সিবিএন ডেস্ক:

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ এবং পরিস্থিতি উন্নয়নের অপেক্ষায় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে প্রশাসনিক রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে সীমিত আকারে অফিস খোলা রাখার নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অফিস পরিচালনা করতে হবে।

করোনার বিস্তার রোধ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় গত ১৭ মার্চ থেকে আগামী ১৫ জুন পর্যন্ত ছুটি চলছে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। এই সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ছুটির সময় ঘরে বসেই শিক্ষার্থীদের অনলাইনে পাঠদানের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

এই ছুটির মধ্যে গত ১ জুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিস খোলা রাখার নির্দেশনা জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অফিস শুধু ছাত্রছাত্রী ভর্তি, বিজ্ঞানাগার, পাঠাগার, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ প্রশাসনিক রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনে সীমিত আকারে খোলা থাকবে। তবে অসুস্থ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী, গর্ভবতী নারী এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া থেকে বিরত থাকবেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে। আর স্বাস্থ্য অধিদফতর আগে থেকেই অফিস খোলা রাখলে কী ব্যবস্থা নিতে হবে তার একটি গাইডলাইন দিয়েছে।

স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী অফিস খোলা রাখার ক্ষেত্রে যা করতে হবে:

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও স্বাস্থ্য অধিদফতরের নির্দেশনা অনুযায়ী অফিস চালুর আগেই অফিস কক্ষ, আঙ্গিনা ও অফিসের চলার জায়গা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। অফিসের পরিবহন শতভাগ জীবাণুমুক্ত করতে হবে। অফিসে চলাচলের যানবাহনে ন্যূনতম তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। অফিস করা সবাইকে সার্জিক্যাল মাস্ক অথবা তিন স্তরবিশিষ্ট কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, যা নাক ও মুখ ভালোভাবে ঢেকে থাকবে।

সার্জিক্যাল মাস্ক একবার ব্যবহার করতে হবে। কাপড়ের মাস্ক সাবান দিয়ে ধুয়ে বারবার ব্যবহার করা যাবে। অফিসে যাত্রার আগে পথে বারবার স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করতে হবে। অফিসে খাওয়ার সময় ন্যূনতম তিন ফুট শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

অফিস চলাকালে প্রতিবার টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে জীবাণুমুক্ত নিশ্চিত করতে হবে। অফিসে কাজ করার সময় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এছাড়াও বাড়িতে ফেরার পরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে।

কর্মস্থলে সব সময় মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং সাবান দিয়ে অথবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে ঘন ঘন হাত পরিষ্কার করতে হবে।

কেউ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে কিনা তা মনিটরিং করতে হবে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ এই মনিটরিং করবেন। প্রতিষ্ঠানের দৃশ্যমান একাধিক স্থানে স্বাস্থ্য সুরক্ষা নির্দেশনা ঝুলিয়ে রাখতে হবে। কোনও কর্মচারী অসুস্থ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

এছাড়া অফিস খোলার আগে এবং পরে স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অফিসের মেঝে ও দরজার হাতল, সিঁড়ির হাতল এবং যেসব বস্তু বারবার ব্যবহৃত হয়, সেসব বস্তুর তলপৃষ্ঠ ঘন ঘন পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখতে হবে। পারস্পরিক শারীরিক যোগাযোগ কমাতে হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •