শফিকুল ইসলাম নয়ন

“Failure is the pillar of success”
-কথাটাতে ভিষণ বিশ্বাসী আমি।
হয়তো ব্যতিক্রমী হবে, তবে প্রথমে অভিনন্দন তাদেরকে জানাবো, যারা ইতিমধ্যে প্রকাশিত এসএসসি ২০২০’ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি বা আশানুরূপ ফলাফল আসেনি।

যারা উত্তীর্ণ হতে পারে নাই তাদের হয়তো লজ্জায় মুখ দেখাবার জায়গা পাচ্ছে না, দুঃখে ভারাক্রান্ত হৃদয়ে পড়ে আছে কোনোখানে,অশ্রুসিক্ত আর ভাঙ্গা মন নিয়ে পড়ে আছে ঘরে কোন এক কোনায়। এমনও হতে পারে এসময়ে জীবনের সবচেয়ে বড় ভূল সিদ্ধান্তটি নিতে তারা দ্বিধা করে না। এটি অসম্ভব কিছুই নয়। প্রথমে বলবো সৃষ্টিকর্তা যা করে তা নিশ্চয় মঙ্গলের জন্য করে। তারপর বলব একটি কাগজ কখনো কারো ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারেনা।

আজকের দুনিয়ায় যারা যত বেশি সফল তাদের ব্যর্থতার গল্প কিন্তু কমতি নেই।

“যারা ফেল করেও আজ সফল”

▪৩৩তম বিসিএস ক্যাডারে প্রথম হওয়া ব্যক্তিটি কিন্তু টানা দুইবার এসএসসিতে অকৃতকার্য হয়েছিল।

▪গত ২৭মে Dhaka FM স্টুডিওতে আসছিল অধ্যাপক গৌরাঙ্গ চন্দ্র দেবনাথ স্যার। বর্তমানে ডেফোডিল ইউনিভার্সিটির বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট হেড। তিনিও কিন্তু টানা দুইবার এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করার পর নতুন ভাবে ইন্টারে এডমিশন নিয়ে তৃতীয়বার পরীক্ষা দিয়ে বোর্ডে ফার্স্ট হয়েছিল।

▪আলবার্ট আইনস্টাইন। পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত ও সফল বিজ্ঞানীদের একজন তিনি। তিনি এতটাই সফল যে, ‘বিজ্ঞানী’ শব্দটা মাথায় আসলেই বেশিরভাগ মানুষ তাঁর কথা ভাবেন। পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম সেরা মেধাবী বলা হয় তাঁকে। ১৬ বছর বয়সে জুরিখের সুইস ফেডারেল পলিটেকনিক স্কুলের ভর্তি পরীক্ষায় শোচনীয় ভাবে ফেল করেন। ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ে প্রতিটি বিষয়ে তিনি এতই বাজে রেজাল্ট করতেন যে, একাধিক বার পড়াশুনা বাদ দেয়ার চিন্তা করতে হয়েছিল।কিন্তু একটা সময়ে এই মানুষটাই পৃথিবীর চেহারা পাল্টে দিয়েছেন। তাঁর সেই ‘ডাল ব্রেন’ নিয়ে তিনি পদার্থ বিজ্ঞানের বেশ কয়েকটি মূল সূত্র সৃষ্টি করে গেছেন। বিজ্ঞানে অবদানের জন্য নোবেল প্রাইজ জিতেছেন। প্রমাণ করেছেন যে চেষ্টা করলে সবাইকে দিয়েই সবকিছু সম্ভব।

▪জ্যাক মা। আলিবাবা প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মা – এর সম্পর্কে নতুন করে কিছু বলার নেই। সবাই জানেন যে চীনের এই ধনকুবের ব্যবসায়ী একদম সাধারণ অবস্থা থেকে উঠে এসে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী আর বিখ্যাত মানুষদের একজন হয়েছেন। গড়ে তুলেছেন আজকের দুনিয়ার সবচেয়ে বড় কোম্পানীগুলোর একটি। আর এই অসাধারণ সফল মানুষটির ব্যর্থতার গল্প যেন একটি ট্রাজেডি সিরিয়াল।

কলেজে ভর্তি হবার সময়ে ৩ বার ভর্তি পরীক্ষায় ফেল করে ৪র্থ বার সুযোগ পান। এরপর চাকরি করতে গিয়ে বহুবার বার ব্যর্থ হন! পুলিশে ১০ জন পরীক্ষা দিয়ে ৯জন চাকরি পেল, বাদ পড়লেন জ্যাক। কেএফসিতে ২৪ জনের মধ্যে জ্যাক ছাড়া ২৩ জনের চাকরি হলো। হার্ভার্ডে ১০ বার চেষ্টা করেও তিনি সুযোগ পাননি। এভাবে অনেক ব্যর্থতার পর চেষ্টা করতে করতে অবশেষে তিনি আলিবাবা প্রতিষ্ঠা করে সাফল্য পান।

এইরকম গল্পের কিন্তু কমতি নেই, আমি শুধু আমাদের বাংলাদেশের দু’জন আর বর্হিবিশ্বের দু’জনের উদাহরণ দিয়েছি মাত্র।

যে কোনো কাজ এবং পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পেছনে কিছু কারণ থাকে। এটাই স্বাভাবিক। হতে পারে চেষ্টায় ঘাটতি, পারিপার্শ্বিক অবস্থা কিংবা অভিভাবকের যথাযথ দায়িত্ব পালনে ঘাটতি। আবার এটাও মাথায় রাখতে হবে যে, সব কাজে একবারের চেষ্টায় সফলতা এলে পৃথিবীতে অকৃতকার্য বলে কোনো শব্দ থাকত না। আর প্রত্যেক মানুষ নিজের মতো একটা করে পৃথিবী বানিয়ে নিতেন। এতে মানুষ অলস হয়ে পড়তেন। নতুন কিছু করার চেষ্টাও করতেন না।

কিন্তু এখন অকৃতকার্য হওয়ার ভয়ে পরিশ্রম করে মানুষ। নিজের সর্বোচ্চ শ্রম দিয়ে লক্ষ্য পূরণের পথে হাঁটে। তাই মাথায় রাখতে হবে, ফেল বা অকৃতকার্য মানেই ব্যর্থতা নয়। একবার কোনো কাজে অকৃতকার্য হওয়া মানে রাজ্যের সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়ে যাওয়া। তাই নতুন উদ্যমে শুরু করাই গুরুত্বপূর্ণ।

সর্বশেষে উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীদের আন্তরিকভাবে অভিনন্দন জানাই। সাথে সুন্দর ভবিষ্যত কামনা করি। যেন আগামীর ধাপ গুলো পর্যায়ক্রমে সফলতার সাথে অতিক্রম করতে পারো।

লেখক: শফিকুল ইসলাম নয়ন
শিক্ষার্থী: কক্সবাজার পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •