মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

কক্সবাজারে করোনা স্যাম্পল টেস্টের জন্য আরো ২টি পিসিআর (পলিমারি চেইন রি-এ্যাকশন) মেশিন এবং ৩০০ শয্যা থেকে ৫০০ শয্যা পর্যন্ত পরিপূর্ণ একটি আইসোলেশন করোনা হাসপাতাল গড়ে তোলার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা। তিনি মঙ্গলবার ২৬মে সেলফোনে কক্সবাজারে করোনা সংকট মোকাবেলায় প্রধান সমন্বয়কারী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের কাছে এদাবি জানান।

বিষয়টি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা সিবিএন-কে নিশ্চিত করে বলেছেন, তাঁর দাবি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তিনি বিবেচনা করে বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। এজন্য সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ মঙ্গলবার ২৬মে রাত ১০টার দিকে এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজারের আরআরআরসি মোঃ মাহবুবুল আলম তালুকদার, জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, সিভিল সার্জন মোঃ মাহবুবুর রহমান, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া, কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, জেলা সদর হাসপাতালের উপ পরিচালক ও তত্বাবধায়ক মোঃ মহিউদ্দিন সহ কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিবিদদের সাথে জুম কনফারেন্স কথা বলবেন বলে কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফাকে তিনি আশ্বস্ত করেছেন।

প্রবীণ রাজনীতিবিদ এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প সহ সমগ্র কক্সবাজার জেলায় যেভাবে করোনা সংক্রমণ হচ্ছে, এতে করোনা ভাইরাস সংকট জেলায় ভয়াবহ আকার ধারণ করার আশংকা বেশী। পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে। তাই সময় থাকতেই করোনা ভাইরাস সংক্রামণ প্রতিরোধে জরুরিভিত্তিতে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এজন্য রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়া ও করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়াকে অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে। এর অংশ হিসাবে কক্সবাজার জেলায় সন্দেহজনক রোগীদের স্যাম্পল টেস্টের জন্য কমপক্ষে আরো ২টি পিসিআর (পলিমারি চেইন রি-এ্যাকশন) মেশিন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একইসাথে পিসিআর (পলিমারি চেইন রি-এ্যাকশন) মেশিন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান, ল্যাব সহকারী, কিট, কেমিক্যাল সহ আনুষাঙ্গিক সকল সরঞ্জামও সরবরাহের দাবি তুলেন। তিনি জানান, কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে স্যাম্পল টেস্টের জন্য ২টি পিসিআর মেশিন থাকা সত্বেও এই ল্যাবে চরম স্যাম্পল জট লেগে আছে। মঙ্গলবারও প্রায় ১২০০ স্যাম্পল টেস্টের জন্য ল্যাবে মজুদ রয়েছে। এসব স্যাম্পলের মানও নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে।

এছাড়া কক্সবাজার জেলার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য অনতিবিলম্বে ৩০০-৫০০ শয্যার একটি করোনা আইসোলেশন হাসপাতাল পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও নার্স দিয়ে প্রস্তুত করার অনুরোধ জানান। এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বলেছেন, রোগ নির্ণয় ও রোগীকে মানসম্পন্ন চিকিৎসা দেওয়াকে সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিতে হবে। নতুবা করোনার বিপর্যয় ঠেকানো যাবেনা। তাই কক্সবাজারবাসীর বৃহত্তর স্বার্থে তাঁর প্রস্তাব গুলো সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সবকিছু বিলম্ব না করে দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তিনি সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকে অনুরোধ করেছেন বলে জানান।

এরপর মানুষকে ঘরে রাখতে গরীব, অসহায়, দুঃস্থ, নিন্মআয়ের লোকজনদের জন্য আরো পর্যাপ্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করতে হবে বলে এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা মনে করেন। নতুবা মানুষকে ঘরে রাখা কষ্ট হয়ে যাবে। এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদকে বলেছেন, ‘আপনি কক্সবাজারের সন্তান, দেশের প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্থরে সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন, আমরা আপনাকে নিয়ে গর্ব করি, এই ভয়াবহ করোনা সংকট থেকে উত্তরণে কক্সবাজারবাসীর জন্য পরিকল্পিতভাবে কিছু করার উদ্যোগ নিন, এখনই কক্সবাজারবাসীর জন্য সার্বিক পরিস্থিতির আলোকে আপনার কিছু একটা করার সময়। কক্সবাজারবাসী করোনার ভয়ংকর থাবায় অসহায় হয়ে প্রধানমন্ত্রী ও আপনার দিকে চেয়ে আছে।

বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা এসব কথা সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ এর কাছে সেল ফোনে তুলে ধরলে, তিনি প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করে আরো বিশদ আকারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য মঙ্গলবার ২৬মে রাত ১০টার দিকে কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে জুম কনফারেন্স করার সিদ্ধান্ত নেন। এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা কক্সবাজারে করোনা সংকটজনিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোঃ মাহবুবুর রহমান সহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকতাদের কাছেও তাঁর বস্তবসম্মত প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেছেন বলে সিবিএন-কে জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •