এম.জিয়াবুল হক,চকরিয়া :

কক্সবাজারের চকরিয়ায় লকডাউনে সরকারি নির্দেশনা লঙ্গনে দোকান খোলা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে দোকানীদের লুকোচুরি খেলা চলছে। করোনা সংক্রমনের কবল থেকে জনগনের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনার আলোকে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত খাদ্যপন্য, কাচাঁবাজার ও ওষুধের দোকান ছাড়া অন্যসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্বান্ত হলেও বাস্তবে তা অমান্য করে চলছেন বেশিরভাগ দোকানী।

এ অবস্থায় চকরিয়া উপজেলা প্রতিটি জনপদে নিত্যদিন উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছে। বন্ধ করে দিচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্টান। তারপরও ঠেকানো যাচ্ছেনা না। নারী-পুরুষরা ভোর হলেই দলে দলে বের হচ্ছে ঈদের কেনাকাটা করতে। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে বুধবার ২০ মে ভোরের আলোতে চকরিয়া উপজেলার উপকুলীয় জনপদের বদরখালী বাজারে অভিযান পরিচালনা করেছেন উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শামসুল তাবরীজের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত।

এ সময় সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রেখে ব্যবসা চালানোর অভিযোগে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বদরখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন বস্ত্রবিতান ও মার্কেট, হারবাং ইউনিয়নের হারবাং বাজার, বরইতলী ইউনিয়নের একতাবাজার, কাকারা ইউনিয়নে বিভিন্ন এলাকার দোকানীকে ১৯টি মামলায় ১,৪৯,৫০০ টাকা জরিমানা করেছে। পাশাপাশি অভিযানের সময় আদালত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে অপ্রয়োজনীয জমায়েত ও আড্ডা ছত্রভঙ্গ করেছেন। অভিযানে বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খাইরুল বশর, চকরিয়া থানা পুলিশের একটি ইউনিট, আনসার সদস্য ও উপজেলা টেকনিশিয়ান এরশাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শামসুল তাবরীজ বলেন, দিন যত গড়াচ্ছে চকরিয়া উপজেলা করোনা হটস্পটে পরিণত হচ্ছে। বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নিয়মনীতি জারি করা হয়েছে। কিন্তু লক্ষ্য করা গেছে কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সরকারের এই আদেশ অমান্য করে গ্রামে-গঞ্জে দোকান খুলে ব্যবসা করছে। কেউ কেউ অযথা বাইরে ঘুরাফেরা করছে। এতে মানা হচ্ছেনা কোন সামাজিক দুরত্ব।

তাই বুধবার ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে উপজেলার বদরখালী বাজার, হারবাং বাজার, বরইতলী বাজার, ডুলাহাজারা বাজারসহ আরো কয়েকটি ইউনিয়নের বাজারগুলোতে অভিযান চালিয়েছি। এসময় বিভিন্ন এলাকার দোকানীকে ১৯টি মামলায় ১,৪৯,৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযানে গিয়ে দেখা গেছে পৌরশহরের কিছু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গ্রামে গিয়ে দোকান খুলে বসেছে। তারা প্রতিদিন ভোর অর্থাৎ সেহেরি খাওয়ার পর থেকে দোকান খুলে ব্যবসায় চালাচ্ছে। ওইসব দোকানদাররা কাস্টমার ঢুকার পর ভিতর থেকে তালা লাগিয়ে দেয়। এভাবেই ব্যবসা করছিলো তারা। আমরা এধরনের তথ্য পাওয়ার পর ওইসব এলাকায় অভিযান চালায়। পরে এর সত্যতাও পায়। এজন্য ওইসব দোকানদারদের কাছ থেকে জরিমানা, মুচলেখা ছাড়াও বেশ কয়েকটি দোকান সিলগালা করে দিয়েছি। বর্তমানে প্রতিটি সাদা পোশাকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •