মুহাম্মদ নজিবুল ইসলাম:
কভিট-১৯ মনে হয় আস্তে আস্তে আমাকে ঘিরে ফেলছে। চট্টগ্রামে আমার ফ্ল্যাট যে গলিতে সেইটা সুগন্ধা আবাসিক এর এস. আলম গলি নামে পরিচিত। গত বৃহস্পতিবার রাতে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু বরন করেছেন তাদের পরিবারের বড় ছেলে মোরশেদুল আলম চৌধুরী। আরো ৩ ভাই, তাদের মা ও মাসুদুল আলম চৌধুরীর ছেলে, ছেলের স্ত্রী ও করোনা আক্রান্ত। আমাদের কক্সবাজারের বাসা দৈনিক কক্সবাজার ভবন, উত্তর রুমালিয়ার ছড়া গলির সেফা ভবনে ঔষুধ কোম্পানির এক ড্রাইভার করোনা প্রজেটিভ, তারা এক ফ্লাইটে ৭ জন থাকছে এখনো। একই এলাকার শহীদ তিতুমীর এর গলিতে একটি ফ্লাটে সৈকত দাশ নামে কক্সবাজার সোনালী ব্যাংক এর কর্মকর্তা করোনা প্রজেটিভ। ঐ ফ্লাইটে ও ৪ জন থাকে। তারা সকলে এখনো নিজ নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে। ফ্লাট গুলো লকডাউন করা হলেও তা যথাযথ ভাবে মানাছেন না ঐ ফ্লাইটের বাসিন্দারা। উত্তর রুমালিয়ার ছড়া সমাজ কমিটি থেকে তাদের কে বের না হতে অনুরোধ করে তাদের প্রয়োজনীয় রসদ সরবরাহের নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়েছে। সব কিছু নিয়ে সকলের মত আমিও চরম আতংকিত। আমার সাথে চট্টগ্রামের বাসায় আমার ৮৬ বছর বয়সী পিতা ও ৭৫ বছর বয়সী মা থাকেন। আমি মাত্র গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম এসেছি। কিছু দিন আগে আমার মেঝ আব্বা ও ইন্তেকাল করেছেন বার্ধক্য জনিত রোগে ভূগে। আব্বা আম্মা বিষয় টা নিয়ে মানসিক ভাবে অনেক টা ভেঙে পড়েছে, কারন আমার মেঝ আব্বা তাদের জীবনের অনেক ভাঙ্গা গড়া, সংগ্রাম ও গৌরবের অংশ। আব্বা এখনো সারা রাত ঘুমান না ভাই হারানোর শোকে। আমি ও কক্সবাজারে বেশ কিছুদিন ত্রান কার্যক্রমে অংশ নিয়ে এলেমেলো ঘুরে বেড়িয়েছি, এই সব কাজে চেষ্টা করেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব না। আমি নিজেকেও আমার পরিবারের জন্য নিরাপদ মনে করছি না। তার পরেও এই কঠিন বাস্তবতা কে আমাদের মেনে নিয়ে চেষ্টা করতে হবে সুস্থ একটি পৃথিবীর জন্য। আল্লাহ আমাদের সকল কে হেফাজত করুন। আমিন।

মুহাম্মদ নজিবুল ইসলাম
সভাপতি, কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগ।
(ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •