আবুল কাসেম আশরাফ

মহান আল্লাহ তায়ালা মানব সৃজন করেছেন। পাশাপাশি মানব জাতির জন্য সঠিক পথে চলার কিংবা জীবন যাপন করার সুনির্দিষ্ট রুপরেখাও সুস্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিয়েছেন। সৃষ্টি আল্লাহ তায়ালারই ইবাদত করবে। এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু মানব জাতি শয়তানের প্ররোচনায় যুগে যুগান্তরে মহান আল্লাহকে ভুলে পাপরাশিতে ডুবে যায়। ফলে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে বিভিন্ন ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করে পরীক্ষা করেন। যেন মানুষ বুঝতে পারে, দুনিয়ার জ্ঞান -বিজ্ঞান, উন্নতির উৎকর্ষ সাধন মহান রবের কাছে কিছুই নয়। মহামারীর মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা অস্বীকারকারীদের জানান দেন যে, যাবতীয় সক্ষমতা একমাত্র আল্লাহরই। সৃষ্টি জগৎ নিতান্তই অক্ষম।

বর্তমানে অদৃশ্য ভাইরাসে সুপার পাওয়ারের মিথ্যা দাবীদাররা অত্যন্ত তটস্থ ও শঙ্কিত। সবাই মহান শক্তির কাছে পর্যুদস্ত। WHO (বিশ্ব স্ব্যাস্থ্য সংস্থা)মহামারী থেকে বাঁচার জন্য সামাজিক নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার প্রেসক্রিপশন দিয়েছে।তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবো। এটা স্বাভাবিকও বটে।

তবে আমরা কি সামাজিক দূরত্বের নামে অসামাজিক হয়ে যাচ্ছি? এবং বর্বর অমানবিক? প্রকারান্তরে অসহিষ্ণুতার দেয়াল তৈরী করছি?
আসলে কোথায় চলছি আমরা ? এই গন্তব্যের শেষটা কোথায়? উত্তর অজানা। পথ অচেনা।

তবুও চলছি। যারা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাদের প্রতি কেন আমাদের শ্যেন দৃষ্টি।কেন তাদেরকে বাঁকা চোখে দেখি? ইকুইপমেন্ট ম্যানটেন করে তাদের কি খোঁজ-খবর রাখা যায় না? কঠিন মহামারীতে অনেক বড় বড় সাহাবায়ে কেরাম, বুজর্গ, অলী, আলেম, উলামারাও তো মৃত্যু বরণ করেছেন।

এটি তো আল্লাহর ইচ্ছাই বান্দার ইহজগত ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমানোর একটি মাধ্যম মাত্র।যার জন্য মৃত্যু যখন যেভাবে তকদীরে লিখন আছে।কখনো এর এক মুহুর্ত আগ -পিছ হবে না। সবিই মহান রবের ফায়সালা।কেন আমরা আক্রান্তদের প্রতি অমানবিক আচরণ করি?

পিতা সন্তানকে ঘরে ঢুকতে দেয় না। স্ত্রী স্বামীকে ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে।সন্তান মাকে রোগ সন্দেহে জঙ্গলে ফেলে দিয়ে আসে। সন্তানরা বাবাকে আলাদা ঘরে খাবারদাবার ছাড়া বন্দি করে রাখে। অসুস্থকে গ্রাম ছাড়া করে। মৃত ব্যক্তিকে গোরস্থানে কবরস্থ করতে দিচ্ছে না।সিঁড়িতে, মেঝে, রাস্তায়, পথে -ঘাটে লাশ পড়ে থাকলেও নিকটাত্মীয়রাও দূরে সরে দাঁড়ায়।

তাছাড়া এই কঠিনকালে কত মানুষ না খেয়ে, না পেয়ে বহু কষ্টে মানবেতর দিনাতিপাত করছে। মানবতা অসহ্যের কষাঘাতে ঢুকরে মরছে। আজকে কি মহানবীর আদর্শ ও মানবতা জাদুঘরে বন্দি? হাজারো প্রশ্নের উদ্রেক।

ইসলামে মানবসেবা

মানবসেবা বলতে মানুষের সেবা করা, যত্ন নেওয়া, সাহায্য -সহযোগিতা করা ইত্যাদি বুঝায়। মহানবী ( স)বলেন, “যে ব্যক্তি মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তায়ালা তার প্রতি দয়া করে না। “(বুখারী) তিনি অন্য হাদীসে বলেন, “তোমরা পৃথিবীবাসীর প্রতি অনুগ্রহ কর, তাহলে যিনি আসমানে আছেন তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। ”

বস্তুত সকল মানুষ ভাই ভাই। সকলেই আদম (আ)এর সন্তান। যে ব্যক্তি অন্যের সাহায্য করে আল্লাহ তায়ালও সে ব্যক্তির সাহায্য করেন, বিপদাপদ দূর করেন। “মহানবী (স) নির্দেশ দিয়েছেন, “তোমরা ক্ষুধার্তকে খাদ্য দাও, রুগ্ন ব্যক্তির সেবা কর, বন্দীকে মুক্ত কর, ঋণগ্রস্তকে ঋণমুক্ত কর। “(বুখারী)

মানবসেবার প্রতিদান সীমাহীন। আল্লাহ তায়ালা শেষ বিচারের দিন মানুষের সেবাকারীকে প্রভুত পুরস্কার ও নিয়ামত দান করবেন।

আমাদের প্রিয় নবী (স)মানবসেবার উজ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন। ছোট, বড়, ধনী -গরীব, মুসলিম -অমুসলিম সকলকেই তিনি সাহায্য -সহযোগিতা করতেন। তাঁর দয়া,মায়াও সহানুভূতি থেকে তাঁর চরম শত্ররাও বঞ্চিত হতো না। সকল মানুষের প্রতি সুন্দর আচরণ ও সচেতনতার নামে অমানবিকতার বেড়াজাল ছিন্ন করে উত্তম আদর্শই সময়ের অপরিহার্য দাবী।

লেখক: সহকারী শিক্ষক, খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, খরুলিয়া, সদর, কক্সবাজার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •