক্সবাজারের আরেক সিনিয়র সাংবাদিক ও সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সাধারণ সম্পাদক আনছার হোসেন ও তার পরিবারের অপর এক সদস্যের করোনা পজিটিভ হয়।তিনি রোববার তার সহকর্মী আবদুল মোনায়েম খানের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে করোনা চিকিৎসায় কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ চরম অবহেলা করছে বলে অভিযোগ তুলে ফেসবুক লাইভে এসে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও কক্সবাজারের কৃতি সন্তান স্থানীয় সরকার সচিব হেলাল উদ্দিন আহমদের হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন,তিনি এক সপ্তাহ যাবত করোনাক্রান্ত হয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কেউই তার খবর নেননি।এমতাবস্থায় সাধারণ করোনা রোগীরা কত অবহেলার শিকার হচ্ছে প্রশ্ন রেখে বলেন, তিনি সাংবাদিক হিসেবে নিজে আক্রান্ত হয়ে অনুভব করছেন কক্সবাজারে করোনা ব্যবস্থার দৈন্য দশা।এমনকি তিনি সিভিল সার্জন এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নিকট মোবাইলে সহযোগিতা চাইলেও তারা সাড়া দেননি বলে দাবি করেন।তিনি তীব্র ক্ষোভের সাথে দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা কক্সবাজারের প্রকৃত করোনা পরিস্থিতি এবং চিকিৎসা ব্যবস্থা কত নাজুক তা সরকারের উর্ধতন মহলের কানে পৌঁছাতে দিচ্ছেনা। তিনি অবিলম্বে এ অবস্থা থেকে উত্তোরণের জন্য স্থানীয় সরকার সচিব, স্বাস্থ্য সচিব,স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।অন্যতায় কক্সবাজারে করোনায় লাশের মিছিল হতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন। যার পূর্বাভাস ইতিমধ্যে পরিলক্ষিত হতে শুরু করেছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •