এম.জিয়াবুল হক, চকরিয়া:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নে শারীরিক লাঞ্চনা আর নির্যাতনের শিকার আওয়ামী লীগের সেই প্রবীণ নেতা নুরুল আলমকে দেখতে তাঁর বাড়িতে গেছেন চকরিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আলহাজ ফজলুল করিম সাঈদী।

বৃহস্পতিবার (৪জুন) বিকালে চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ছয়কুড়িটিক্কা পাড়া গ্রামে পৌঁছে নির্যাতিত আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল আলমের বাড়িতে যান। এসময় তিনি আ.লীগের এই প্রবীণ নেতার পাশে থেকে তাকে শান্তনা দেন এবং ঘটনা শুনে মর্মাহত হন। এ ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে জড়িতদের গ্রেফতারের দাবি করেন।

এসময় উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বেশ কিছু নতুন কাপড় এবং খাদ্যসামগ্রী উপহার হিসেবে তুলে দেন নির্যাতিত প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল আলমের হাতে। উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি শওকত হোসেন, আ.লীগ নেতা ফরিদুল আলম, ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী এবং ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বেশ ক’জন মেম্বার।

সংগঠিত ঘটনার প্রেক্ষিতে চকরিয়া থানায় মামলা হয়েছে উল্লেখ্য করে চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী বলেন, কক্সবাজারের জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন মহোদয় আপনার এই ঘটনা নিয়ে বেশি আন্তরিক। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন জড়িতরা যতই প্রভাবশালী হোক পুলিশ কাউকে ছাড় দেবেনা। ইতোমধ্যে চকরিয়া থানা পুলিশ ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলাও নিয়েছে। এখন অভিযুক্ত অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে।

উপজেলা চেয়ারম্যান আরও বলেন, ঘটনার পরপর আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং চকরিয়ার ইউএনও সৈয়দ সামসুল তাবরীজ চকরিয়া থানার ওসি মো.হাবিবুর রহমানকে বলেছি, ন্যাক্কারজনক এই ঘটনায় জড়িত সবাইকে গ্রেফতার করুন। আইনের মাধ্যমে কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করুন।

অবশ্য ইতোমধ্যে সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) কাজী মতিউল ইসলাম এবং চকরিয়া থানার ওসি হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ তিন আসামি গ্রেফতার করেছে। মুলহোতাসহ এজাহারনামীয় অন্য আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছেন। তারপরও পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি জানাবো, আওয়ামীলীগের নিবেদিত প্রাণ প্রবীণ নেতা নুরুল আলমের ওপর হামলার ঘটনাটি চরম বেদনাদায়ক। এই ঘটনার উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সেইজন্য হামলাকারী সবাইকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রশাসনকে ভুমিকা পালন করতে হবে।

প্রসঙ্গত: গত ২৪ মে বিকেলে পূর্ব শুত্রুতার জেরে চকরিয়া উপজেলার ঢেমুশিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে ছয়কুড়িটিক্কা পাড়ার একটি বিলে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন মামলার আসামি আনছুর আলমের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত প্রকাশ্যে প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা নুরুল আলমকে বিবস্ত্র করে অমানবিক নির্যাতন চালায়। ঘটনার সময় নির্যাতনের এসব দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে দুর্বৃত্তরা। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। এরপর থেকে বিষয়টি ফেসবুকে ভাইরাল হলে ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আসে।

নির্যাতনের এ ঘটনায় ঢেমুশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের এক নারী সদস্যসহ আটজনের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে আহত নুরুল আলমের ছেলে আশরাফ হোছাইন বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় মামলাটি রেকর্ড করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •