আবদুল মজিদ, চকরিয়া:

চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড ও ২নং ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী এলাকা দিয়ে প্রবাহিত কাটাখালী খালটি। স্থানীয় চিহ্নিত ভূমিদস্যু- দখলবাজরা করোনা ভাইরাস ও লকডাউনের সুযোগে খালে খালে মাটি ভরাট করে ও বেড়িবাধ দিয়ে সিংহ জায়গা দখলে নিয়ে গত কয়েক বছর থেকে খালের গতিপথ পরিবর্তন করে চলছে। ফলে খাল পাশ্ববর্তী কাটাখালী কবরস্থান, মসজিদ,মাদরাসা ও শাহ মজিদিয়া এতিমখানায় পানির আক্রমনে তীব্র ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে। বর্তমানে বর্ষা সময়ে সামান্য শুষ্কমৌসুম থাকায় তা কাজে লাগাচ্ছে ভূমিদস্যু দখলবাজরা। স্থানীয়রা এবং কবরস্থান,মসজিদ ও এতিমখানা কমিটি বারবার বাধা দেয়া সত্ত্বেও অস্ত্রের মুখে প্রকাশ্য দিবালোকে ৫জুন সন্ধ্যা পর্যন্ত খালে বাধ দিয়ে জবর দখল চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ডুলাহাজারা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের উলুবনিয়া গ্রামের আলী আকবরের ছেলে কামাল উদ্দিন ও সাবেক মেম্বার জহির উল্লাহ’র ছেলে ছৈয়দ আহমদের নেতৃত্বে একদল ভূমিদস্যু ভাড়ায় শ্রমিক এনে বর্তমান করোনা মহামারির লকডাউনকে পূঁজি করে প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগে সম্প্রতি সময় থেকে পানি চলাচলের কাটাখালী খালে বেড়িবাধ দিয়ে নতুন করে জবর দখল চেষ্টা শুরু করেছে। তারা ইতিপূর্বে প্রায় ৩০০ফুট লম্বা ও প্রায় ১০০ ফুট প্রস্থ মাটি ভরাট ও বেড়িবাধ দিয়ে প্রকাশ্যে খাল দখল করেছে। পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে পানির শ্রুোত এসে প্রথমে ধাক্কা দিচ্ছে কবরস্থান ও এতিমখানা ভবনে। যে কবরস্থানে চিরশায়িত আছেন কক্সবাজারের সর্বজন শ্রদ্ধেয় পীরে কামেল আলহাজ্ব শাহ মাওলানা আবদুর রশিদ (ডুলাহাজারার পীর) রহঃ। অথচ ওই কবরস্থানে বর্তমানে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে এবং চরম হুমকির মুখে। অভিযুক্ত বিগত ৫বছর পূর্বে একবার, ২বছর পূর্বে একবার, সর্বশেষ চলমান এ দখল প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন।

এনিয়ে স্থানীয় লোকজন, মসজিদ,মাদরাসা, এতিমখানা ও কবরস্থান কমিটির পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে চকরিয়া-পেকুয়া আসনের মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জাফর আলমকে মৌখিকভাবে অবহিত করেন। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষনা দেন। এরপরও ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে কাটাখালী খাল দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখায় হুমকি, আতঙ্ক ও ক্ষোভ ও উত্তেজনায় রয়েছেন এলাকাবাসী। তারা মাননীয় এসপি, জেলা প্রশাসক, উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পরিবেশ অধিদপ্তর ও থানার অফিসার ইনচার্জসহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, প্রবাহমান খালে বাধ দিয়ে জবর দখল করার কারো ক্ষমতা নাই। এধরণে ঘটনা সত্য হয়ে থাকলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নেয়া হচ্ছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •