মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে করোনা ভাইরাসের স্যাম্পল টেস্টের জট চরম আকার ধারণ করেছে। ক্ষেত্র বিশেষে দীর্ঘ এক সপ্তাহেও স্যাম্পল টেস্টের রিপোর্ট মিলছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিদিন কক্সবাজার জেলা, রোহিঙ্গা শরনার্থী, বান্দরবানের নাইক্ষংছড়ি, আলীকদম, লামা উপজেলা, চট্টগ্রামের লোহাগড়া ও সাতকানিয়া উপজেলা থেকে গড়ে ৪শতাধিক স্যাম্পল কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে জমা হচ্ছে। যত বেশী করোনা ভাইরাস রোগী সনাক্ত হচ্ছে, ঝুঁকি কমাতে তাদের সাথে সম্পৃক্ত থাকাদের কন্ট্রাক টেস্ট করতে হচ্ছে বেশি। এ কারণে স্যাম্পল কালেকশনের সংখ্যাও বাড়ছে বেশি। কিন্তু কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে আপাতত তিনশো’র উপরে স্যাম্পল টেস্টের স্বক্ষমতা নেই। মাইক্রোবায়োলজিষ্ট, প্রশিক্ষিত ল্যাব টেকনিশিয়ান, ল্যাব সহকারী সহ পর্যাপ্ত জনবলের অভাব রয়েছে। ল্যাবে টেস্ট করতে নাপেরে শত শত কালেকশনকৃত স্যাম্পল জমা থেকে যাচ্ছে। তবে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া বলেছেন, আগামী সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ল্যাবের শূন্য পদ গুলো পূরণ হয়ে যেতে পারে। তখন ল্যাবে স্যাম্পল টেস্টের সংখ্যাও আরো বাড়বে।

কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা মঙ্গলবার ২৬মে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাব থেকে তথ্য নিয়ে সিবিএন-কে বলেছেন, ১হাজার ২শো’রও বেশী কালেকশন করা স্যাম্পল ল্যাবে টেস্টের অভাবে পড়ে আছে। স্যাম্পলের মানও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। করোনা ভাইরাস জীবাণু আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করতেও দেরী হচ্ছে। ফলে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হচ্ছে। কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা ক্ষোভের সাথে বলেছেন, গত ১৮মে উক্ত কার্যালয়ের ৮জন স্টাফের স্যাম্পল কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে টেস্টের জন্য জমা দিয়েছেন। কিন্তু ২৬মে পর্যন্ত তাঁরা টেস্টের রিপোর্ট পাননি। তিনি বলেন, খোদ সিভিল সার্জন অফিসের স্টাফদের স্যাম্পল টেস্টের এ ধীরগতি, সাধারণ মানুষ তো আরো বেশি দুর্ভোগ পোহাবে। স্থানীয় লোকজন বলছেন, ল্যাব থেকে টেস্টের রিপোর্ট পেতে পেতে করোনায় আক্রান্ত রোগীরা মৃত্যুবরণ করছেন।

এ বিষয়ে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া বলেছেন, পবিত্র ঈদুল ফিতরের কারণেও একটু স্যাম্পল জট লেগেছে। তাছাড়া বান্দরবান জেলা ও চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলাকে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে করোনার স্যাম্পল টেস্টের জন্য সংযুক্ত করে দেওয়ায় স্যাম্পল জট বেড়েছে। চট্টগ্রামে এখন ৪টি ল্যাব হয়েছে। সেখানে আরো একাধিক ল্যাব স্থাপন হওয়ার পথে। তাই বান্দরবান পুরো জেলা ও চট্টগ্রাম জেলার লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলাকে স্যাম্পল টেস্টের জন্য আগের মতো চট্টগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত করে দিলে স্যাম্পল জট কিছুটা কমবে বলে তিনি মনে করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •