এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া :

চকরিয়া উপজেলার উপকুলীয় জনপদের বদরখালী থেকে করিয়ারদিয়া পয়েন্টের ফেরিঘাটটি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে চলতি ১৪২৭ বাংলা সনে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন থেকে বৈধ ইজারাদার বিবেচিত মোহাম্মদ রুবেল। সরকারি নীতিমালার আলোকে পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) থেকে ইজারদার রুবেলকে ওই ফেরিঘাটের পণ্য উঠা-নামার টোল আদায়ের জন্য কার্যাদেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ।

ইতিমধ্যে ফেরিঘাটটি ইজারা প্রাপ্তির দুই মাস সময় অতিবাহিত হলেও এখনো সেখানে টোল আদায় এবং ঘাটের রক্ষনা-বেক্ষণা যেতে পারেনি জেলা প্রশাসনের বৈধ ইজারাদার মোহাম্মদ রুবেল। অভিযোগ উঠেছে, টোল আদায় এবং রক্ষনা-বেক্ষনের ক্ষেত্রে বৈধ ইজারাদার রুবেল এবং ঘাটের সংশ্লিষ্ট সবাইকে জিন্মি করে রেখেছেন উপকূলীয় এলাকার ত্রাস, আলোচিত মঈনুদ্দীন হত্যা মামলার প্রধান আসামি আলী আকবরের নেতৃত্বে একটি চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী চক্র।

এই সুযোগে গত দুইমাস যাবত চাঁদাবাজ সন্ত্রাসী চক্রটি ফেরীঘাট থেকে টোল আদায় বাবত প্রতিদিন হাতিয়ে নিচ্ছেন হাজার হাজার টাকা। চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসী দলের বেপরোয়া তৎপরতায় সরকারিভাবে টোল আদায় করতে পারছেন না বদরখালী টু করিয়ারদিয়া ফেরিঘাটের (বিলুপ্ত লঞ্চঘাট) বৈধ ইজারাদার মোহাম্মদ রুবেল।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার উপকুলীয় জনপদের বদরখালী থেকে করিয়ারদিয়া পয়েন্টের ফেরিঘাটটি চলতি ১৪২৭ বাংলা সনে বৈধভাবে লিজ পেতে সরকারি কোষাগারে ৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন ইজারাদার রুবেল।

একইসঙ্গে ঘাটটি বৈধভাবে ইজারা পেতে এবং ঘাটের বেশ কিছু উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নে আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ সর্বমোট প্রায় ১২ লাখ টাকা খরচ করেছেন তিনি। কিন্তু অব্যবহিত সময়ে তিনি ওই ফেরিঘাট থেকে এক টাকাও টোল আদায় করতে পারেননি। ফেরিঘাটের ইজারাদার অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

বদরখালীর বাসিন্দা ফেরীঘাটের বৈধ ইজারাদার মো. রুবেল বলেন, দরপত্রে অংশ নেওয়ার পর সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বদরখালী থেকে করিয়ারদিয়া পয়েন্টের সায়রাত মহাল (ফেরীঘাট) হিসেবে আমাকে ইজারাদার হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে পূর্ববড় ভেওলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মো. আবুল মনসুর টোল আদায়ের জন্য ঘাটটি বুঝিয়ে দেন।

ইজারাদার মো. রুবেল অভিযোগ করে বলেন, দুইমাস আগে পহেলা বৈশাখ (১৪ এপ্রিল) ঘাটটি বুঝে নেওয়ার পর পর খুনের মামলার আসামি আলী আকবরের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ ঘাটটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। প্রকাশ্যে এসব সন্ত্রাসীর অপতৎপরতায় তার প্রতিনিধি সেই ঘাটে এক মুহূর্তের জন্যও অবস্থান করতে পারেনি। এই অবস্থা অব্যাহত রয়েছে ইজারা প্রাপ্তির পর থেকে।

তিনি অভিযোগ করে আরো বলেন, ‘বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খাইরুল বশরের ইন্ধনে হত্যা মামলার প্রধান আসামি আলী আকবরসহ একদল সন্ত্রাসী ফেরিঘাটটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অবৈধভাবে টাকা তুলছেন। এতে বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমার প্রতিনিধিকে ঘাট এলাকা থেকে তাড়িয়ে দিয়ে প্রাণে হত্যার হুমকি দেন। এ নিয়ে ইজারাদাতা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করলেও এখনো কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

এমনকি বিষয়টি নিয়ে চকরিয়া থানায়ও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। সেই অভিযোগের পর বদরখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) সুজন সেন উভয়পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকেও কোনো সুরাহা হয়নি। ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার জন্য দুই দিন সময় নিয়েছেন পুলিশের আইসি।’

বদরখালী পুলিশ ফাঁড়ির আইসি এসআই সুজন সেন বলেন, ‘স্থানীয় একটি মাদরাসার এতিম শিক্ষার্থীদের ব্যয় নির্বাহের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ঘাট এলাকা থেকে পণ্য উঠা-নামার সময় টাকা উত্তোলনের জন্য একটি অনুমতি পত্র দিয়েছেন। তার পরও যদি এখানে জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে কাউকে বৈধ ইজারাদার নিয়োগ করা হয় তাহলে তা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

অভিযোগ প্রসঙ্গে বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খাইরুল বশর বলেন, ‘আমি যখন প্রথম চেয়ারম্যান হই, তখন স্থানীয় একটি মাদরাসার আবেদনের প্রেক্ষিতে ব্যয় নির্বাহের জন্য ফেরীঘাট এলাকা থেকে চাঁদা তোলার অনুমতি পত্র দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই অনুমতি দেওয়া হয়েছিল ২০১৬ সালে। এরইমধ্যে যদি জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে কাউকে বৈধ ইজারাদার নিয়োগ করেন, তাহলে আমার দেওয়া অনুমতি পত্রের কোনো বৈধতা নেই।’

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, ‘বদরখালী টু করিয়ারদিয়া ফেরিঘাটটি যদি জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে কাউকে ইজারা দিয়ে থাকেন, তাহলে তিনিই বৈধ ইজারদার এবং টোল আদায় করতে পারবেন।

তিনি বলেন, এখন যদি কেউ বৈধ ইজারদারকে টোল আদায়ে ফেরীঘাটে যেতে বাঁধা দেন কিংবা প্রতিবন্ধকতা করেন তবে ইজারাদারকে প্রশাসন থেকে সহায়তা দেওয়া হবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •