গগনে চাঁদ উঠবে কারও মুখে হাসি থাকবে না। সার্জেন্ট রফিকুলের পথ চেয়ে থাকবে তার মেয়ে সুমা, বাবা ঈদের লাল জামা নিয়ে বাড়ি ফিরবে বলে। ছুটি হয়েছে তবুও খোকা বাড়ি যাবে না, শোলাকিয়ায় লক্ষ লক্ষ মুসল্লিদের ঈদের জামায়াত হবে না, গায়ে নতুন জামা থাকবে না, ঈদের নামাজ হবে কোলাকুলি হবে না, বাড়ি বাড়ি শিরনী-পায়েস রান্না হবে। কিন্তু কারও বাড়িতে কেউ আসবে না, ভাবছেন এই কেমন ঈদ! এই কেমন পরিণতি!

রাজ্যে সব সুখ আছে তবু মানুষের মাঝে বাসা বেঁধেছে বিষাদ আর বুকে আর্তনাদ। গগনবিদারী চিৎকার বুকে নিয়ে সবাই হা-হুতাস করছে…

ঈদ এসেছে, তবুও ঈদ আসে নি!

দিশেহারা মানুষ ভয়ে কাতরাচ্ছে। ছারিদিকে যেনো ঘাপটি মেরে বসে আছে কোন হিংস্র প্রাণি। বাড়ি থেকে বের হওয়া মত্রই চিবিয়ে খাবে আমাদের। মানুষের দুর্ভোগ-দুর্দশা, কান্নায় যেনো পুরো পৃথিবী ভারী হয়ে আছে।

মানুষেরর চোখে অশ্রু, মনে ভয় আর আত্মায় এই কেমন অসুখ? এই কেমন ভাইরাস??

হ্যাঁ, এই ভাইরাসের জন্য দায়ী আমরা, এই পৃথিবী, এই পৃথিবীর মানুষ, এই দেশ, এই দেশের মানুষ! বিভেদ, বৈষম্য, বিভাজন, অহংকার, দাম্ভিকতার পরিনাম এই মহামারি।

হ্যাঁ, এই মহামারির জন্য আমারায় দায়ী! এই পৃথিবীর ক্যান্সারের জন্য আমরায় দায়ী, পৃথিবীর ফুসফুস জ্বালিয়ে দেয়ার জন্য আমরায় দায়ী।

এই পরিবেশকে তিলেতিলে আমরায় ধংস লিলা বানিয়েছি। সুন্দরবন পুড়িয়ে দিয়ে রামপাল বানাচ্ছি, মাতারবাড়িতে কয়লা বিদ্যুৎ স্থাপন করে মানুষকে উদ্বাস্তু করেছি। ক্ষমতা পেয়ে জনগনের আমানত খুঁয়ে নিয়েছি। ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানুষের বাকস্বাধীনতা হরন করেছি, জোর করে অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিয়েছি।

হ্যাঁ, এই মহামারির জীবানু আপনরাই!

বাবা তার মেয়েকে ধর্ষণ করছে, শিক্ষক তার ১২ বছরের ছাত্রীকে ধর্ষণ করে হত্যা করছে, বাসে আমার বোনকে একা পেয়ে ধর্ষণে মেতেছিলো পরে গলা কেটে জবাই করে রাস্তায় ফেলে দিয়ে ছিলো। ছেলে তার বৃদ্ধ বাবাকে জঙ্গলে আর মাকে রাস্তায় দিয়ে আসছিলো।

রাজনীতির নামে হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিলেন আপনারাই। সাম্যের স্লোগান দিয়ে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলার জন্য আপনারায় দায়ী। জনগণের সম্পদ লুট করে একের পর এক দূর্ণীতির আতুরঘর বানিয়েছিলেন এই দেশকে। জনগণের ভোটে চেয়ারে বসে খাটের তলায় তেল আর মাটির নিচে চাল পুঁতেছিলেন আপনি।

মুক্তিযুদ্ধকে পূঁজি করে বিরোধী রাজনৈতিক দলকে দমিয়ে রেখেছিলেন আপনারাই, পরিবেশবাদীরা দেশকে বাঁচাতে রাস্তায় নামলে টিয়ারগ্যাস ছুঁড়েছিলেন আপনারাই।

শোষণ আর লোভে আমাদের আত্মায় ভাইরাস জমে গিয়েছে।  বৈষম্য আর অসাম্য আমাদের বিবেককে পুড়িয়ে দিয়েছে। ভাইরাস আমাদের মনন আর মগজে বীজ বুনেছে! হিংসা আর অসাম্প্রদায়িকতায় আমাদের চোখে ছানি পড়ে গেছে।

একটি সাম্প্রদায়িক দেশ চাই, একটা সাম্যের মাতৃভূমি চাই- যেখানে কোন বৈষম্য থাকবে না। ধনী-গরিব বিভাজন থাকবে না। রাস্তায় প্লেকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে বলতে হবে না “প্রধান মন্ত্রির হস্তক্ষেপ চাই”।

মানবতার অবমাননা হবে না, মানুষ ভুলে যাব না “আমি মানুষ”!

যদি এমনই হয় তাহলে আগামীর সূর্যটা আমাদের নতুন আলো, নতুন দিগন্ত। আগামীর গগণের নতুন চাঁদ হবে আমাদের ঈদের।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •