বিশেষ প্রতিবেদক:
কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের তুতোকখালী এলাকায় রাস্তা কার্পেটিংয়ের কাজে বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এতে এলজিইডি কর্তৃক সরকারের কোটি টাকার চলমান যেমন থমকে গেছে তেমনি এ বর্ষায় স্থানীয় প্রায় ১০ হাজার মানুষের চলাচলে দেখা দিয়েছে অনিশ্চিয়তা। তবে সড়কটি চলমান কাজ সচলে ও বাঁধাকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় মেম্বারসহ হাজার হাজার নারী পুরুষ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী অনিচুর রহমান বলেন, ঐ এলাকার মৃত: নুরুলহকের ছেলে তুমুল ১ কি: মি: সড়কটি একটি অংশে তাদের খতিয়ান ভুক্ত জায়গা পড়েছে বলে অভিযোগ দিয়ে চলমান কাজ বন্ধ করেছে। তবে এ বিষয়ে তাঁরা কোন প্রকার ডকোমেন্ট দেখাতে পারেনি। আর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ কখনো অধিগ্রহন করে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয় সড়ক করেনা। পুরনো সড়কের মধ্যে দিয়ে তাঁরা সংস্কার কিংবা কার্পেটিং এর কাজ করে। সে হিসেবে সেখানে কেউ বাঁধা তৈরি করতে পারেনা। বিষয়টি তাঁরা আইনি প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলেও জানান এই কর্তা। তিনি তিনি আশ্বস্ত করেন অবশ্যই এ সড়ক হবে।

জানা যায়, গ্রামকে শহরে পরিণত করার লক্ষে মানীয় প্রধানমন্ত্রীর যে ভিশন সে লক্ষে কাজ করছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উন্নয় প্রকল্পের আওতায় অন্যান্য গ্রামের ন্যায় কক্সবাজার সদর উপজেলার তোতকখালী ছয় ভাইয়ের পাড়ায় ১ কি:মি প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার একটি গ্রামীণ সড়কের উন্নয়নের কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কিন্তু প্রায় ৩০ বছরের পুরনো ব্রিকের রাস্তাটি এখন কার্পেটিং করতে গেলে বাঁধা প্রধান করে স্থানীয় প্রভাশালী মৃত নুরুল হকের ছেলে তুমুল। এতে সরকারের চলমান কাজ যেমন থমকে গেছে, তেমনি স্থানীয় প্রায় ১০ হাজার মানুষের যাতায়তে দেখা দিয়েছে অনিচ্ছিয়তা। চলমান রাস্তটি বাঁধাকারীদের কবল থেকে রক্ষা করে দ্রæত বাস্তবায়ন চাই স্থানীয়রা। এ নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশও করেছে স্থানীয় শত শত নারী পুরুষ। তাঁরা বলেন, বাঁধা না দিয়ে সড়কটির দ্রæত সংস্কার। এ বর্ষায় স্থানীয়দের যাতায়ত একেবারেই বন্ধ হয়ে যাবে।

এ বিষয়ে বাধা প্রধানকারী তুমুল বলেন, সরকারের উন্নয়নের পক্ষে তাঁরা। রাস্তাটি কার্পেটিং হলে যাতায়তের জন্য তাদেরও সুবিধা হবে এবং ঐ এলাকার জীবনমান আরো উন্নত হবে। তবে রাস্তাটির এক অংশে তাদের খতিয়ানি জায়গা পড়ায় তাঁরা বাঁধা দিচ্ছে, যেটি আইনি প্রক্রিয়াও চলছে। এছাড়া স্থানীয় মেম্বার তাজ উদ্দিন তাজমহল তাদের বিভিন্ন সময় নানা হুমকি-ধুমকি দিচ্ছে বলেই তাঁরাই রাস্তা ছাড়ছেনা বলেও মন্তব্য করেন।

স্থানীয় মুরব্বি নাজিম উদ্দিন বাবুল, রাহামত ছালাম, মাস্টার নুরুছলিম, আমির হামজ, দুলু আহম্মদ, মোহাম্মদ, মনির উজ জামান, রেজাউল হক, হেলাল, বেলাল, আবু ছৈয়দ, আবু শমা, আব্দু সমদ, মেম্বার প্রার্থী আনজু আরা, তৈয়বা বেগম, ফরিদা বেগম, রাশেদা বেগম, কালা, লায়লা, এলমন নাহার, পাভিন, কমলা বেগম, ভুতি, খুরশিদা, হাজারা বেগম, মোস্তফা খাতুন, আরফা বেগম, নজু আরাসহ শত শত নারী পুরু মানুষ জানান, এটি একটি ৩০ বছরের পুরনো রাস্তা। এই আধাপাকা, কাঁচা ও ভুঙ্গর রাস্তা দিয়ে যাতায়ত করতে তাদের জনম কষ্ট হচ্ছে। তাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুলে যেতে পারছে না। এখন যখন সরকার রাস্তটি কার্পেটিং করছে তখন এ এলাকার প্রভাবশালী তুমুলদের পক্ষ থেকে সড়কটি সংস্কার কাজে নানা বাঁধার সৃষ্টি করছে। তাঁর জন্য তারা প্রতিবাদ সমাবেশও করেছে। সড়কটি হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। না হয় এলাকার সমস্ত নারীপুরুষ আরো প্রতিবাদ সমাবেশ করে যাবে।

এ বিষেয়ে ইউপি মেম্বার তাজ উদ্দিন তাজমহলসহ স্থানীয় অনেকেই জানান, “এটি প্রায় ৩০ বছরের পুরনো একটি সড়ক। যেটি এতোদিন ধরে খানা-খদ্দে ভরা ছিলো। এতে স্কুল পড়–য়া শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের চলাচলে দুর্ভোাগের যেমন কোন সীমা থাকতোনা তেমনি প্রতি বর্ষায় বুকপরিমান পানিতে নিমিজ্জিত হয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে এলাকাবাসির দীর্ঘ দিনের দাবীর প্রেক্ষিতে কষ্ট করে সড়কটি কার্পেটিংয়ের ব্যবস্থা করেছে তিনি। এটি বাস্তবায়ন হলে প্রায় ১০ হাজার মানুষের চলাচল সুবিধা হবে পাশাপাশি অত্র এলাকার জীবন মানও উন্নত হবে।

এছাড়া তুতোকখালী-ভারুয়াখালী যাতায়তে আমুল পরিবতন ঘটবে। অর্থাৎ সবার জন্য এ সড়কটি অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রথম ধাপের আধা কি:মি এর কাজ সুস্থভাবে সম্পন্ন হলেও পুরো ১কি:মি সড়কের কাজ সম্পূর্ণ করতে গেলে স্থানীয় ফিরোজ সিকদার, বাহাদুর ও মৃত: নুরুল হকের ছেলে তুমুল চলমান সড়কের কাজে তাদের জায়গা পড়ছে দাবী করে বাঁধা প্রধান করে এবং টিকাদারকে মারধর করে সড়কটির কাজ স্থগিত করে দেয়। এতে স্থানীয়রা অসহায় হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, এরা স্বাধীনতা ও সরকার বিরুধী। সরকারে উন্নয়ন তাদের কখনো সহ্য হয় না। সরকারের যে কোন কাজে নুরুল হকের ছেলে তুমুল বাঁধা সৃষ্টি করে প্রায়স। এছাড়া তিনি আজ শুন্য থেকে কোটিপতি। এই টাকার উৎস কি তা খতিয়ে দেখার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদগ) এর হস্তক্ষে কামনা করেন তিনি। তাহলে তুমুল আগঙ্গুল ফুলে কলাগাছ কিভাবে হলো তলের বিড়াল বিরিয়ে আসবে বলে মন্ত্য করেছেন এ জনপ্রতিনিধি। এছাড়া সরকারের উন্নয়ন কাজে যারা বাঁধা দিচ্ছে জনগণকে সাথে নিয়ে তার দাঁতভাঙা জবাবও দিবেন বলে তিনি হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •