সেলিম উদ্দীন, ঈদগাঁহ

কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহি খুটাখালী কিশলয় আর্দশ শিক্ষা নিকেতনের একমাত্র ফুটবল খেলার মাঠ (লম্বাতলী) স্থানীয় প্রভাবশালী ভুমিদস্যুরা গিলে খাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

দীর্ঘ ১ যুগ ধরে একমাত্র ঐতিহ্যবাহী এই খেলার মাঠটি দিনদিন দখল করে নিলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কর্তা ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্টানের তেমন কোনো জোরালো ভূমিকা দেখা যায়না বলে স্থানীয় ক্রীড়ামোদিরা ক্ষোভের সাথে জানিয়েছেন।

হয়ত কর্তা বাবুদের দূর্বল অবস্থানের কারনে এমনতর অবস্থা বলে মনে করছেন এলাকার ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, ১৯৮০ সালে কিশলয় স্কুল প্রতিষ্টার পর থেকে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব চৌধুরী মুহাম্মদ তৈয়বের অক্লান্ত পরিশ্রমে স্কুলের নামে শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলার জন্য ইউনিয়নের পাহাড়ি জনপদ লম্বাতলী এলাকায় এক খন্ড জমি ফুটবল খেলার মাঠ হিসাবে উপযোগি করা হয়।

সে সময় থেকে প্রতিদিন বিকেলে স্কুলের ছাত্ররা ফুটবল খেলায় মেতে উঠে।
বাদ পড়েনি এলাকার ক্রীড়া প্রেমিকরাও।
এখনো জমে উঠে ছোট বড় ফুটবল খেলার আসর।

তবে বিগত কয়েক বছর পূর্বে হতে স্থানীয় ভুমিদস্যুদের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে খেলার মাঠের উপর।
বিশেষ করে বিগত ২০০০ সাল থেকে খেলার মাঠের আশপাশে গড়ে উঠে ছোট বড় স্থাপনা।

ইত্যবশরে স্থানীয় ভুমিদস্যুরা মোটা অংকের বিনিময়ে
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি ও ভুমিহীনদের কাছে দখল বিক্রি করে বসিয়ে দেয় জনবসতি।

অন্যদিকে এলাকার প্রভাবশালীরা তৎকালীন স্কুল কতৃপক্ষের সাথে নয়ছয় করে মাঠের পশ্চিম অংশ সম্পুর্ন দখল করে তৈরী করে বসত ঘর। যা এখনও বিদ্যমান।

বর্তমানে মাঠের চারপাশে প্রায় ২৫ টি ছোট বড় বসতঘর ও বেশ কটি গুদাম রয়েছে।
যাদের দখলে রয়েছে মাঠ।

সরজমিন গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে মিলেছে তাদের নাম ও পরিচয়।

তারা বিভিন্ন সময়ে বনবিভাগের সাথে সমন্বয় করে দখলে নেয় একমাত্র ফুটবল খেলার মাঠটি। যদিওবা এই মাঠটি সরকারী খাস জায়গা। কিন্তু এই মাঠটি যুগ যুগ ধরে পুরো ইউনিয়নের কিশলয় স্কুলের খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে।

প্রত্যেক বছর আয়োজন হত ফুটবল, ক্রিকেট সহ নানান খেলাধুলার আসর। দর্শকদের আনন্দ চিৎকারে ভরে উঠত পুরো এলাকা।

জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দল এসে আসরকে মাতিয়ে রাখত। এছাড়া প্রতিদিন বিকেলে স্থানীয় যুব ও ছাত্র সমাজ মাঠে খেলাধুলায় সময় কাটাত।

স্থানীয় ক্রীড়ামোদিরা মনে করেন যুব ও ছাত্র সমাজকে বিভিন্ন অপরাধ মুলক কর্মকান্ড থেকে দুরে রাখতে নৈতিক শিক্ষা ও খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই।
কিন্তু দখলদারদের জন্য ছাত্র ও যুব সমাজ তাদের প্রিয় মাঠে খেলাধুলা করতে না পেরে মানসিক ভাবে অনেকটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

এলাকার অনেক খেলোয়াড় নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বলতে গেলে মাঠের চারপাশ দখলদারদের থাবায় ছোট হয়ে আসছে। কয়েক বছরের মধ্যে থাকবে না হয়ত মাঠের চিহ্ন।
এ যেন দেখার কেউ নেই।

অন্যদিকে এই সংকটের শেষ কখন হবে কেউ জানেনা।
কবে নাগাদ উদ্ধার করা হবে কিশলয় স্কুলের খেলার মাঠ এমনতর প্রশ্ন সকলের।

স্থানীয় যুব সমাজ তাদের প্রিয় খেলার মাঠ হতে দখলদারদের উচ্ছেদ করতে প্রশাসনের কাছে আবেদন করলেও তা যেন কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ।

অপরদিকে দীর্ঘদিন যাবৎ স্কুল কতৃপক্ষও নেয়নি কোনো ধরণের পদক্ষেপ।

স্থানীয়দের আশংঙ্কা খেলার মাঠটি এভাবে দখল হয়ে গেলে এক সময় যুব ও ছাত্র সমাজ এই মাঠে খেলাধুলার সুযোগ হারাবে।
সেই সুযোগে হয়ত এক ধরণের প্রভাবশালী মানুষরুপী ভুমিদস্যু মাঠ তাদের বলে দাবী করবে।
তখন হয়ত হারিয়ে যাবে ঐতিহ্যবাহী কিশলয় পাহাড়িকা স্টেডিয়াম সবার প্রিয় এই মাঠ।

যেখানে মিশে আছে অনেকের স্মৃতি, সুখ, দুঃখ, বেদনা।
এখন শুধু অপেক্ষা কি ভাগ্য নির্ভর করছে ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠের।

জানতে চাইলে কিশলয় পরিচালনা কমিটি ও ইউনিয়ন আ,লীগ সভাপতি আলহাজ্ব জয়নাল আবেদীন বলেন, বিষয়টি পরিচালনা কমিটির আগামী সভায় উত্তাপন করা হবে।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরিজ বলেন, খোঁজখবর নিয়ে দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •