ঈদের শিক্ষা

প্রকাশ: ২৪ মে, ২০২০ ১০:৩১

পড়া যাবে: [rt_reading_time] মিনিটে


আবুল কাসেম আশরাফ:
ঈদ মানে একরাশ হাসি, খুশি, সুখ রাশি রাশি। ঈদ মানে আনন্দ। ঈদ মুসলমানদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর প্রতিবছর ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দের সাথে ঈদ উৎযাপন করা হয়। এটি ইসলামী সাংস্কৃতিক জীবনধারার এক উৎকৃষ্ট ও অত্যুজ্জ্বল নিদর্শন। এতে ধর্মীয় বিধান, ঈমানী চেতনা, প্রাণোচ্ছ্বল আবেগ ও আগামীর প্রেরণা জড়িত।

ঈদের মাঝে অনেক মহামূল্যবান শিক্ষা ও অন্তর্নিহিত তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। ঈদ প্রত্যেক মুমিন হৃদয়ে জাগিয়ে তুলে অফুরন্ত প্রেম – প্রীতি। নতুন সুর লহরীতে ছন্দময় করে তুলে প্রতিটি জনপদ। উন্মেষ ঘটে নবউদ্দীপনার।

ঈদ আমাদের ঐক্যের আহবান জানায়। ঈদের দিনে ধনী -গরীব সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে একই কাতারে জামাতবদ্ধভাবে নামাজ আদায় করি। এ থেকে পারস্পরিক হিংসা, ক্লেশ, দ্বেষ -বিদ্বেষ, লোভ – লালসা ভুলে আমরা একতাবদ্ধ হই।

ঈদ আমাদের সাম্যের শিক্ষা দেয়। আমাদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ করে। তাইতো আমরা ঈদের দিন আত্মীয় -স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, বন্ধু -বান্ধবের সঙ্গে দেখা – সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করি। পরস্পরের খোঁজ -খবর নিই। ফলে আমাদের মাঝে মিল – মোহাব্বত, ভালবাসা বৃদ্ধি পায়।

ঈদ আমাদেরকে সহানুভূতিশীল হতে শেখায়। এতে ধনীরা গরীবদের প্রতি যথাসাধ্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়, অন্নহীনে অন্ন,বস্ত্রহীনে বস্ত্র প্রদান করে। দুঃখীদের মলিন মুখে এক চিলতে হাসি ফুটানোর সর্বোচ্চ প্রয়াস পায়।ঈদে সাম্য, মৈত্রী, ভ্রাতৃত্ব রক্ষায় ইসলাম নির্দেশনা দিয়েছে।

ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, জাতীয়, আন্তর্জাতিক পারলৌকিক সহ সব ক্ষেত্রে ঈদের সার্বিক দাবী পরিব্যাপ্ত।

এটি কেবল সাময়িক সস্তা আনন্দ নয়, তামাশা বা অর্থহীন উল্লাসও নয়। বরং এর মাধ্যমে আদর্শবাদিতা, মার্জিত রুচিবোধ ও শালীনতার পরিস্ফুরণ ঘটে শৈল্পিক ও সুনিপুণভাবে।

এককথায়, ঈদ ইসলামের সার্বজনীনতা এবং বিশ্বজনীনতাকে সমুন্নত করে। এর মধ্যে ইসলামের মূল সৌন্দর্য তথা বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের উপাদান রয়েছে। তাই ঈদের প্রকৃত তাৎপর্য উপলব্ধি করে আমাদেরকে নতুনভাবে জাগতে হবে। দুঃখীদের স্বাবলম্বী করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এটাই হ্উ ঈদের শিক্ষা ও অঙ্গীকার।

আবুল কাসেম আশরাফ
সহকারী শিক্ষক
খরুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়
খরুলিয়া, সদর, কক্সবাজার।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •