মুহাম্মদ আবু সিদ্দিক ওসমানী :

গত ১৪মে থেকে ১৯মে পর্যন্ত পর পর ৬দিন রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। ১৯মে সনাক্ত হওয়া ৪জন রোগী সহ এ পর্যন্ত মোট ১০জন রোহিঙ্গা শরনার্থী (Forcibly displaced myanmar Nations-বলপূবর্ক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক) করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে।

১৯ মে মঙ্গলবারই একদিনে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক ৪জন করোনা রোগী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সনাক্ত করা হয়। এনিয়ে কক্সবাজার আরআরআরসি অফিস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, কক্সবাজার জেলা প্রশাসন, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন, রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে কর্মরত এনজিও এবং আইএনজিও সহ সংশ্লিষ্ট এখন নড়েচড়ে বসছেন। চিন্তিত হয়ে পড়েছেন সকলে। রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে করোনা সংক্রমণ কঠোরভাবে প্রতিরোধে নতুন কি কি পদক্ষেপ নেওয়া যায়, সেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। একই সাথে রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে কর্মরত ‘ইফসা’ নামক একটি এনজিও-র কক্সবাজার জেলার বাইর থেকে আসা ৩জন কর্মীও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। সেটাও রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে করোনা সংক্রমণ নিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে। দেশে করোনা ভাইরাস রোগী সনাক্ত হওয়ার প্রথমদিকে এক ভিডিও কনফারেন্সে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও কক্সবাজারে অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ ৩৪টি রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্পে করোনা ভাইরাস সংক্রামণ হওয়ার বিষয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলেছিলেন।

মঙ্গলবার ১৯মে করোনা ভাইরাসে সনাক্ত হওয়া রোহিঙ্গা শরনার্থীদের মধ্যে একজনের নাম-জাফর আলম (৫৮), সে ২নম্বর ক্যাম্পের পশ্চিম পাশের ডি-৪ ব্লকের বাসিন্দা। তার মাঝির নাম-নুর মোহাম্মদ। সে ক্যাম্পের ৩নম্বর কালেকশন সেন্টারের মাধ্যমে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ল্যাবে স্যাম্পল টেস্টে পাঠিয়েছিলো। দ্বিতীয় রোগী হলো- আমির হোসেন (৪৮), সে এক নম্বর ক্যাম্পের সি-২ ব্লকের বাসিন্দা। তার মাঝির নাম-জাহিদ হোসাইন। তৃতীয় রোগী হলো-আমান উল্লাহ (৪০), সে ৩ নম্বর ক্যাম্পের এএ-৮ ব্লকের বাসিন্দা। চতুর্থ রোগী হলো-আবদুল আলম (৬১)। ২নম্বর ক্যাম্পের পশ্চিম পাশের জি ব্লকের বাসিন্দা। তার মাঝির নাম-হামিদ।

কক্সবাজার আরআরআরসি অফিসের স্বাস্থ্য সমন্বয়কারী ডা. আবু তোহা এম আর ভূঁইয়া সিবিএন-কে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো জানান, করোনা আক্রান্ত রোগীদেরকে ইতিমধ্যে রোহিঙ্গা শরনার্থী ক্যাম্প থেকে পৃথক করে ক্যাম্পের অভ্যন্তরে স্থাপিত আইসোলেশন হাসপাতালে এনে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এসব করোনা রোগীর সাথে সম্পৃক্ত থাকা অন্যান্যদের খুঁজে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •