কনক বড়ুয়া শ্রাবনঃ
শুভ জন্মদিন আদর্শবাদী ও সাহসী সাংবাদিক ইমরুল কায়েস চৌধুরী।

সৎ, সাহসী, সত্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ট সাংবাদিকতায় তারুণ্যের পথিক তরুণ সাংবাদিক ইমরুল কায়েস চৌধুরী একটি উদাহরণ। তিনি মিডিয়া সমাজের অহংকার। দাপুটে সাংবাদিকতার অন্যতম ধারক-বাহক। তিনি আপোষহীন, সৎ এবং সাহসী সাংবাদিক। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় সবসময় অটল।

ইমরুল কায়েসচৌধুরী সাহসী সাংবাদিক হিসেবে কক্সবাজার জেলা তথা বাংলাদেশের জাতীয় সাংবাদিকসহ সর্বমহলেই অতি প্রিয় ও পরিচিত একটি মুখ। সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব, সততা ও সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা বিশেষ করে সাহস করে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ের উপর অনুসন্ধানি প্রতিবেদন তাকে নিয়ে এসেছে এক অনন্য উচ্চতায়। সাংবাদিকতা জীবনে আজও পর্যন্ত তিনি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। স্বার্থ, প্রলোভন, অর্থ, বিত্ত তাকে দমাতে পারেনি এখনো।

তার এই লোভহীন আর সাহসিকতার প্রশ্ন তুললে মনে পড়ে সেই ২০১৭ সালের ২৪ শে আগস্ট বৃহস্পতিবার রাতের কথা-

২০১৭ সালের ২৪ আগস্টে রাতে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালংয়ের নিজ বাড়ির সামনে বসে স্থানিয়দের সাথে আড্ডা দেওয়ার সময় নাম্বার বিহীন একটি পিকআপ লাইট বন্ধ করে তাদের সামনে দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। গাড়ির যাত্রীদের আচরণে তার সন্দেহ হলে তিনি স্থানিয়দের সহযোগীতায় গাড়ি সহ ৩ আরোহীকে আটকিয়ে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ এসে গাড়িতে তল্লাশি করে ১ কোটি ৩২ লাখ টাকার ৪৬ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে।

সুতরাং তার এমন ঘটনা চোখে পড়লে খুব সহজেই বুঝা যায় ইমরুল কায়েস চৌধুরী একজন সৎ সাহসী এবং লোভহীন সাংবাদিক। সাংবাদিক হিসেবে নয়, তিনি একজন সাধারন হিসেবে সবার প্রিয়।

তিনি শুধু একজন সাংবাদিক হিসেবে মানুষের পাশে থাকেন না, গণমানুষের বন্ধু হিসেবে মানুষের পাশে থাকেন। এই প্রশ্ন তুললে মনে পড়ে ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারীর কথা-

২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারী গণমানুষের কস্টের কথা ভেবে তাদের পাশে দাড়িয়েছেন সাংবাদিক ইমরুল কায়েস চৌধুরী। বলছি ১৩জানুয়ারী কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে অনুষ্টিত হওয়া নাগরিক আন্দোলনের কথা। যেই নাগরিক আন্দোলনের মুখপাত্র ছিলেন সাংবাদিক ইমরুল কায়েস চৌধুরী। এবং এ নিয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) সুনাম ক্ষুণ্নের অভিযোগ এনে তাকে লিগ্যাল নোটিশও দেন।

লিগ্যাল নোটিশের পর ইমরুল কায়েস চৌধুরী ২৩ জানুয়ারী সাহসের সাথে “আমার কন্ঠ রোধ করতে হলে আমাকে হত্যা করতে হবে” বলে স্ট্যাটাস দেন, নিম্নে তুরে ধরা হলো-

‘প্রিয় কক্সবাজারবাসী, সড়ক সংস্কারের আন্দোলন করায় কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চাইতে আলটিমেটাম দিয়েছে। ক্ষমা কার চাইতে হবে?’

কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের পক্ষে আইনজীবী এস এম শহীদুজ্জামান স্বাক্ষরিত লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, সড়ক সংস্কার নিয়ে ফেইসবুকে লেখার জন্য ইমরুল কায়েসেকে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নিকট ক্ষমা চাইতে হবে। ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে ২০ কোটি টাকার মানহানি মামলা ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনে মামলা করা হবে।

উক্ত নোটিশের কপির ছবি তুলে ২৫ জানুয়ারি ফেইসবুকে পোস্ট করে ইমরুল কায়েস লিখেছেন, ‘কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ আমার বিরুদ্ধে মামলাটা কখন করে সেই অপেক্ষায় আছি। আমার অধিকার আদায়ে আপনার এই মামলা আমাকে আরো অনুপ্রাণিত করবে। আমার কন্ঠ রোধ করতে হলে আমাকে হত্যা করতে হবে।’

সাংবাদিক ইমরুল কায়েস চৌধুরী তার চলমান সাংবাদিকতা জীবনে বিভিন্ন অসহায় মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ে অসংখ্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা সহ টেলিভিশনের পর্দায় তুলে ধরেছেন। কক্সবাজার জেলার নিপীড়িত, লাঞ্ছিত মানুষের ন্যায্য অধিকার নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন লিখে সহস্র মানুষের চিকিৎসা, বাসস্থান ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি অনেক দুঃসাহসি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। তা বলতে গেলে শেষ হবে না এই লেখা।

তার অসংখ্য অনুসন্ধানী অপরাধমূলক রিপোর্ট প্রকাশের পর অনেক সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী বদলি ও সাসপেন্ড হয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে অসংখ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির।

তার লেখা ফেইজবুক স্ট্যাটাস আর সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন এলাকায় নির্মিত হয়েছে ব্রিজ, কালভার্ট। সংস্কার হয়েছে ভেঙ্গে যাওয়া বা অচল রাস্তাঘাট।

কনক বড়ুয়া শ্রাবন
ক্ষুদ্র সংবাদকর্মী।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •