মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

৬ জুন রাত ১২ টা থেকে ২০ জুন  রাত ১১.৫৯ টা পর্যন্ত পুরো কক্সবাজার পৌরসভা লকডাউন থাকবে। কক্সবাজারের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ কামাল হোসেন ৫ জুন ১৪ দিনের লকডাউন কক্সবাজার পৌরসভার জন্য জরুরী নির্দেশনা জারী করেছেন। কক্সবাজার জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে ৭দফা এ কঠোর নির্দেশনা জারী করা হয়।

নির্দেশনা অনুযায়ী পুরো কক্সবাজার পৌরসভাকে ‘রেড জোন’ ঘোষণা করা হয়। রেড জোন এ আবশ্যক বিবেচনায় ৬ জুন রাত ১২ টা হতে পরবর্তী ১৫ দিনের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারী করা হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী সকল জনসাধারণ আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ আবাসস্থলে অবস্থান করবেন।
সকল ব্যক্তিগত ও গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বহনকরী হালকা ও ভারী যানবাহন রাত ৮.০০ ঘটিকা থেকে সকাল ৮.০০ পর্যন্ত ঘটিকা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। কোভিড ১৯ মোকাবেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি গাড়ি জেলা প্রশাসকের অনুমতি গ্রহণ সাপেক্ষে চলাচল করতে পারবে।

সকল প্রকার শপিং মল, দোকান, মার্কেট, বাজার, হাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। শুধুমাত্র রবিবার ও বৃহস্পতিবার কাঁচা বাজার ও মুদির দোকান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সকাল ০৮.০০ ঘটিকা থেকে বিকাল ০৪.০০ ঘটিকা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। ঔষধের দোকান এর আওতার বাইরে থাকবে। একইভাবে শুধুমাত্র রবিবার ও বৃহস্পতিবার বাণিজ্যিক ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ খোলা রাখা যাবে।

জরুরি সংবাদ সংগ্রহের জন্য নির্বাচিত সংবাদকর্মীদের ‘রেড জোন’ এ কাজ করার নিমিত্তে কক্সবাজার প্রেসক্লাব কর্তৃক প্রদত্ত ছবিযুক্ত বিশেষ পরিচিতি পত্র এবং রেড জোনে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কক্সবাজার সদর কর্তৃক প্রদত্ত ছবিযুক্ত বিশেষ পরিচিতি পত্র দৃশ্যমান অবস্থায় গলায় ঝুলানো থাকা সাপেক্ষে কাজ করার অনুমতি দেয়া হবে।

সকল প্রকার গণপরিবহন টার্মিনাল ‘রেড জো’ এর বাইরে স্থানান্তর করতে হবে। প্রকাশ্য স্থানে বা গণজমায়েত করে কোন প্রকার ত্রাণ, খাদ্য সামগ্রী বা অন্য কোন পণ্য বিতরণ করা যাবে না।

কক্সবাজার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের জারীকৃত এ সংক্রান্ত নির্দেশনা নিন্মে হুবহু তুলে ধরা হলো –

“জরুরী ঘোষণা, জরুরী ঘোষণা, জরুরী ঘোষণা

এতদ্বারা কক্সবাজার পৌরসভার সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানে যাচ্ছে যে, কোভিড-১৯ সংক্রমণ কার্যকর ও অধিকতর দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রনে আনার লক্ষে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জেলা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সমগ্র পৌরসভাকে রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রেড জোনে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা আবশ্যক বিবেচনায় আগামী ০৬ জুন ২০২০ খ্রি. রাত ১২.০০ ঘটিকা থেকে ২০ জুন ২০২০ খ্রি. রাত ১১.৫৯ ঘটিকা পর্যন্ত নিম্নবর্ণিত নির্দেশনা প্রদান করা হল।
১. রেড জোন এলাকায়-
ক. সকল প্রকার ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। সকল জনসাধারণ আবশ্যিকভাবে নিজ নিজ আবাসস্থলে অবস্থান করবে।
খ. সকল ব্যক্তিগত ও গণপরিবহণ বন্ধ থাকবে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য বহনকরী হালকা ও ভারী যানবাহন রাত ৮.০০ ঘটিকা থেকে সকাল ৮.০০ পর্যন্ত ঘটিকা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবে। কোভিড ১৯ মোকাবেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত বেসরকারি গাড়ি চলাচলে জেলা প্রশাসকের অনুমতি গ্রহণ করবে। এম্বুলেন্স, রোগী পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী ব্যত্তিবর্গের (অনডিউটি) পরিবহন, কোভিড ১৯ মোকাবেলা ও জরুরী সেবা প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের গাড়ি এর আওতার বাইরে থাকবে।
গ. সকল প্রকার দোকান, মার্কেট, বাজার, হাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। কেবলমাত্র রবিবার ও বৃহস্পতিবার কাঁচা বাজার ও মুদি দোকান স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত আকারে সকাল ০৮.০০ ঘটিকা থেকে বিকাল ০৪.০০ ঘটিকা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। ঔষধের দোকান এর আওতার বাইরে থাকবে।
ঘ. কেবলমাত্র কোভিড ১৯ মোকাবেলা ও জরুরী সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সীমিত আকারে খোলা থাকবে। কেবলমাত্র রবিবার ও বৃহস্পতিবার ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ খোলা থাকবে। সকল হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও কোভিড ১৯ মোকাবেলায় পরিচালিত ব্যাংকিং সেবা প্রদান এর আওতার বাইরে থাকবে।
ঙ. জরুরি সংবাদ সংগ্রহের জন্য নির্বাচিত সংবাদকর্মীদের রেড জোনে কাজ করার নিমিত্ত কক্সবাজার প্রেস ক্লাব কর্তৃক প্রদত্ত ছবিযুক্ত বিশেষ পরিচিতি পত্র দৃশ্যমান অবস্থায় গলায় ঝুলানো থাকা সাপেক্ষে এবং কোভিড ১৯ মোকাবেলায় রেড জোনে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবীদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কক্সবাজার সদর কর্তৃক প্রদত্ত ছবিযুক্ত বিশেষ পরিচিতি পত্র দৃশ্যমান অবস্থায় গলায় ঝুলানো থাকা সাপেক্ষে কাজ করার অনুমতি দেয়া হবে।
চ. সকল প্রকার গণপরিবহন টার্মিনাল রেড জোনের বাইরে স্থানান্তর করতে হবে।
ছ. প্রকাশ্য স্থানে বা গণজমায়েত করে কোন প্রকার ত্রাণ, খাদ্য সামগ্রী বা অন্য কোন পণ্য বিতরণ করা যাবে না।
এতদ উদ্দেশ্যে গঠিত ওয়ার্ড কমিটিসমূহ নির্দেশনাবলী কঠোরভাবে বাস্তবায়নে দায়িত্বপালন করবে।

কোভিড ১৯ সংক্রমণ প্রতিরোধে জনস্বার্থে এ নির্দেশনা প্রদান করা হল।

নির্দেশক্রমে,
মো: কামাল হোসেন
জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
কক্সবাজার”

কক্সবাজার জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ কমিটির একজন সদস্যের কাছে এ নির্দোশনা ‘কারফিউ’ কিনা জানতে চাইলে তিনি সিবিএন-কে বলেন, সরাসরি ‘কারফিউ’ না হলেও অনেকটা ‘কারফিউ’ এর মতোই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উক্ত সদস্য বলেন যেখানে কক্সবাজার পৌরসভার মতো ছোট্ট একটি এলাকায় ২৭৫ জন নাগরিক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, ১১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন, সেখানে এ কঠোর নির্দেশনা জারী করা ছাড়া আর কোন উপায় ছিলোনা। আর এটা আম জনতার দাবিও ছিলো।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •