মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহ ফয়েজ


মিয়ানমারের পশ্চিমে এবং বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বে নাফ নদী,সাগর উপকূল ও বিস্তীর্ণ পার্বত্য এলাকা জুড়ে আরাকান রাজ্যের অবস্থান যার আয়তন প্রায় ১৪ হাজার ২০০ বর্গ মাইল। কিন্তু একসময় আরকানের আয়তন আরো অনেক বেশি ছিল। ভারত ও বাংলাদেশের সাথে রয়েছে আরাকান রাজ্যের সীমান্ত।
মিয়ানমারে বসবাসরত ১৪০টি ছোট-বড় জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম জাতিগোষ্ঠী হল মুসলমান। এদের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখের কাছাকাছি। কেবল বাংলাদেশেই রয়েছে ১২/১৩ লাখ।
নৃতাত্বিকভাবে রোহিঙ্গারা জাতিতে ছিল তুর্কি, আরবীয়, আফগানি,ইরানি, বাঙ্গালি, পাঠান ও ইন্দো-মঙ্গোলীয় বংশোদ্ভূত।
মোগল আমল, সুলতানী আমল ও বৃটিশ ভারতীয় শাসনামলে আরাকান ছিল ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র।

বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে মিয়ানমার তথা বার্মার অন্তর্ভুক্ত আরাকান রাজ্যে বাংলা কাব্য তথা সাহিত্য চর্চার বিষয়টি ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। বাংলা সাহিত্যে রাখাইন স্টেট তথা আরাকানকে ‘রোসাঙ্গ’ বা ‘রোসাং’ নামে উল্লেখ করা হয়।
বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের ইতিহাসে আরাকান রাজসভায় যে সকল কবি বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতা অর্জন করেছিলেন তাঁদের মধ্যে দৌলত কাজী, মরদন,কোরেশী মাগন ঠাকুর, মহাকবি আলাওল, আবদুল করীমের নাম অবিস্মরণীয়।

রোহিঙ্গা জাতির উদ্ভবঃ
রোহিঙ্গাদের বিষয়ে সবার কৌতূহলের শেষ নেই। আরাকানের প্রাচীন নাম ‘রাখাইনপিয়ে’। রাখাইন শব্দটি এসেছে সংস্কৃত রাক্ষস এবং পালি শব্দ ইয়াক্কা (যক্ষ) থেকে যার অর্থ দৈত্য অথবা দানব। বৌদ্ধধর্ম প্রচারের আগে অধিকাংশ আরাকানি ছিল প্রকৃতি পূজক।

পূর্বে আরাকানকে রোয়াং বা রোসাঙ্গ নামে ডাকা হত। এ রোয়াং বা রোসাঙ্গ থেকেই উদ্ভব হয়েছে রোহিঙ্গা শব্দের। এই রোয়াং বা রোসাঙ্গ রাজ্যে যেসব মুসলমান বসবাস করে তারাই রোহিঙ্গা নামে পরিচিত।

রোহিঙ্গা শব্দটির উৎপত্তি কিভাবে হয়েছে তার সঠিক তথ্য এখনও আমাদের নিকট অজানা।
রোহিঙ্গাদের সম্পর্কে একটি চমকপ্রদ গল্প রয়েছে, সপ্তম শতকে একটি আরবীয় বাণিজ্য জাহাজ কোন এক কুয়াশাময় সকালে মায়ানমারের নিকটবর্তী বঙ্গোপসাগরে ডুবে যায়। ডুবে যাওয়া জাহাজের আরবীয় বণিকগণ কোনরূপ ভাসতে ভাসতে কূলে পৌঁছালে তারা ‘রহম’ ‘রহম’ ধ্বনি তুলে স্থানীয় অধিবাসীদের নিকট সাহায্য প্রার্থনা করে।
বলাবাহুল্য, ‘রহম’ একটি আরবী শব্দ যার অর্থ ‘দয়া করা’।আরবী সম্পর্কে কোন জ্ঞান না থাকায় স্থানীয় অধিবাসীগণ মনে করল এরা হয়ত রহম জাতির লোক। ‘রহম’ শব্দটি বিকৃত হয়ে প্রথমে রোহাং এবং পরে রোহাং থেকেই রোহিঙ্গা শব্দের উদ্ভব ঘটেছে বলে অনেকে মনে করেন।
বেশিরভাগ ঐতিহাসিক মনে করেন,
আরাকানের পূর্বতন রাজধানী ছিল ম্রোহং। এ ম্রোহাং শব্দ থেকেই কালক্রমে রোহাং, রোহাংগ ও রোসাঙ্গ শব্দগুলোর উৎপত্তি হয়েছে।
কিছু কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন,নবম-দশম শতাব্দীতে আরাকান রাজ্য ‘রোহাং’ নামে পরিচিত ছিল।এই রোহাং রাজ্যে যারা বসবাস করত তারা কালক্রমে ‘রোহিঙ্গা’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
ইতিহাস ও ভূগোল অনুযায়ী জানা যায়,
পূর্ব ভারত হতে প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ১৫০০ অব্দে অষ্ট্রিক জাতির একটি শাখা “কুরুখ” নৃগোষ্ঠী আরাকান অঞ্চলে প্রথম বসতি স্থাপন করে।
পরবর্তীকালে ক্রমান্বয়ে বাঙালি নৌমুসলিম, পার্সিয়ান, তুর্কি, মোঙ্গল,আফগানি, আরবীয় ও পাঠানরা দলে দলে আরাকান অঞ্চলে বসতি স্থাপন করে। এসব জাতির সংমিশ্রণে এখানে উদ্ভব ঘটে একটি সংকর জাতি এবং এ সংকর জাতিই কালক্রমে রোহিঙ্গা নামে পরিচিতি লাভ করে।

আরাকানে মুসলিম প্রভাবঃ
খ্রিষ্টপূর্ব ২৬৬৬ অব্দ থেকেই আরাকানের রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোগত সংঘবদ্ধ সমাজ জীবনের উদ্ভব ঘটে। সে সময় অস্ট্রো-এশিয় ও ভোট চিনা গোত্রীয় মানুষের কিছু অংশ আরাকানে বসবাস করত বলে অনুমান করা হয়। আরাকানের আদি রাজবংশ ছিল মারু রাজবংশ। মারু বংশীয় শাসকগণ বংশ পরম্পরায় খ্রিষ্ট পূর্বে আরাকান শাসন করতেন। অযোধ্যা ও বিহার অঞ্চলের জৈন এবং পরবর্তীতে জড়বাদী হিন্দু ধর্ম দর্শন কর্তৃক প্রভাবিত ছিল তৎকালীন আরাকানের সমাজ ব্যবস্থা। কালক্রমে ব্রাহ্মণ্যববাদী হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী লোকেরা আরাকানের শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।
খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয় শতকে মগধ থেকে আগত চন্দ্রসূর্য বংশের রাজাদের প্রভাবে আরাকানে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি বৌদ্ধ ধর্মীয় বিশ্বাসেরও ব্যাপক প্রভাব ও প্রসার ঘটে।
খ্রিষ্টীয় ৫ম শতাব্দী পর্যন্ত চট্টগ্রাম ও আরাকান একটি অখন্ড রাজ্য হিসেবে চন্দ্রসূর্য বংশীয় রাজাদের দ্বারা শাসিত হয়েছিল। কিন্তু সময়ের ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রামের সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠে ব্রাহ্মণ্যবাদী হিন্দু ধর্মীয় সভ্যতার আলোকে এবং আরাকানী সমাজ ব্যবস্থা গড়ে উঠে বৌদ্ধ ধর্মীয় সভ্যতার আলোকে।
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এর জীবদ্দশাতেই এ অঞ্চলে ইসলামের বাণী পৌঁছায়। এক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছিল আরব বণিকগণ।

৮ম শতকে আরাকানের চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরব বণিকদের যাতায়াত বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়রা সর্বপ্রথম ইসলাম সম্পর্কে জানতে সক্ষম হয়। খ্রিস্টীয় অষ্টম ও নবম শতকে চন্দ্রসূর্য বংশীয় আরাকান রাজা মহত ইং চন্দ্রের (৭৮৮-৮১০) রাজত্বকালে এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচার শুরু হয়।

চন্দ্রসূর্য বংশীয় শাসকদের উদারনীতির কারণে আরবের বণিকরা আরাকানে ইসলাম ধর্ম প্রচারের সুযোগ লাভ করে। এসময় কিছু কিছু আরব বণিক আরাকানে স্থায়ীভাবে বসবাসেরও সুযোগ পায়।

চন্দ্রসূর্য রাজবংশের উপাখ্যান রাদ জা’তুয়ে’তে উল্লেখ আছে, এ বংশের রাজা মহত ইং চন্দ্রের রাজত্ব কালে কয়েকটি বাণিজ্য বহর রামব্রী দ্বীপের তীরে এক সংঘর্ষে ভেঙে পড়ে। জাহাজের আরবীয় আরোহীরা তীরে এসে ভিড়লে রাজা তাদের উন্নত আচরণে সন্তুষ্ট হয়ে আরাকানে বসতি স্থাপনের অনুমতি দেন।পরবর্তীকালে আরবীয় মুসলমানগণ স্থানীয় রমণীদের বিয়ে করে এ অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে।
সুপ্রসিদ্ধ আরব লেখক সুলায়মান ৮৫১ খ্রিস্টাব্দে রচিত তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সিলসিলাত উত তাওয়ারীখ” নামক গ্রন্থে বঙ্গোপসাগরের তীরে রুহমী নামক একটি দেশের পরিচয় দিয়েছেন যাকে আরাকানের সাথে সম্পর্কযুক্ত মনে করা হয়।

জনশ্রুতি আছে, আরবের বিখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ হযরত আবু হানিফা(র:) আরাকানে এসে টেকনাফের নিকটবর্তী মংডু শহরের অদূরে একটি সুউচ্চ পাহাড়ে আস্তানা গাড়েন এবং এখান থেকেই তিনি আরাকানে ইসলাম প্রচার করতেন।তাই এ পাহাড়টির নামকরণ করা হয়েছে ‘হানিফার টংকি’।

৮ম ও ৯ম শতকে আরব বংশোদ্ভূত এই জনগোষ্ঠি মায়্যু সীমান্তবর্তী অঞ্চলের (বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের নিকট) চেয়ে মধ্য আরাকানের নিকটবর্তী ম্রক-ইউ এবং কাইয়্যুকতাও শহরতলীতেই বসবাস করতে বেশি পছন্দ করত।

৮ম শতকে খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজের সাথে আরাকান রাজা সূর্য ক্ষিতি ও আব্বাসীয় খলিফা আল মামুনের সাথে আরাকান রাজা সূর্য ইঙ্গ চন্দ্রের পত্র বিনিময় হয়েছিল বলে ঐতিহাসিকগণ অভিমত দিয়েছেন।

সমসাময়িককালে চট্টগ্রামেও ইসলামের ব্যাপক প্রসার ঘটতে থাকে। মূলত সে কারণেই এই দুই অঞ্চলের লোকজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। চট্টগ্রাম ও আরাকানের নৈকট্য এবং একই রাজ্যভুক্ত থাকায় বৃহত্তর বঙ্গদেশ থেকে তার একটা স্বাতন্ত্র্য ছিল। সেই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ও রাজনীতির সূত্রে রোসাঙ্গে বসবাসরত বাঙালীদের একটি পৃথক প্রবাসী সমাজ গড়ে উঠতে থাকে।

একাদশ শতাব্দীতে বদরুদ্দিন (বদর শাহ) নামক এক ধর্ম প্রচারক আরাকান অঞ্চলে ধর্ম পচার করতে আসেন।তিনি ধর্মীয় ও সামাজিক ক্ষেত্রে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। পরবর্তীকালে তাঁর নামানুসারে আরাকানের বিভিন্ন অংশে “বদর মোকাম” নামক অনেক গুলো মসজিদ নির্মিত হয়।
১৪০৪ খ্রিস্টাব্দে নরমিখলা নামক আরাকানের জনৈক যুবরাজ পিতার মৃত্যর পর মাত্র ২৪ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণ করেন।সিংহাসনে আরোহণ করেই নরমিখলা একজন দেশীয় সামন্তরাজার ভগ্নিকে অপহরণ করে রাজধানী লংগ্রেতে নিয়ে আসেন।এহেন কর্মকান্ডে ক্ষুদ্ধ আরাকানের সামন্তরাজাগণ একত্রিত হয়ে বার্মার রাজা মেঙশো আইকে আরাকান দখল করার জন্য অনুরোধ করে। ১৪০৬ খ্রিস্টাব্দে বার্মার রাজা মেঙশো আই ত্রিশ হাজার সৈন্য নিয়ে আরাকান আক্রমণ করলে নরমিখলা পালিয়ে তৎকালীন বাংলার রাজধানী গৌড়ে এসে আশ্রয় নেন। তখন ইলিয়াস শাহী রাজবংশ গৌড় থেকে বাংলা শাসন করত।
জনশ্রুতি আছে,নরমিখলা গৌড়ে এসে সুফি হযরত মুহম্মদ জাকির(র:) নামক জনৈক বিখ্যাত কামিল ব্যক্তির দরবার শরীফে আশ্রয় নেন।তিনি এখানে সুদীর্ঘ চব্বিশ বছরকাল অবস্থান করে ইসলামের ইতিহাস, সভ্যতা ও রাজনীতি বিষয়ে অধ্যয়ন করেন এবং ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুহম্মদ সোলায়মান শাহ নাম ধারণ করেন।নাম পরিবর্তন করার কারণে তিনি বার্মার ইতিহাসে মুহম্মদ সোলায়মান (মংস মোয়ান) হিসেবে পরিচিত লাভ করেন।
আরাকান থেকে পালিয়ে আসার চব্বিশ বছর পর অর্থাৎ ১৪৩০ খ্রিস্টাব্দে গৌড়ের সুলতান নাসিরউদ্দিন শাহ মতান্তরে জালালুদ্দিন শাহের সেনাপতি ওয়ালী খানের নেতৃত্বে বিশ হাজার সৈন্যবাহিনী দিয়ে নরমিখলাকে স্বীয় রাজ্য পুনরুদ্ধারে সাহায্য করেন।গৌড়ীয় সৈন্যের সহায়তায় নরমিখলা ওরফে সোলায়মান শাহ বর্মিদের হঠিয়ে পুনরায় আরাকান অধিকার করে ম্রাউক-উ নামক এক রাজবংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
এভাবে আরাকান নিশ্চিতভাবে মুসলিম রাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং একটি আধুনিক সভ্যতার সাথে এই সম্পর্ক আরাকানে এনে দেয় এক রেনেঁসা। আরাকানি জাতির এক মহাযুগ শুরু হয়।

নরমিখলা কর্তৃক আরাকান অধিকার করার এক বছরের মধ্যে ওয়ালী খান নরমিখলা ওরফে সোলাইমান শাহের সাথে বিদ্রোহ করে নিজেই আরাকান দখল করে নিলে গৌড়ের সুলতান জালালুদ্দিন শাহ সেনাপতি সিন্ধি খানের নেতৃত্বে ত্রিশ হাজার সৈন্য পাঠিয়ে সোলায়মান শাহকে আবারও হৃতরাজ্য পুনরুদ্ধারে সাহায্য করেন।
অতঃপর গৌড় থেকে আগত সৈন্যরা বিশেষ রাজকীয় পৃষ্টপোষকতায় আরাকানে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলে।
১৪৩২ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধি খানের সহযোগিতায় সোলায়মান শাহ আরাকানের রাজধানী লংগ্রেত থেকে ম্রোহং নামক স্থানে স্থানান্তরিত করেন। ১৪৩০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৫৩০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ম্রাউক-উ বংশের রাজারা গৌড়ের সুলতানদের কর প্রদান করতেন।
১৫৩১ খ্রিস্টাব্দে গৌড়ের অভ্যন্তরীণ গোলযোগের সুযোগে সোলায়মান শাহর দ্বাদশতম অধঃস্তন পুরুষ জেবুক শাহ (মিনবিন) ম্রোহং-এর সিংহাসনে আরোহণ করে আরাকান রাজ্যের পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণা করে এবং আরাকানে স্বাধীন ম্রাউক-উ-সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।

ম্রাউক-উ বংশের শাসকগণ বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হলেও ক্ষমতায় বসার সময় বৌদ্ধ নামের পাশাপাশি মুসলিম নামও ব্যবহার করতেন। ১৪৩০ সাল থেকে ১৭৮৪ সাল পর্যন্ত ম্রাউক-উ রাজবংশের রাজাগণ আরাকান শাসন করেছিলেন।ম্রাউক-উ রাজাদের শাসনামলে সেনাবাহিনী ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে ব্যাপক হারে মুসলমানরা নিয়োগ লাভ করেছিল।ফলে এ সময় আরাকানে ইসলাম ধর্মের ব্যাপক প্রসার ঘটে।

১৪৩০ খ্রিস্টাব্দ হতে প্রায় ১৭৮৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত আরাকান ম্রাউক-উ রাজবংশের শাসনাধীন ছিল। এসময় প্রায় প্রত্যেক রাজা নিজের বৌদ্ধ নামের সাথে একটি মুসলিম নাম ব্যবহার করতেন। গৌড়ের মুসলমানদের অনুকরণে এসময় মুদ্রা প্রথার প্রবর্তন হয় এবং মুদ্রার একপিঠে রাজার মুসলিম নাম ও অভিষেক কাল এবং অপরপিঠে মুসলমানদের কালিমা শরীফ আরবী হরফে লেখা থাকতো।
রাজার সৈন্যবাহিনীর অফিসার থেকে সৈনিক পর্যন্ত প্রায় সর্বস্তরেই মুসলমানদের দ্বারা ভর্তি ছিল।
মন্ত্রী পরিষদের অধিকাংশই ছিল মুসলমান।সেসময় মুসলমান কাজীরাই আরাকানের বিচারকার্য পরিচালনা করত।সেসময় আরাকানের সরকারি ভাষা ছিল ফার্সি ভাষা।

ঐতিহাসিক সুত্রে জানা যায়, আরাকান রাজা মিন রাজাগ্যি ওরফে সেলিম শাহ (১৫৯৩-১৬১২) বার্মার মলমিন থেকে বাংলার সুন্দরবন পর্যন্ত বিরাট ভূভাগ দখল করে দিল্লির মোঘলদের অনুকরণে নিজেকে বাদশাহ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
১৬৩১ সাল থেকে ১৬৩৫ সাল পর্যন্ত আরাকানে ব্যাপক দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এ দুর্ভিক্ষের পর থেকেই আরাকানের কয়েকশ বছরের মুসলিম শাসনের অবসান ঘটে।

১৬৬০ খ্রিষ্টাব্দে আপন ভ্রাতা আওরঙ্গজেবের হাতে পরাজিত হওয়ার পর প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে শাহ সুজা আরাকান রাজার আমন্ত্রণে সেদেশে আশ্রয় নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তখন আরাকানের রাজা ছিলেন বৌদ্ধধর্মের অনুসারী সান্দা থু ধম্মা। খানিকটা শান্তি আর নিরিবিলি জীবনের আশায় আরাকান যাওয়াই ছিল শাহ সুজার জীবনের এক চরম ভ্রান্তিজনক অধ্যায়।
পরিবারের সদস্য ও অনুগত কিছু সৈন্য-সামন্ত, সেই সাথে প্রচুর সোনা, রূপা, হীরা জহরত এবং অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে শাহ সুজা প্রথমেই নদীপথে হাজির হলেন বর্তমান চিটাগাং নগরীতে। সেখানে কিছুদিন অবস্থানের পর তিনি স্থলপথে আরাকানের উদ্দেশ্যে রওনা হন। যে পথে তিনি আরাকানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন সে পথটি এখনো সুজা রোড নামে পরিচিত। যাত্রাপথে পবিত্র ঈদের দিন তিনি চট্টগ্রামের আরও শ-কিলোমিটার দক্ষিণে এক নিরিবিলি জায়গায় ঈদের নামাজ আদায় করেছিলেন। শাহ সুজার সেই স্মৃতিবিজড়িত ঈদের নামাজ আদায় করার স্থানটি আজও ঈদগাঁহ নামেই পরিচিত এবং এ স্থানটি বর্তমানে কক্সবাজার সদর উপজেলার একটি অংশ।
ভীত ও বিচলিত শাহ সুজা স্থলপথে তেরো দিন, তেরো রাত চলার পর নাফ নদীর পুর্ব পাড়ে মংডু নগরীর আধা কিলোমিটার দূরে এসে থামলেন। স্থানীয় লোকজন এখনও এই গ্রামটিকে সুজা গ্রাম নামেই ডাকে।
১৬৬০ এর ৫ই জুন থেকে ২৬ শে আগষ্ট পর্যন্ত দীর্ঘ যাত্রার শেষদিনটিতে তিনি স্থলপথ ত্যাগ করে সমুদ্র পথে আরাকানের রাজধানীতে এসে পৌঁছান। আরাকান রাজা প্রতিনিধি পাঠিয়ে রাজকীয় অতিথিদের বরণ করে নিলেন বটে তবে প্রথমেই শর্ত দিলেন তাদেরকে সকল অস্ত্র শস্ত্র জমা দেয়ার। তৎক্ষণাৎ শাহ সুজা আরাকান রাজার শর্ত মেনে নিলেন।
রাজপ্রাসাদের অদূরে আলাদা একটি প্রাসাদে পরিবার পরিজন এবং সহযাত্রীদের নিয়ে উঠলেন শাহ সুজা।

শাহ সুজাকে নিয়ে রচিত ইংরেজ ইতিহাসবিদ জন হার্ভের লিখিত গ্রন্থ থেকে জানা যায়, শাহ সুজার আরাকানে আসার একটি বড় কারণ ছিল পবিত্র মক্কা শারীফ যাওয়া এবং সেখানেই তাঁর শেষ দিনগুলো কাটিয়ে দেয়া।নিজস্ব সমুদ্রগামী জাহাজ বহরে রাজকীয় অতিথির শেষ ইচ্ছা পুরণ করবেন বলে ধুর্ত আরাকানরাজা প্রতিশ্রুতিও দিলে ১৬৬০ সালের ডিসেম্বর মাসে শাহ সুজা হাতি ও ঘোড়া বোঝাই বিশাল ধন সম্পদের পাহাড় নিয়ে আরাকান উপস্থিত হন।এত ধন-সম্পদ দেখে লোভী আরাকানরাজা তার সব প্রতিশ্রুতি বেমালুম ভুলে যায়।শুধু ধন সম্পত্তি লুট করে নেয়ার জন্যই নয়,শাহা সুজার অপরূপ সুন্দরী বিবাহিতা কন্যা গুলরুখ বানুকে দেখেই তাকে ভোগ করার জন্য উম্মাদ হয়ে ওঠে আরাকানের লম্পট রাজা সান্দা থু ধম্মা চরম বিশ্বাসঘাতক আরাকান রাজা কু-উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার চেষ্টা করলে শাহ সুজা ও তাঁর নিরস্ত্র দলবল তাকে বাধা দেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু লম্পট আরাকান রাজা ১৬৬১ সালের ৭ফেব্রুয়ারি নিরস্ত্র অতিথিদের উপর ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়।
আরাকানের মাটি সেদিনও আশ্রিতদের রক্তে লাল হয়ে উঠেছিল আজও যেমন উঠছে সেখানে যুগ যুগ ধরে বসবাসকৃত রোহিঙ্গাদের রক্তে।
ইতিহাসের সেই নিষ্ঠুরতম দিনেই লম্পট আরাকান রাজের লালসার শিকার হয়েছিল মুঘল সম্রাট শাহাজানপুত্র শাহ সুজার প্রিয় কন্যা অপরূপ সুন্দরী গুলরুখ বানু। সেই অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্নহত্যার পথ বেছে নিয়েছিল ধর্ষিতা গুলরূখ।

ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগে পর্তুগিজ তথা ফিরিঙ্গি ও মগ জলদস্যুরা মিলে বাংলাদেশে যে অবস্থা সৃষ্টি করেছিল তা বর্ণনাতীত।
চট্টগ্রাম থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত গোটা উপকূলে তারা প্রতিনিয়ত দস্যুবৃত্তি করে বেড়াত এবং নদী ও সাগর তীরবর্তী গ্রামের পর গ্রামে লুটপাট চালাত।লুটপাটের পর তারা ঘর-বাড়িসহ সবকিছু আগুনে পুড়িয়ে ছাই বানিয়ে যেত। নারী-পুরুষদের তারা ধরে নিয়ে যেত দাস-দাসি হিসেবে বিক্রির জন্য। এসব নারী-পুরুষের হাতের তালু ও পায়ের পাতা ফুটো করে বেত দিয়ে বেঁধে নৌকা বা জাহাজের পাটাতনের নিচে গাদাগাদি করে ফেলে রাখত হাঁস-মুরগির মত। এ বন্দর থেকে আরেক বন্দরে নিয়ে যেত তাদের বিক্রি করার জন্য।

বাংলার উপকূলীয় অংশে মগ ও ফিরঙ্গি জলদস্যুরা প্রতিনিয়ত দস্যুবৃত্তি করতে ১৬৬৬ সালে মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেব বাংলার সুবেদার শায়েস্তা খাঁকে মগ ও ফিরিঙ্গিদের দমনের নির্দেশ দেন। শায়েস্তা খাঁর পুত্র উমেদ খাঁ ফেনী নদী ও কর্ণফুলী নদীর মোহনায় সংগঠিত নৌযুদ্ধে মগ ও ফিরিঙ্গিদের সম্মিলিত বাহিনীকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করে চট্টগ্রাম দখল করে নেন। কিন্তু পেংওয়াং (কক্সবাজার) তখনও মগদের দখলে রয়ে যায়।

১৭৮৪ সালে বার্মার রাজা বোধপোয়া মঙওয়াইং আরাকান রাজা থামদোকে পরাজিত ও নিহত করে আরাকান দখল করলে আরাকানের মগ ও মুসলমানরা বর্মীদের দ্বারা অকথ্য নির্যাতনের শিকার হয়। বর্মীদের নির্যাতন থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য আরাকানের মগরা পেংওয়াং এর আশেপাশে এবং মুসলমানরা মুসলিম অধ্যুষিত চট্টগ্রামে আশ্রয় নিতে শুরু করে।
১৮ শতকের শেষদিকে নির্যাতিত মানুষগুলোকে রক্ষার জন্য বৃটিশ বাহিনী বর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পেংওয়াংকে বৃটিশ ভারতের শাসনভুক্ত করে। ১৯ শতকের শুরুতেই পেংওয়াং এ নিযুক্ত বৃটিশ গভর্নর ক্যাপ্টান হাইরাম কক্স মারা গেলে তাঁর নামানুসারে পেংওয়াং এর নামকরণ করা হয় কক্সবাজার।

১৮২৪-২৫ সালে সংগঠিত প্রথম ইঙ্গ-বর্মী যুদ্ধে বর্মীদের পরাজিত করে বৃটিশ বাহিনী আরাকান এক বিরাট অংশ দখল করে। আরাকান থেকে বর্মীরা বিতাড়িত হলে চট্টগ্রামে ও কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া মগ ও মুসলমানদের একটি বিরাট অংশ আরাকানে ফিরে ফিরে যায়।

পরবর্তীতে আরও দুটি ইঙ্গ-বর্মী যুদ্ধের পর (১৮৫২ ও ১৮৮৫) সম্পূর্ণ আরাকান ও বার্মা সাম্রাজ্যের বেশিরভাগ অংশ বৃটিশদের দখলভুক্ত হয়।

১৯৩৭ সালে বৃটিশ শাসিত বার্মায় বৌদ্ধ ও মুসলমানদের মধ্যে এক সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূচনা ঘটে। সংগঠিত এ দাঙ্গায় উগ্র বৌদ্ধদের হামলায় হতাহত হয় কয়েক সহস্রাধিক রোহিঙ্গা এবং দেশান্তরীণ হতে বাধ্য হয় হাজার হাজার রোহিঙ্গা।

মিয়ানমারে নিজেদের শাসনের অবসানের মাত্র কয়েকবছর আগেই বড় ধরনের ভুল করে বসে বৃটিশ শাসকগোষ্ঠি। যার দুর্বিষহ ফল এখনও ভোগ করতে হচ্ছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে। তবে ভুলটা বৃটিশদের ইচ্ছাকৃত ছিলো কিনা সেটা খতিয়ে দেখা বেশ সময় স্বাপেক্ষ।
মিয়ানমারে ১৪০টি জাতিগোষ্ঠি থাকা স্বত্বেও বৃটিশরা সেদিন রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাদ দিয়ে ১৩৯টি জাতিগোষ্ঠির তালিকা প্রস্তুত করে রোহিঙ্গাদের কপালে চিরস্থায়ী দু:খ বয়ে আনে।
১৯৩৯ সালে রোহিঙ্গা ও রাখাইনদের মধ্যে চলমান শত্রুতার অবসানের জন্য বৃটিশ প্রশাসন জেমস ইস্টার এবং তিন তুতের দ্বারা একটি বিশেষ অনুসন্ধান কমিশন গঠন করে। কিন্তু কিছুদিন পরে ২য় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে এ কমিশনের বিলুপ্তি ঘটে। ২য় বিশ্বযুদ্ধে রোহিঙ্গারা বৃটেনকে এবং রাখাইনরা জাপানকে সমর্থন করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একপর্যায়ে জাপানিরা বৃটিশ শাসিত বার্মা আক্রমণ করলে বৃটিশরা মিয়ানমার ত্যাগ করে। বৃটিশদের মিয়ানমার ত্যাগের অল্প সময়ের মধ্যেই শুরু হয় ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা নিধন।
রাখাইন ও জাপানিদের সম্মিলিত ধ্বংসযজ্ঞে প্রাণ হারায় হাজার হাজার রোহিঙ্গ,ধর্ষিত হয় অগণিত রোহিঙ্গা রমণী।এহেন অবস্থায় বিভিন্ন সসময়ে প্রায় লক্ষাধিক রোহিঙ্গা প্রাণ রক্ষার তাগিদে স্থায়ীভাবে বসবাসের উদ্দশ্যে সীমান্ত পেরিয়ে চট্টগ্রাম ও তার আশেপাশের এলাকায় চলে আসে।
১৯৪০ সাল থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা হতাহত হয় এবং হাজার হাজার রোহিঙ্গা আরাকান ত্যাগ করে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় গ্রহন করে। বিশেষ করে ১৯৪২ সালে বার্মার ইতিহাসে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ দাঙ্গায় প্রায় এক লক্ষ রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানীদের ফেলে যাওয়া অস্ত্র এবং পরবর্তী সময়ে গোপনে অস্ত্র সংগ্রহ করে বার্মার বিরুদ্ধে স্বাধীনতকামী সশস্ত্র গ্রুপ গঠন করলেও তেমন সাফল্য অর্জন করতে পারেনি রোহিঙ্গারা।

১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি স্বাধীনতা লাভের পর বৃটিশরা আরাকানের শাসনভার বার্মার হাতে ন্যস্ত করে।কিন্তু বৃটিশদের এ কাজ ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি।জাতিসঙ্ঘের ১৫১৪ নং ধারা ৬ষ্ঠ নং প্রস্তাব মোতাবেক বৃটেন কর্তৃক আরাকানের সার্বভৌমত্ব বার্মার নিকট অর্পণ করা ছিল সম্পূর্ণ অবৈধ। ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর সংঘটিত সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার পর লক্ষাধিক রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয় পূর্ব বাংলায় ( ১৯৫৬ সালে সাংবিধানিকভাবে নামকরণ করা হয় পূর্ব পাকিস্তান)। পরবর্তীতে তারা স্থানীয় নাগরিকত্ব লাভ করে।

স্বাধীনতা প্রাপ্তির কিছুকাল পর বার্মায় সরকার গঠন করা হয় এবং এ সরকারে রোহিঙ্গা মুসলমানরা প্রতিনিধিত্বের সুযোগ পায়। আরাকানকে দেয়া হয় স্বায়ত্তশাসন।
১৯৬২ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নে উনের নেতৃত্বে সামরিকজান্তা শাসন ক্ষমতা কুক্ষিগত করলে বার্মার যাত্রাপথ ভিন্ন দিকে প্রভাহিত হয়। শুরু হয় রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগের চরম মাত্রা, রহিত করা হয় আরাকানের স্বায়ত্তশাসন, নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় রাখাইন স্টেট।
১৯৭৮ সালে বিদ্রোহ দমনের নামে ‘কিং ড্রাগন আপারেশন’ চালিয়ে হত্যা করা হয় অসংখ্য রোহিঙ্গা নর-নারী ও শিশুকে, বাস্তুহারা হয় হাজার হাজার রোহিঙ্গা। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে হাজার হাজার রোহিঙ্গা দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে আশ্রয় নেয় পার্শ্ববর্তী দেশ চীন, থাইল্যান্ড ও বাংলাদেশে।
১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তুলে নেয়া হয় রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব। এ আইন অনুযায়ী রোহিঙ্গারা জমি ক্রয়েরও অধিকার হারায়।

১৯৯০ সালের মে মাসে সাধারণ নির্বাচনে অং সাং সুচির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসির প্রার্থীরা ৯০% আসনে জয়ী হয়। উক্ত নির্বাচনে আরাকানের রোহিঙ্গা মুসলমানরা অং সাং সু চি-র প্রার্থীদের সমর্থন করে। আরাকানের ২৩টি নির্বাচনী এলাকায় ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্র্যাসি একচেটিয়া প্রাধ্যান্য লাভ করে। জেনারেল স মং নির্বাচনে বিজয়ী দলের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে অং সাং সু চি-কে গৃহবন্দি করেন এবং সু চি-র প্রতি একচেটিয়া সমর্থন প্রদানের কারণে স মং-এর নির্দেশে সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলমানসহ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জড়িত রাখাইনদের উপর ব্যাপক নির্যাতন শুরু করে। সামরিকজান্তা ও উগ্র বৌদ্ধ সন্ত্রাসীদের হামলায় হতাহত হয় কয়েক সহস্র রোহিঙ্গা, জ্বালিয়ে দেয়া হয় ঘর-বাড়ি, মসজিদ-মাদ্রাসা। বাস্তুহারা হয় লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষ। অকথ্য নির্যাতন থেকে রেহাই পাওয়ার আশায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় ২,৫০,৮৭৭ জন রোহিঙ্গা। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তীব্র নিন্দা জানালেও সবাইকে বুড়ো আঙ্গুল প্রদশর্ন করে মিয়ানমার (১৯৮৯ সালে নাম পরিবর্তন)।

২০১২ সালে আবারও গণহত্যা এবং নির্যাতনের সম্মুখীন হয় রোহিঙ্গারা।
২০১৬ সালের শেষ দিকে এসে আবারও একি কান্ড, কেউ নেই প্রতিবাদ করার।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট ২৫ আগস্ট ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলায় ১২ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হওয়ার পর মায়ানমারের সেনাবাহিনী এবং উগ্রবাদী বৌদ্ধদের পরিচালিত গণহত্যা ও নির্যাতন থেকে পরিত্রাণের আশায় ৬,৫৫,০০০ থেকে ৭,০০,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে। আরও লাখ খানেক রোহিঙ্গা আশ্রয় নেয় ভারত, চীন ও থাইল্যান্ডে। অনেকেই সাগর পথে পাড়ি জমায় মালেশিয়া-ইন্দোনেশিয়ায়।

২০১৭ সালের ২৫ আগষ্টের গণহত্যার পর প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে মিয়ানমারের নোবেল বিজয়ী গণতন্ত্রীপন্থী নেত্রী অংসান সুচির ভূমিকা। অংসান সুচির নীরব ভূমিকার কারণে অনেকেই তার নোবেল বাতিলের দাবিও জানিয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মতে,
“১৯৭৮ সাল থেকে আরাকানের মুসলমানরা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে এবং বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হচ্ছে”।

রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বর্তমানে কোন দেশে কতঃ
বাংলাদেশ: মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা; এই সংখ্যা কিছু দিনের মধ্যে পৌঁছে যায় সাত লাখে। আর আগে থেকে বাংলাদেশে অবস্থান করছিল আরও চার লাখ রোহিঙ্গা। সব মিলিয়ে ১১ লাখের মত রোহিঙ্গা শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে। কিন্তু শরনার্থী শিবিরের বাইরে কক্সবাজার শহরসহ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আরো কয়েক লাখ যাদের অধিকাংশই কতিপয় সুবিধাভোগী রাজনীতিবিদের আশীর্বাদে বাংলাদেশের নাগরিকত্বের মর্যাদা লাভ করেছে।

পাকিস্তান: পাকিস্তানে বসবাসকৃত রোহিঙ্গা শরনার্থীর সংখ্যা প্রায় ২ লাখ।

মধ্যপ্রাচ্য: মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

থাইল্যান্ড: থাইল্যান্ডে প্রায় ১ লাখ রোহিঙ্গা শরনার্থী বসবাস করছে।
মালয়েশিয়া: UNHCR এর হিসেব অনুযায়ী ৫৯ হাজার রোহিঙ্গা মালয়েশিয়ায় রয়েছেন।

ভারত: ২০১৭ সালের আগস্টের গণহত্যার পর দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ভারতে অনুপ্রবেশ করে।

যুক্তরাষ্ট্র: এশিয়ার দেশগুলোর বাইরে যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ হাজারের মত রোহিঙ্গা বসবাস করছে। মিয়ানমারে নিপীড়নের শিকার এই জনগোষ্ঠীকে ২০০২ সাল থেকে সেখানে থাকতে দেয়া হচ্ছে, বেশিরভাগ রোহিঙ্গা শরণার্থী শিকাগোতে বসবাস করে।

ইন্দোনেশিয়া: ইন্দোনেশিয়ায় ১১ হাজার ৯৪১ জন নিবন্ধিত রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থী রয়েছে।

নেপাল: নেপালে এখন ২০০ জন রোহিঙ্গা বসবাস করছে।

অস্ট্রেলিয়া এবং কানাডায়ও কয়েক হাজার রোহিঙ্গা বসবাসের সুযোগ পেয়েছে।

৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ ও রোহিঙ্গাঃ
রোহিঙ্গাদের সাথে কক্সবাজারের মানুষের শত বছরের বাণিজ্য ও সামাজিক যোগাযোগ ছিল। সেই হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে রোহিঙ্গারা বাঙালির পক্ষে থাকার কথা ছিল কিন্তু বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।

সমষ্টিগতভাবে রোহিঙ্গারা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে ছিল। এর পিছনে কারণ ছিল পাকিস্তান সরকার নানান সময়ে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের আশ্রয় দিয়েছিল ও পৃষ্টপোষকতা করেছিল।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের একটা বিরাট অংশ বাঙালির বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত আরাকান অঞ্চলে মসজিদে মসজিদে পাকিস্তানের বিজয়ের জন্য দোয়া করা হত। রোহিঙ্গাদের পাকিস্তান প্রীতির প্রধান কারণ ছিল বার্মা সরকারের সাম্প্রদায়িক মনোভাব ও রোহিঙ্গাদের উপর অবর্ণনীয় নির্যাতন।

পূর্ব-পাকিস্তানে আশ্রিত একটি রোহিঙ্গা বিদ্রোহী গ্রুপ পাকিস্তানী হানাদারদের সহযোগী বাহিনী হিসেবে কাজ করেছিল। সেই রোহিঙ্গা বিদ্রোহী বাহিনীটি স্থানীয় ভাষায় ‘পুরুইক্যা’ অর্থাৎ চিতাবাঘ নামে পরিচিত ছিল। (দৈনিক বাংলা – এপ্রিল ১৩, ১৯৭২)।

এই বাহিনী বার্মায় পালিয়ে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের বন্দী করে পাকিস্তান বাহিনীর হাতে তুলে দিত, বিনিময়ে তারা পাকিস্তানীদের কাছ থেকে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ সহায়তা পেত।

রোহিঙ্গারা বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাঙ্গ করে ‘মূর্তি বাহিনী’ বলে ডাকতো।

পাকিস্তানিদের বর্বরতার মুখে প্রায় ৫০ হাজার বাঙালি আশ্রয় নিয়েছিল আরাকানের বিভিন্ন জায়গায়।
কিন্তু বাঙালি শরণার্থীদের সাথে রোহিঙ্গাদের আচরণ ছিল অত্যন্ত রূঢ়।
শুধুমাত্র শিক্ষিত একটি অংশ ব্যতীত রোহিঙ্গাদের বড় অংশ আরাকানে আশ্রয় নেয়া বাঙালি শরণার্থীদের সাথে ভালো ব্যবহার করেনি।

ইতিহাসের কী নির্মম পরিহাস- বার্মায় নিপীড়িত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সবচেয়ে বড় আশ্রয়স্থল আজ আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।
যে রোহিঙ্গারা আমাদের প্রাণপ্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশের জন্ম চায়নি সেই রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে প্রমাণ করেছি আমরা বাঙালি জাতি পরোপকারী, আমরা বাঙালি জাতি সভ্য জাতি।

বাংলাদেশে ও রোহিঙ্গা সমস্যাঃ
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘে পাঁচ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সেখানে তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের স্বদেশে ফেরত এবং ধর্ম ও গোত্রনির্বিশেষে মিয়ানমারে বসবাসরত সব বেসামরিক লোকজনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে রোহিঙ্গাদের জন্য একটি ‘নিরাপদ এলাকা’ তৈরির কথা বলেন।

২০১৯ সালের আগস্টে মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া শুরু করার উদ্যোগ দু’বারই ব্যর্থ হয়।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের লক্ষ্যে চার দফা প্রস্তাব পেশ করেন। কিন্তু বৃহৎ রাষ্ট্রগুলোর অমনোযোগিতা এবং মায়ানমারের একগুঁয়েমির কারণে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান দ্রুত সম্ভব হচ্ছে না।

১ লাখ রোহিঙ্গা শরনার্থীকে সরিয়ে নোয়াখালীর উপকূলে অবস্থিত ভাসান চরে স্থানান্তরিত করার জন্য বসবাসের উপযোগী অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও সুবিধাভোগী কিছু স্থানীয় মহলের ইশারায় রোহিঙ্গারা বাসান চরে স্থানান্তরিত হওয়ার বিষয়টি অগ্রাহ্য করছে বারবার।

এদিকে, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ অবস্থানের ফলে নানা রকম আর্থসামাজিক সমস্যা তৈরি হচ্ছে। মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি দীর্ঘায়িত হওয়ায় শিবিরে রোহিঙ্গাদের দৈনন্দিন জীবনে সমস্যা ও বঞ্চনা বেড়ে চলেছে। রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে বৈষয়িক টানাপোড়েন ও মানসিক দূরত্ব বাড়ছে। বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার উপস্থিতির কারণে স্থানীয় পর্যায়ে জনসংখ্যাগত যে ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা ও স্থানীয়দের মধ্যে পারস্পরিক অসন্তোষ, সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তা ছাড়া, রোহিঙ্গাদের নানা রকম অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতাও ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে। জন্মনিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা, বাংলাদেশের পাসপোর্ট তৈরি করা, এমনকি ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তিকরণের তৎপরতায় তাদের লিপ্ত হওয়ার খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এসেছে। এই বিপুলসংখ্যক জনগোষ্ঠীর একটি আবদ্ধ স্থানে কর্মহীন অবস্থায় বসবাস করার কারণে তাদের মধ্যে একধরনের হতাশাও লক্ষ করা যাচ্ছে। অধিকন্তু রোহিঙ্গাদের অবস্থান আরও দীর্ঘায়িত হলে তা বাংলাদেশের জন্য একটি নিরাপত্তা ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

রোহিঙ্গাদের মধ্যে আছে এইডস আক্রান্ত মানুষ৷ বাংলাদেশে এখন কলেরা না থাকলেও রোহিঙ্গাদের মধ্যে রয়েছে সেই সমস্যাও৷ বন উজার হচ্ছে, পাহাড় কেটে ধ্বংস করছে তারা৷ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ঝুঁকিও আছে এর সঙ্গে৷ আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক সমস্যাও প্রকট হতে পারে, বাড়তে পারে নিরাপত্তা ঝুঁকিও৷ চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা থেকে শুরু করে হত্যাকান্ডেও জড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। তাদের হাতে ইতোমধ্যেই বেশকয়েক জন স্থানীয় অধিবাসী নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে, আহত হয়েছে অনেকেই। উখিয়া-টেকনাফ পাহাড়ি জনপদে গড়ে উঠেছে রোহিঙ্গা ডাকাতদের স্বর্গরাজ্য। কয়েকজন রোহিঙ্গা ডাকাত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে টেকনাফ পাহাড়ি জনপদের মূর্তিমান আতঙ্ক রোহিঙ্গা ডাকাত আব্দুল হাকিম। তাকে পাকড়াও করতে গিয়ে নিয়মিত হিমশিম খাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সন্ধ্যা নামলেই রোহিঙ্গা শিবিরগুলো পরিণত হয় অপরাধের স্বর্গরাজ্যে।

বিশ্বব্যাপি মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসের ঝুঁকিতে রয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো। মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ায় ৩৪টি শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী রোহিঙ্গা শিবিরে এ পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে৷

গত ৩১মে ৭১ বছরের এক বৃদ্ধা কোভিড-১৯ উপসর্গ নিয়ে মারা যান৷ পরে পরীক্ষায় জানা যায় তিনি করোনা পজেটিভ ছিল।

এমনিতেই রোহিঙ্গারা অসচেতন। করোনাভাইরাস বিশ্বাসই করতে চায় না। যায়নি।তারা সামাজিক দূরত্বও মানছেন না। রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এতে অভাবনীয় ক্ষতি হতে পারে স্থানীয় জনসাধারণের।

চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, অপহরণ, ধর্ষণ, মাদক ব্যবসা এবং এইডস ও করোনার সংক্রামণ সব মিলিয়ে এই সমস্যাগুলো কীভাবে মোকাবেলা করবে সেটা ঠিক করাই এখন আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির বড় চ্যালেঞ্জ৷

রোহিঙ্গা সংকট কি আদৌ সমাধান হবে নাকি হবেনা?
রোহিঙ্গারা কি দেশে ফিরে যাবে নাকি ফিরবেনা?
প্রশ্ন রয়ে গেল মনে!
কেবল সময়ই বলে দিতে পারে রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত কি।

 


লেখক :  প্রভাষক, ইতিহাস , কক্সবাজার সরকারি মহিলা কলেজ।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •