মুহাম্মদ জামাল উদ্দিনঃ
আল্লাহ আমরা পাপী-গুনাগার। তোমার সত্যবাদী বান্দার কোন অভাব নাই। আমরা গুটিকয়েক বান্দা না হলেও তোমার কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু আমাদের রব, আল্লাহ, রহমানুর রহিম তুমি শুধুই একজন। তুমি মুখ ফিরিয়ে নিলে আমরা কোথায় যাব?আমাদেরকে রহম কর। এই করোনার আজাব থেকে আমাদের মুক্তি দাও। দুনিয়ার শুরু থেকে আজ অবধি নাফরমান আর অকৃতজ্ঞদের কারণে শতশত বার আসমানী গজব নাজিল হয়েছে। কালের সাক্ষী হিসাবে তা বর্তমান দুনিয়াতে বিরাজমান আছে। মানবজাতি হিসাবে আমরা শিক্ষা গ্রহণ করি নাই। আজকের চিন্তার বিষয় দুনিয়া নিয়ে নয়।
প্রিয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর নিয়ে পর্ষালোচনা। বৃটিশদের গোলামী আর পাকিস্তানিদের শোষণের ৫০ বছর পরও আমরা নাগরিক হিসাবে অভিভাবকহীন। চার পাশে হ ষ ব র ল অবস্থা। ‘যে যায় লংকায়, সে হয় রাবণ’ অবস্থায়। আমাদের সমসাময়িক সময়ে স্বাধীনতা অর্জনকারী দেশ মালয়েশিয়া বাংলাদেশকে পিছনে ফেলে একশত বছর সামনে এগিয়েছে। যখন যে সেক্টরে অনিয়ম হয়, তখনই দেখা যায় লংকা কান্ডের। যিনি ক্ষমতার সিংহাসনে থাকেন, তাহাকে এতোটাই তৈল মারা হয় যে, সে বুঝতেই পারে না কে আপন কে পর?
মাঠ পর্যায়ে কিছু পরগাছা তৈরি করা হয়, নেতা কর্মী নামের কীটপতঙ্গ। দেশ রসাতলে গেলেও দলীয় আনুগত্য অটুট রাখে। করোনা মহামারিতে সামনে আসল স্বাস্থ্যসেবা খাত। বিভাগীয় ও জেলা সদর হাসপাতালে আইসিইউ সেবা নাই। শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রী, সচিব ও আমলারা আস্বস্ত করল।
বললো- করোনার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আমরা জাতি হিসাবে করোনার চাইতেও শক্তিশালী, প্রধানমন্ত্রী থাকলে করোনা আমাদের কিছুই করতে পারবে না।’
যতসব শিরকি কথা। ভাবতে অবাক লাগে সাবেক অনেক মন্ত্রী, এম পি ও নেতা আইসিইউ সেবা না পেয়ে মারা যাচ্ছে। শত শত কোটি টাকার বাজেট, যারা বাজেট করে তাদের কাজে আসল না।
আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় কান্নাকাটি করে নেতাদের স্বাস্থ্য সেবা নিতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নজরে না আসলে ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। কেন? স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সময় নিয়ে দেশ শাসন করার আগেই ঘাতকের নিকট পরাজিত হল।
তিনি বলেছিলেন, এই দেশের আমলা ও পরিচালকরা হল সেবক। কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের টেক্সের টাকায় আমলরা মাইনা পায়। নাগরিকদের সাথে প্রভূর আচরন নয়,সেবকের আচরণ করতে হবে। তার বিদায়ের পর নাগরিকদের অধিকার নিয়ে ঘাতকেরা আর কাহাকেও দায়িত্ব পালন করতে দিল না। যার কারণে এই রাষ্ট্রের সংস্কার হল না। রাষ্ট্রের সকল বিভাগ দুর্নীতির আখড়া। স্বাস্থ্যসেবা খাতের অবস্থা হ ষ ব র ল। সাধারণ জনগনের কি দোষ দেব? একটি দেশ যখন ধারাবাহিক ভাবে দুর্নীতিবাজদের দ্বারা শাসিত হয়, তখন সরকার প্রধানের করার কিছু থাকে না। তাই দেশকে এই অরাজকতা থেকে মুক্তি দিতে হলে একনিষ্ঠ দেশ প্রেমিকদের এক কাতারে আসতে হবে।দলীয় সরকার দিয়ে এই রাষ্ট্র সংস্কার হবে না প্রমাণিত। ভারতপন্থি মুক্তিযোদ্ধা আর পাকিস্তানপন্থি রাজাকার চিন্তাভাবনা বাদ দিয়ে আমরা সবাই ‘বাংলাদেশ পন্থী’ হিসেবে শপথ নিতে হবে।
স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও জনগনকে ভাগ করার কোন কারণ দেখি না। নৈতিকতা ও আদর্শ চরিত্রের অধিকারী মানসম্মত আমলা তৈরী করতে হবে। ইসলামী ও ধর্মীয় মনস্তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী তৈরী করে দায়িত্ব দিতে হবে। এখানে ধর্মীয় বলতে ইসলামকে বুঝানো হয়নি। সকল ধর্ম মানবিক। তা না হলে এই জাতি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।
এই দুনিয়াতে আল্লাহর গজব আসবেই।সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা সভা, সমাবেশ, সেমিনার শুরু করে আল্লাহর নাফরমানী দিয়ে। ভুলেও স্বীকার করে না আল্লাহর রহমতের বাহিরে আমরা চলতে পারি না। যেকোন কাজ আল্লাহর নামে শুরু করে তারই নামে শেষ করতে হবে।
একটি দেশের সরকার প্রধানের গুনগান করতে গিয়ে যেন শিরক করে না বসি। আমাদের সকলকে আল্লাহর পথে ফিরে আসতে হবে।
আমি যে দায়িত্বই পালন করিনা কেন মনে রাখতে হবে সরকার নয় স্বয়ং আল্লাহ আমাকে মনিটরিং করছে। রেকর্ডিং হচ্ছে আমার সকল কাজ। বিচারের আওতায় আনা হবে সকলকে। আমার সামনে পেশ করা সকল আমলনামা।
যে দুনিয়ায় সামান্য সর্দি, কাশি, জ্বর হলে প্রিয়জনরা দূরে চলে যায় তাদের জন্য চুরি, ডাকাতি ও দুর্নীতি করে সম্পদের পাহাড় গড়ে কি লাভ?
এমন বদ নসিব- আমাদের প্রকাশ্যে জানাজা নসিব হয় না। নিজ কবরস্থানে দাপন হয়না। আমি, আপনি বা আমাদের অনিয়মের আজাব আজকে সকলকে ভোগ করতে হচ্ছে। ফিরে আসুন সিরাতুল মুসতাকিমের পথে। ইসলামের সুমহান ছায়াতলে।
আপনি কিভাবে ফিরে আসবেন তার বিশদভাবে বর্ণনা এখানে সম্ভব নয়। লাল-সালুতে আবৃত কোরআনটি আজকে থেকে অর্থসহ তেলাওয়াত করতে শুরু করুন।
সুরা বাকারার ২ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ বলেন, জালিকাল কিতাবু লারাইবা ফিহি হুদাললিল মুত্তাকিন। তথা এই সেই কিতাব, যাতে কোন প্রকার সন্দেহ নেই। মুত্তাকীদের জন্য এখানে রয়েছে হিদায়াত।

-মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন
সেক্রেটারি
কক্সবাজার মাদানি ফোরাম
মদিনা আল মনোয়ারা, সৌদি আরব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •