সিবিএনঃ
ঘড়ির কাঁটায় রাত বারোটা বেজে এইমাত্র ঢলে পড়লো। ক্লান্ত কিন্তু সাহসী মনোবল নিয়ে নিজেই নিজের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট সাইন করলাম। দপ্তরগুলোতে মেইল করার পর কম্পিউটার অফ করে রুমের বাতি নিভাতে গিয়ে একটু থমকে গেলাম। অফিস ছেড়ে যাচ্ছি। কবে আবার আসা হবে জানি না। অল্প সংখ্যক সহকর্মী ঘিরে ছিলো। আবার অফিসের চেয়ারে বসে পড়লাম একটা ছবি তুলতে বল্লাম। তারা তুলে দিলো। নিজেরাও সাহসের সাথে গ্রুপছবি তুলতে চাইলো। বন্ধ করে বেরিয়ে এসে বাহিরের দরজায় দাড়ালাম। সবাই ঘিরে ছিলো। আবার ছবি তুলতে চাইলো। না করিনি। অনেক পেয়েছি এখান থেকে। বিনিময়ে কিছু দিতে পেরেছি কি না জানি না। সকল সহকর্মীদের ভীষণ মিস করবো। আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুন।
কথাগুলো ডা. শাকিল আহমেদের। যিনি চট্টগ্রামে করোনা পরিস্থিতিতে বাতিঘরের মত পথ দেখানো এক মানুষ।
সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটের বিশেষায়িত হাসপাতাল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেসের (বিআইটিআইডি) ল্যাব প্রধান ডা. শাকিল আহমেদ।
মঙ্গলবার (২৬ মে) তার করোনা ধরা পড়ে। তিনি ছাড়া ল্যাবের আরও একজন সহকর্মীর করোনা পজিটিভ হয়েছে।
ডা. শাকিল আহমেদ বলেন, কিছুদিন ধরেই নানা কারনে খবরের শিরোনাম হচ্ছিলাম। তবে এই ভাবে পত্রিকার পাতায় আসতে চাই নি। এতদিন করোনাকে বাহির থেকে মোকাবেলা করেছি। এখন ভিতর থেকে মোকাবেলা করার পালা। দোয়া করবেন যেন এই প্রতিকুলতা কাটিয়ে উঠে আবারও করোনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে পারি।
চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস হানা দেওয়ার পর থেকে গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামে করোনা ভাইরাস পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়া এই মানুষটিই এবার আক্রান্ত হলেন করোনাভাইরাসে।
গত দুইদিন ধরে সর্দি ও আজ হালকা জ্বর অনুভূত হওয়ায় নমুনা পরীক্ষা করাতে দিয়েছিলেন জানিয়ে ডা. শাকিল বলেন, ‘আমি শারীরিকভাবে ঠিক আছি। দুই দিন একটু সর্দি ছিল। আজ জ্বরও দেখা দিয়েছে। তাই ভাবলাম নিজের নমুনা পরীক্ষা করি। আর তাতেই পজিটিভ এলো।’
তার করোনা আক্রান্ত হওয়া বিআইটিআইডি ল্যাবের নমুনা পরীক্ষায় কোন প্রভাব ফেলবে কিনা— এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা দুজন করোনা পজিটিভ হলাম। পুরো একটা টিমের সাথে টানা সকাল-সন্ধ্যা কাজ করি আমরা। সুতরাং পুরো টিমটারই তো কোয়ারেন্টাইনে যাওয়া উচিত।’
  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •