আনোয়ার হোছাইন, ঈদগাঁও, কক্সবাজার :
অবশেষে ঈদগাঁওতে বসবাসরত এমন এক যুবকের করোনা পজিটিভ হল (১৮ মে) সোমবার। পরে রাতে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে রোগির পরিবারকে লকডাউনের আওতায় এনেছে প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায়, ঈদগাঁও ইউনিয়নের বাজার সংলগ্ন ওয়ার্ডের জাগির পাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাবেক মেম্বারের ছেলের আজ করোনা পজিটিভ প্রমাণিত হয়।যথারীতি সদর উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ সোমবার রাতেই সদর মডেল থানাধীন ঈদগাঁও পুলিশ স্থানীয় চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম,জেলা পরিষদ সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান সোহেল জাহান চৌধুরীর উপস্থিতিতে করোনা পজিটিভ রোগীসহ বসবাসকারী তার পাঁচ ভাইয়ের পরিবারকেও লকডাউনের আওতায় আনা হয়।এছাড়া এসব পরিবারের নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহের জন্য উপস্থিত চেয়ারম্যান ও জেলা পরিষদ সদস্যদ্বয়কে দায়ীত্ব দেয়া হয়।এসব পরিবারের কোন সদস্য লকডাউন চলাকালীন ঘরের বাইরে বের হলে,বা বহিরাগত কেউ তাদের সংশ্রবে এলে তাদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনার হুশিয়ারী দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ঈদগাঁওস্থ ইসলামাবাদ ইউনিয়নের ওয়াহেদর পাড়ার ডাঃ মহিম উদ্দিন (বিসিএস) এবং ঈদগাঁও ইউনিয়নের ভোমরিয়াঘোনার বেংকার ছৈয়দ হোসেন করোনা রোগি হিসেবে শনাক্ত হলেও দু’জনই এলাকার বাইরে স্ব পরিবারে বসবাস করতেন।এ-ই প্রথম ঈদগাঁওতে বসবাসকারী কেউ প্রথম করোনা রোগি হিসেবে শনাক্ত হওয়ায় রোগীর এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, সারা দেশে করোনা প্রতিরোধে সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা কক্সবাজার জেলার সব এলাকায় যেভাবে জনগণ মান্য করে চলার চেষ্টা করছে, ঈদগাঁও কিন্তু এর পুরোপুরি বিপরীত। সেই থেকে এ-ই পর্যন্ত বৃহত্তর ঈদগাঁও’র বড় ছোট বাজারে জনসমাগম আগেরমতই স্বাভাবিক। এমনকি আগামী ঈদকে সামনে রেখে জেলার অন্য সব উপজেলায় সব মার্কেট বন্ধ থাকলেও বিশাল ঈদগাঁও বাজার খোলা থাকার সংবাদে ঈদ মার্কেটিং করতে জেলার অন্য উপজেলা থেকে লোকজন ঈদগাঁওতে বানের পানির মতো জনস্রোত উপচে পড়ছে ভোররাত থেকে।তাদের মুখে নেই মাস্ক,মানেনা সামাজিক কিংবা শারীরিক দূরত্ব।মার্কেট গুলোতে নেই সেনিটাইজার বা জীবাণুনাশক কোন বেবস্থা।এমতবস্থায় বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ করোনা রোগি শনাক্তের পরও কি হুশ ফিরবেনা বাজারের দোকানদার ও জনগণের! যদি চলমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকে তাহলে ঈদগাঁও হয়ে উঠতে পারে করোনার অঘোষিত বাজার।সচেতন জনগণ প্রশাসনকে জনসমাগম ঠেকাতে কঠোর হওয়ার দাবি জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •