নুরুল হক বুলবুল

 

সদ্য প্রকাশিত ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল আবারো প্রমাণ করে দিলো শিক্ষার্থীর মেধা রীতিগত পরীক্ষা ও খাতা মূল্যায়নের মাধ্যমে যথাযথ নির্ণয় করা যায় না। আমরা বিশেষ করে শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জনটাকে যতটুকু গুরুত্ব সহকারে দেখি সেটা আসলে কতটুকু যৌক্তিক? অন্যান্য বারের মতো এবারও দেখা গেলো অনেক ভালো মানের শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ থেকে সামান্যের জন্য ছিটকে পড়েছে। অথচ তার চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম মেধাবী শিক্ষার্থী ঠিকই তার ঝুলিতে জিপিএ-৫ ভরেছে। এটা নিয়ে হতাশা ও উৎকণ্ঠায় ঘুম হচ্ছে না মেধাবী শিক্ষার্থীদের যাদের সামান্যের জন্য জিপিএ-৫ হাতছাড়া হয়েছে। এটা হওয়াই স্বাভাবিক।

আমরা অনেকে বলি ফলাফল কখনো একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত মেধাকে মূল্যায়ন করতে পারে না। কথাটি ঠিক। ঠিক এমনে বলে স্বান্তনা দিলে হবে না, এর জন্য চাই কিছু উৎকৃষ্ট প্রমাণ। নিশ্চয়ই বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের কথা শুনেছো, পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত ও সফল বিজ্ঞানীদের একজন তিনি। তিনি এতটাই সফল যে, ‘বিজ্ঞানী’ শব্দটা মাথায় আসলেই বেশিরভাগ মানুষ তাঁর কথা ভাবেন। পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম সেরা মেধাবী বলা হয় তাঁকে। কিন্তু ১৮৭৯ সালে জন্ম নেয়া এই জার্মান জিনিয়াসকে একটা সময় পর্যন্ত গর্ধভ মনে করা হত। কিছুতেই তিনি ভালো ছিলেন না। কথা বলা শিখতেই তাঁর ৪ বছর লেগেছিলো। পড়াশুনায় ছিলেন একদম কাঁচা। ১৬ বছর বয়সে জুরিখের সুইস ফেডারেল পলিটেকনিক স্কুলের ভর্তি পরীক্ষায় শোচনীয় ভাবে ফেল করেন।

ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ে প্রতিটি বিষয়ে তিনি এতই বাজে রেজাল্ট করতেন যে, একাধিক বার পড়াশুনা বাদ দেয়ার চিন্তা করতে হয়েছিল। মারা যাওয়ার সময়ে তাঁর বাবার একমাত্র দু:খ ছিল যে এই গর্ধভ ছেলে জীবনে কিছুই করতে পারবে না। বাবার এই কথায় আইনস্টাইন বহুদিন ধরে মনে কষ্ট চেপে রেখেছিলেন।

তেমনি ভাবে আলি বাবা’র প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা অনেক পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়েছেন, কিন্তু হাল ছেড়ে দেন নি। বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের কথা বলা যায়। আমাদের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক ড. জাফর ইকবাল জীবনে কোনো পরীক্ষায় জিপিএ-৫ বা ফার্স্ট ক্লাস অর্জন করতে পারেন নি, কিন্তু তিনিও সফল। যাহোক, এরকম হাজারও উদাহরণ দেওয়া যাবে। তাই নিজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কখনো মন খারাপ করার কিছু নেই। নিজেকে কখনো ছোট করা যাবে না। নিজে যা জানো তা নিয়ে তৃপ্ত থাকতে হবে, সামনে এগিয়ে যেতে হবে অবিচল। ফলাফলের ব্যর্থতা ভুলে গিয়ে তোমরা এগিয়ে যাও সামনের দিকে। তোমাদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতাকে পথ করে দাও দুশ্চিন্তা দূর করে। দেখবে সাফল্য ঠিকই সঠিক সময়ে পরিপূর্ণ ভাবে ধরা দেবে, আলো ছড়াবে স্ফুলিঙ্গের মতো।

শুভ হোক তোমাদের পথচলা। অবিরাম ভালোবাসা রইলো তোমাদের জন্যে।

.

-সহকারি শিক্ষক (ইংরেজি)

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •