এম আবু হেনা সাগর,ঈদগাঁও :

পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে নেই হ্যান্ডশেক আর কোলাকুলি, খুশিতে হাসি আনন্দ, হৈ-চৈ, কুশল বিনিময়। বরং সামাজিক দুরত্ব বজায় আর মুখে মাস্ক দিয়ে নামাজ আদায়। চোখে মুখে যেন শুধুই আতঙ্ক। চলমান করোনার ভয় সকলের মধ্যে দৃশ্যমান। গ্রামীন জনপদে বন্ধুদের আড্ডাবাজি কিংবা ঈদের আমেজ, নতুন পোশাক পরে শিশু-কিশোরদের তেমন কোলাহলও চোখে পড়েনি পথে ঘাটে।

এমন নিরানন্দ ঈদ জীবনেও দেখেনি কক্সবাজার সদরের ঈদগাঁওবাসী। করোনা সংক্রমণ নিয়ে সৃষ্ট লকডাউন পরিস্থিতিতে ঘরবন্দিতে আটকে পড়েছে অধিকাংশ মানুষ। তবে বেশ সংখ্যক মানুষই এবার বাসায় ঈদের নামাজ আদায় করছে। তবে কিছু কিছু মানুষ নানা কারনে পাড়া মহল্লার রাস্তায় রেরুলেও তাদের মাঝে নেই আনন্দের তেমন সাড়া।কোন উৎসব ছাড়াই সাড়াশদ্বহীন ভাবে ঈদের দিনটি পার করলো বৃহত্তর ঈদগাঁওর মানুষ।

৬ বছর বয়সী শিশু আইরিন ও জামি এবারের ঈদে কোথাও যেতে পারেনি। পিতা মাতার সাথে ঘরে ঈদ কাটালো। নানার বাড়ীতে গিয়ে ঈদ সালামী আদায় করতে না পেরে মন খারাপ তাদেরও।

শমশু আলম নামের এক প্রতিবন্ধি জানিয়েছেন, এ এলাকার মানুষের জীবনে এরকম ঈদ আর আসেনি। এমন ব্যতিক্রমী মহামারী আর কখনো দেখেনি তিনি।

কজন মুরব্বীর জানান, কত রকম মহামারির কথা শুনেছি। এটা এমন এক দুর্যোগ, সারা বিশ্বের মানুষকে চমকে দিয়েছে। তারা দীর্ঘকাল ধরে গৃহবন্দি। কর্মহীন হয়ে যাযাবরের ন্যায় ঘুরে বেড়ানো ছাড়া হয়তো আর কোন উপায় নেই। তবে ঈদে পেলনা কোনই তৃপ্তি।

প্রতিবছর জেলা সদরের বৃহত্তর এলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লাতেই খোলা মাঠে বা খালি জায়গায় স্থানীয় তরুন প্রজন্ম বা ক্লাব-সমিতির ব্যবস্থাপনায় ঈদের জামাতের আয়োজন করা হত। তার স্থলে মসজিদের ভেতরে আদায় হলো ঈদের নামাজ। এবার বিভিন্ন মসজিদে নামাজ শেষে মোনাজাতে হারানো পিতা মাতাসহ আত্বীয় স্বজন এবং চলমান করোনা থেকে মুক্তি পেতে মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে অঝর নয়নে কান্নাকাটি করেন মুসল্লীরা।

ঈদের দিনে নিরব নিস্তবদ্বতায় রুপ নিল পাড়া মহল্লা। নেই কোন ঈদের আমেজ অনুভূতি, দলছুট তরুনদের ঈদ আড্ডা। এমন এক আনন্দের দিনেও লোকজন সহজে বাড়ী থেকে বের হচ্ছেনা। তাদের মাঝে শুধুই ভাইরাস আতংক। তবে কিছুটা হলেও স্বস্থি দিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

রিয়াদ নামের এক ছাত্রনেতা জানান, তিনি গ্রামে মসজিদে নামাজ পড়েছে। প্রত্যেক মুসল্লির মধ্যে দূরত্ব রাখা হয়েছে। হ্যান্ডশেফ কোলাকুলি থেকে রাখা হয়েছে বিরত। আত্মীয় স্বজনের বাড়িতেও সহজে কেউ যাচ্ছেনা ভয়ে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •