এফ এম সুমন, পেকুয়া:

পিতা মরণব্যাধী ক্যান্সারে আক্রান্ত। শেষ অবস্থায় বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা ইন্ডিয়া নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেন। যখনি পিতাকে অপারেশন করানোর জন্য ইন্ডিয়া নিয়ে যাওয়ার কথা হলো ঠিক তখনি আফরোজার এসএসসি পরিক্ষা শুরু হবে। এদিকে পিতার অবস্থা সংকটাপন্ন। মা সাবিনা ইয়াসমিন ঝিনু তার স্বামীকে নিয়ে ইন্ডিয়া রওনা হলেন তখন যেন আফরোজা সোলতানা প্রিয়ার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। এদিকে বাড়িতে দেখার মতো কেউ নেই অন্যদিকে বাবার অবস্থা ও অবনতির দিকে। মা ও চলে গেলেন বাবার চিকিৎসা করাতে ইন্ডিয়া। সব মিলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে প্রিয়া।এদিকে এএসসি পরিক্ষা শুরু হয়ে গেলো। সেই পরিক্ষায় অংশ নিয়ে আফরোজা সোলতানা প্রিয়া সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। সে পেকুয়া সরকারী জিএমসি স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগের হয়ে অংশ নিয়ে গোল্ডেন এ প্লাস অর্জন করেছেন এবং উপজেলায় ১২১৬ নাম্বার পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তার এই সাফল্যে সবাই হতবাক। প্রিয়া পেকুয়া উপজেলা মহিলাদল নেত্রী সাবনিা ইয়াসমিন ঝিনু ও বাদশা মিয়ার দ্বিতীয় কন্যা। সে প্রতিটি পরিক্ষায় অসাধারণ ফলাফল অর্জন করেন। সে জেএসসিতে উপজেলার প্রথম স্থান ও পিএসসিতে জেলার প্রথম স্থান লাভ করেছিলেন। তার মা সাবিনা ইয়াসমিন জিনু বলেন, আমার মেয়ে চরম একটি খারাপ সময়ে পরিক্ষায় অংশ নেয় এই রকম খারাপ সময় মানুষের জীবনে বার বার আসেনা। তার বাবার অবস্থা দিনদিন অবনতি হচ্ছে। তিনি তার মেয়ের জন্য দোয়া ও তার স্বামী বাদশা মিয়ার সুস্থতার জন্য দোয়া চান সবার কাছে। এদিকে তার এই সাফল্যে পেকুয়া সরকারী জিএমসি ইনষ্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক জহির উদ্দিন বলেন, আমরা আসলেই প্রিয়ার সাফল্যে অবিভুত কেনানা সে যখন পরিক্ষা দিচ্ছিলো তখন তার বাবার অবস্থা খুব খারাপ। এসময়ে পরিক্ষায় অংশ নিয়ে গোল্ডেন এ প্লাস এটি সত্যিকার অর্থে মেধার পরিচয় বহন করে। এব্যাপারে পেকুয়া উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার (ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার) উলফাৎ জাহান চৌধুরী বলেন, প্রিয়া একজন মেধাবী ছাত্রী তার বাবার অসুস্থার অবস্থায় এতবড়ো সাফল্য আসলেই প্রশংসার দাবী রাখে। তাকে আমি চিনি সে সব বিষয়ে মেধাবী । সে পড়াশোনার বাইরেও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও বিচরণ করে তাকে আমি উপজেলা পর্যায়ে প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার নিতে দেখেছি। তিনি তার সাফলে শুভেচ্ছা জানান। এদিকে আফরোজা সোলতানা প্রিয়াও তার জন্য ও অসুস্থ তার বাবার জন্য সকলের নিকট দোয়া চেয়েছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •