মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনঃ
প্রচার, প্রচারণায় আমাদের দলীয় নেতাদের চরিত্র যেন ফুলের চাইতে পবিত্র! আসলে কি তেমনটি?
যারা যুগে যুগে ক্ষমতার মসনদে থেকে আঙুল ফুলে কলাগাছ হল তাদের এমন কোন নেতা মিলবে না, যে কোটি টাকার মালিক হয় নি।
টাকা ও অবৈধ সুযোগ সুবিধা দিয়ে তেলবাজ কর্মী তৈরি করে প্রচারনা চালিয়ে আমাদের বারোটা বাজায়।
সমাজে দূর্বলের কোন বিচার নাই। ক্ষমতাবানের বিরুদ্ধে কথা বললে আপনাকে অপমানিত করবে। সমাজ থেকে তাড়ানো হবে। শক্তিমান ব্যক্তির কারণে সমাজ আপনার পক্ষে থাকবে না।
বহুমুখী গুনের অধিকারী নেতাগুলো তখন মজলুমের পক্ষ না নিয়ে জালিমের সাথে হাত মিলায়। কথাগুলো অপ্রাসঙ্গিক!
আজকে আমার আলোচনার বিযয় কিন্তু ভিন্ন।
বছরের পর বছর, শতাব্দির পর শতাব্দি যখন আমরা এভাবে নিজেদেরকে সকল ক্ষমতার মালিক মনে করলাম, তখন মজলুমের আর্তনাদ-ফরিয়াদ আল্লাহ কবুল করে নিলেন। প্রকাশ্য দিবালোকে জালিমদের অত্যাচার আল্লাহ সহ্য করলেন না।
পৃথিবীর দেশে দেশে মসুলমানদের উপর বেদ্বীনদের নির্যাতন সীমাহীন। আবার ইহুদি খৃষ্টানের চেয়ে মুসলিম শাসকদের দ্বারাও হয়েছে। এখনো তা অব্যাহত। সাময়িক ক্ষমতাবানরা এই ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ এবং চূড়ান্ত মনে করে। তাই ‘করোনা’ নামক ভাইরাসে পৃথিবীতে আল্লাহর হুকুমত বাস্তবায়িত হল। শুরুতে দুনিয়ার রাজা বাদশাহরা নিজের শক্তিতে মোকাবেলার সাহস দেখালেও শেষ পর্ষন্ত আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণ করল। তবে, যেভাবে ফিরে আসা দরকার আমরা সেভাবে এখনো ফিরে আসি নি।
নিজেদের সকল শক্তি দিয়ে মোকাবেলা করেও পৃথিবী স্তব্ধ। লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণহানী আমাদেরকে আল্লাহর নিকট যেভাবে আত্মসমর্পণ করা দরকার সেভাবে আমরা করিনি।
‘আল্লাহ সকল ক্ষমতার মালিক’- তা আমরা এখনো স্বীকার করে মানব গড়া মতবাদ ত্যাগ করতে পারিনি।
‘ইসলামই একমাত্র পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা’ -ঘোষণা দিতে পারিনি। নেফাকি রয়ে গেছে নিজেদের ভেতরে।
মদ,গাঁজা, অন্যায়,অভিচার ত্যাগ করিনি। অনিয়মে অর্জিত সম্পত্তি রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা করিনি। খুন-গুমের রাজনীতি পরিহার করিনি।
পৃথিবীটা মূলতঃ দাঁড়িয়ে আছে মিথ্যার উপর। এখানে কথা দিয়ে কেউই কথা রাখেনা। জাহেলিয়াতের শেষ পর্ষায়ে চলে আসার কারণেই আল্লাহর পাকড়াও শুরু হয়েছে।
সুন্তরভাবে বাঁচতে হলে ইসলামের সুমহান আদর্শের দিকে ফিরে আসতে হবে। সকল পাপের রাস্তা পরিহার করে নিজের পরিবার পরিজন, সমাজ তথা রাষ্ট্রে ইসলামের সুমহান নিয়ম নীতি বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে হবে।
ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠা ছাড়া সুখ আসবেনা। তাই বিগত জীবনে যাদেরকে দিয়ে এই সমাজ পরিচালনা করেছেন, তাদেরকে বিদায় করতে হবে। সঠিক পথ চলা শুরু হউক আজ থেকে।
প্রাথমিকভাবে মসজিদ ও সমাজ কমিটি থেকে সুদখোর, মদখোরদের বিদায় করুন। নামাজি, সৎ লোকগুলো দিয়ে সমাজ পরিচালনা করুন।
ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ নির্মাণে যাকাতভিত্তিক অর্থ ব্যবস্থার বিকল্প নেই। যথাযথ প্রক্রিয়ায় যাকাত আদায় হচ্ছে কিনা-তা তদারকি করে সমাজে গরীবদেরকে বন্টনে উদ্যোগ গ্রহন করুন।
আমরা ভাল হলে আল্লাহ সকল মহামারি ও প্রকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করবেন।
কথা হলো- ইসলামের পথে ফিরে আসতেই হবে। ইসলামই একমাত্র মুক্তির পথ।
আল্লাহ আমাদের বুঝার তৌফিক দিন, আমিন।

মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন
সেক্রেটারি
কক্সবাজার মাদানি ফোরাম
মদিনা আল মনোয়ারা, সৌদি আরব।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •