আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
করোনাভাইরাসে সংক্রমণ এবং মৃত্যু লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও লকডাউন প্রত্যাহারে পাকিস্তান সরকারের নেয়া পদেক্ষেপের পক্ষে সাফাই গেয়ে জনগণকে এই ভাইরাস সঙ্গী করেই বাঁচার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

প্রাথমিকভাবে অর্থনৈতিক মন্দা এড়াতে করোনাভাইরাসের কারণে জারিকৃত লকডাউনের সব নিষেধাজ্ঞা প্রায় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। খুব শিগগিরই দেশটির পর্যটন খাত তুলে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে সিনেমা হল, থিয়েটার ও স্কুল বন্ধই থাকবে।

২২ কোটি মানুষের দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৭২ হাজার ১৬০ জনকে করোনা আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং মারা গেছেন এক হাজার ৫৪৩ জন।

করোনায় থমকে যাওয়া পাকিস্তানের অর্থনীতিতে ধাক্কা এসেছে রফতানি, রাজস্ব ও রেমিট্যান্স খাত থেকে। আগামী কয়েক মাসে দেশটির রাজস্ব ও রেমিট্যান্স প্রবাহ প্রায় ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে ইমরান খান বলেছেন, লকডাউনের কারণে যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা অন্যান্য দেশের মতোই তার ভার বহন করতে পারবে না পাকিস্তান।

দেশটির দারিদ্রসীমার নিচে বসবাসকারী ৫ কোটি ও দিনমজুর শ্রেণির আড়াই কোটি মানুষের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে পাক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র জনগোষ্ঠীকে সরকার নগদ অর্থ সহায়তা দিয়েছে। কিন্তু এত ব্যাপকসংখ্যক মানুষকে এই সহায়তা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। লকডাউনের কারণে দেশের ১৩ থেকে ১৫ কোটি মানুষ সরাসরি প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

ইমরান খান বলেন, আমাদের যে অবস্থা তাতে এই নগদ অর্থ সহায়তা অব্যাহত রাখতে পারছি না। আমরা তাদেরকে কত সময় এই অর্থ দিতে পারবো? তিনি দেশের জনগণকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান। দেশটিতে করোনায় আরও অনেক মৃত্যু এবং সংক্রমণ অনিবার্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ক্রিকেট তারকা থেকে পাক প্রধানমন্ত্রী বনে যাওয়া ইমরান খান বলেন, এই ভাইরাস আরও বেশি ছড়াবে। দুঃখের সঙ্গে আমাকে বলতে হচ্ছে, দেশে আরও অনেক মানুষ মারা যাবে। কিন্তু মানুষ যদি একটু সতর্ক হয়, তাহলে তারা ভাইরাসটিকে সঙ্গী করেই বাঁচতে পারবেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •