মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

দোয়া মাহফিল, কবর জেয়ারত ও করোনা পরিস্থিতির কারণে খাদ্য সংকটে পড়া অসহায়, গরীব, দুঃখী, নিন্ম আয়ের মানুষকে খাদ্য সহায়তা দিয়ে ৫ম মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ করা হলো আলী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজকে।

কক্সবাজার শহরের কলাতলীর বাসিন্দা, কক্সবাজার সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারী আলহাজ্ব মোঃ রফিকুল ইসলাম ও কক্সবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ইনচার্জ পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা এর একমাত্র সন্তান আলী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ এর পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী ২৯ রমজান শনিবার। ২০১৫ সালের ২৯ রমজান ছিলো শুক্রবার। সেদিন কলাতলী হোটেল মোটেল জোন সড়কস্থ হোটেল ওশান প্যারাডাইজ এর সামনে এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় আলী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ মৃত্যুবরণ করেন।

কক্সবাজার পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে প্রাইমারী শিক্ষা ও কক্সবাজার সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় হতে মাধ্যমিক শিক্ষা জীবন শুরু করে ২০১৫ সালে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি পাশ করে আলী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ। পরে কক্সবাজার সিটি কলেজে ১ম বর্ষে ভর্তি হয়েছিলেন মরহুম আলী মোঃ রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ। সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যু বরণকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ১৭বছর। একমাত্র সন্তান হিসাবে মা-বাবার অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন রিয়াজ। প্রিয় সন্তান হারিয়ে পিতা-মাতা ২’জনই অনেকটা প্রায় অর্ধপাগল হয়ে পড়েছিলেন। বড় হয়ে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে যোগদানের স্বপ্ন দেখেছিলো-সন্তানহারা অসহায় রিয়াজের মা-বাবা। তারপরও রিয়াজকে ক্ষনিকের দুনিয়াতে মা-বাবার কাছে রাখার চেয়ে আল্লাহতায়লা তাঁর দরবারে নিয়ে যাওয়াকে শ্রেয় মনে করেছেন-এ সান্তনাকেই বুকে ধরে এখনো বেঁচে আছেন রিয়াজের মা-বাবা।

রিয়াজের ৫ম মৃত্যুবার্ষিকী শনিবার হলেও ২৮ রমজান শুক্রবার পবিত্র জুমা’র দিন হওয়ায় একদিন আগেই তার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়। চলমান বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসজনিত লকডাউন (Lockdown) এর কারণে সীমিত আকারে শুক্রবার অনুষ্ঠিত পারিবারিক কর্মসূচীতে ছিলো মিলাদ, দোয়া মাহফিল, কবর জেয়ারত ও জুমার নামাজের পর দুঃস্থ গরীব জনসাধারেন মাঝে খাদ্য সহয়তা প্রদান।
রিয়াজের মা বর্তমানে কক্সবাজার ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ইনচার্জ পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা পদে কর্মরত। তাঁদের ২য় কন্যা সন্তান ফারিহা নাওয়াল রিহা’র বয়স আড়াই বছর।
মরহুম রিয়াজ এবং রিহা’র জন্য তাদের মা-বাবা সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •