ফাইল ছবি

মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে নির্মিত ১০বেডের পরিপূর্ণ অত্যাধুনিক ICU (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট-Intencive care unit) এবং ৮বেডের HDU (হাই ডিপেডন্সি ইউনিট-High dependency unit) আগামী ১৫জুন থেকে চালু হচ্ছে। নতুন স্থাপিত এ ২টি ইউনিট উদ্বোধনের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক’কে প্রধান অতিথি হিসাবে আমন্ত্রণ জানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ও উপপরিচালক ডা. মোঃ মহিউদ্দিন সিবিএন-কে জানিয়েছেন।

বিশ্বব্যাপী চলমান করোনা সংকটে মেডিকেল ইকুইপমেন্টের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। এজন্য বিশ্ববাজারে মেডিকেল ইকুইপমেন্টের চরম সংকট চলছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ লকডাউন (Lockdown) থাকায় প্রয়োজনীয় মেডিকেল ইকুইপমেন্ট আমদানি করতেও সময় ক্ষেপন হচ্ছে। এ সংকটের মাঝেও ICU এর ৪টি মেশিন ও সংশ্লিষ্ট মেডিকেল ইকুইপমেন্ট ইতিমধ্যে কক্সবাজার পৌঁছেছে। বাকী ৬টি মেশিন আগামী ৭/৮ জুনের মধ্যে মেডিকেল ইকুইপমেন্ট সহ কক্সবাজারে পৌঁছানোর যথেষ্ট সম্ভবনা রয়েছে। যদি মেডিকেল ইকুইপমেন্ট আমদানি এ সময়ের মধ্যে হয়, তাহলে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নির্মাণাধীন ১০বেডের পরিপূর্ণ অত্যাধুনিক ICU এবং ৮ বেডের HDU আগামী ১৫ জুনের মধ্যে চালু করা যাবে।

এ নির্মাণকাজে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত একটি সুত্র সিবিএন-কে এ তথ্য জানিয়েছেন। জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক হাই কমিশন (UNHCR)-৩৫ কোটি টাকারও অধিক ব্যয়ে অত্যাধুনিক বহুমুখী সুবিধা সম্বলিত এই ১৮ বেডের ICU এবং HDU নির্মাণ করেছে। ইতিমধ্যে অবকাঠামো নির্মাণ কাজ প্রায় ৯৮% সম্পন্ন হয়েছে বলে সুত্রটি জানিয়েছে।

অত্যাধুনিক সুবিধা সম্বলিত ICU-HDU এর সকল চিকিৎসক, নার্স, মিডওয়াইফ, স্বাস্থ্যকর্মী, এ্যাম্বুলেন্স সহ মাসিক সকল ব্যয়ভার UNHCR কর্তৃপক্ষ বহন করবেন। ইতিমধ্যে সকল জনবলও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ১৮বেডের ICU এবং HDU-তে ভেন্টিলেটর সার্ভিসের জন্য অক্সিজেন প্ল্যান্টও একইসাথে নির্মান করা হয়েছে। সুত্র আরো জানান, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আগে কোন ICU ছিলোনা। শুধুমাত্র ২ বেডের অসম্পূর্ণ HDU ছিলো।

বিশ্বস্ত এই সুত্র মতে, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের উদ্বোধন হতে যাওয়া ICU এবং HDU এর চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, ক্লিনার, মিডওয়াইফ অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মী সহ মাসিক ৩৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।ICU এবং HDU এর প্রতিমাসের এই অতিরিক্ত ব্যয়ও নিয়মিত UNHCR কর্তৃপক্ষ বহন করবেন।

সুত্রমতে, কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ICU এবং HDU ‘জাতিসংঘ সামগ্রী ও করোনা ভাইরাস রিলেটেড অগ্রাধিকার’ দিয়ে আমদানি ব্যয় অনেক বেশি গেলেও জরুরি কার্গোবিমানে মেশিন ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি আমদানি করা হচ্ছে।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে চালু হতে যাওয়া ICU এবং HDU- তেই প্রথম ভেন্টিলেটর সুবিধা থাকবে। যা জেলার কোন সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে ছিলোনা। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর জন্য এই ভেন্টিলেটর সুবিধা জন্য খুব বেশী প্রয়োজন।

কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাঃ শাজাহান আলি জানান, কক্সবাজারের প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় UNHCR কর্তৃপক্ষ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ICU এবং HDO নির্মাণ করে করে দিয়েছেন। এজন্য জেলা প্রশাসক UNHCR কর্তৃপক্ষের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন এবং তাঁদেরকে কক্সবাজারে ICU ও HDO এর প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করাতে সক্ষম হন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •