শাহেদ মিজান, সিবিএন:

কক্সবাজার জেলায় হু হু করে বেড়ে চলছে করোনা রোগীর সংখ্যা। প্রতিদিন আগের দিনের চেয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে চলছে। কক্সবাজারে আজ (২৮ মে) পর্যন্ত ৬১০ জন আক্রান্ত হয়েছেন । এতে ৬৪ জেলার মধ্যেও টপ লিস্টে চলে এসেছে কক্সবাজার। জেলার দুই উপজেলার সদর এবং চকরিয়া উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলছে রোগীর সংখ্যা। সদর আজ পর্যন্ত ১৭৬জন এবং চকরিয়ায় ১৫৬ জন আক্রান্ত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে এক বিপর্যয়ের দিকে যাচ্ছে এই জেলা। আক্রান্তে এতোদিন চকরিয়া সর্বোচ্চ থাকলেও বৃহস্পতিবার একদিনে সর্বোচ্চ রোগী আক্রান্ত হয়েছে কক্সবাজার সদরে। এতে কক্সবাজার সদরই এখন জেলায় করোনার টপ ‘হটস্পট’।

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া সিবিএনকে জানান, সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে) কক্সবাজার জেলায় সর্বোচ্চ সংখ্যক ৫৯জন রোগী সনাক্ত হয়েছে। সনাক্তদের মধ্যে সদর ৩১, উখিয়া ৬, চকরিয়া ৯, টেকনাফ ১ ও রামুতে ১২ জন। পুরাতনসহ মোট ২৫৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এতে কক্সবাজার সদরে মোট রোগী সংখ্যা দাঁড়ালো ১৭৬জন এবং চকরিয়ায় ১৫৪জন। এতে কক্সবাজার সদর হয়ে উঠেছে করোনার টপ ‘হটস্পট’।

তথ্য মতে, কক্সবাজার সদরে আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই কক্সবাজার শহরেই এবং যারা মারা গেছেন তারাও সবাই কক্সবাজার শহরের। এতে দিনে দিনে ভয়াবহ হয়ে উঠছে কক্সবাজার শহরের পরিস্থিতি। কিন্তু লোকজন এখনো সেটাকে গুরুত্ব দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রয়োজন বা প্রয়োজন ছাড়া বের হয়ে সামাজিক দূরত্বসহ কোনো স্বাস্থ্য বিধি মানছে না লোকজন। এতে পরিবারের একজন আক্রান্ত হয়ে অন্যান্য সদস্যদের সংক্রমিত করছেন। ইতিমধ্যে দেখা গেছে, আক্রান্ত মধ্যে একই পরিবারের লোকজন বেশি।

সচেতন মহলের আশঙ্কা, সরকারি ঘোষণা মতে ৩১ মে’র পর থেকে সবকিছু আরো স্বাভাবিক হলে কক্সবাজারের পরিস্থিতি আরো মারাত্মক হয়ে উঠবে। তখন লোকজনের চলাচলসহ সবকিছু আরো গতি পেলে সংক্রমণের হার আরো বাড়বে। তাই বিষয়টি আলাদা করে ভাবার জন্য প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের প্রতি আহ্বান সচেতন মহলের।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য মতে, আজ পর্যন্ত কক্সবাজার জেলায় ৬১০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ কক্সবাজার সদর উপজেলায় ১৭৬জন, চকরিয়া উপজেলায় ১৫৪ জন, পেকুয়া উপজেলায় ৩৯ জন, মহেশখালী উপজেলায় ৩০জন, উখিয়া উপজেলায় ৭৯ জন, টেকনাফ উপজেলায় ১৮জন, রামু উপজেলায় ২৩জন, কুতুবদিয়া উপজেলায় ৩ জন এবং রোহিঙ্গা শরনার্থী ২৯জন।

অন্যদিকে কক্সবাজার জেলায় করোনা আক্রান্ত মারা গেছেন ৮জন। সুস্থ্য হয়ে উঠেছেন ৯৭জন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •