মুহিববুল্লাহ মুহিব, সিবিএন :

দেশে চলমান পরিস্থতির মধ্যে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ২৬ কর্মীকে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) কারিতাসের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে এ এনজিওর বিরুদ্ধে রয়েছে দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি ও কর্মীদের বেতন প্রদানে অনিয়মের নানা অভিযোগ। লকডাউনে চাকরী হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ২৬ কর্মী। তাদের বেশীরভাগ কর্মী উখিয়া-টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দা।

চাকরিচ্যুতদের অভিযোগ, নিয়ম বহির্ভূত ভাবে কর্মীদের চাকরিচ্যুত করা, টাকার বিনিময়ে ভূঁয়া সার্টিফিকেট ধারীদের চাকরী দেওয়া ও কর্মীদের বেতন নিয়ে অনিয়মের ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এনজিওটির শেল্টার প্রকল্পে কাজ করতো প্রায় ২৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। গত ২৫ মার্চ হঠাৎ করে ওই প্রকল্পের ২৬ কর্মীকে চাকরীতে না আসার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। তারপর থেকে কোন কর্মকর্তাকে অফিস বা মোবাইল ফোনে পাননি বলে অভিযোগ ভুক্তভুগীদের। কিন্তু একই প্রকল্পে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কর্মীদের চাকরীতে বহাল রেখেছে তারা।

চাকরীচ্যুত হওয়া এক কর্মী কফিল উদ্দিন সিবিএনকে বলেন, রোহিঙ্গা শিবিরের ৪,১৩,১৯ নং ক্যাম্পে কর্মরত আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২৬ জন কর্মীদেরকে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে চাকরী চ্যুত করা হয়েছে। কর্মরত সবাই একই প্রকল্পে কাজ করা সত্বেও কোন ধরনের যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ পরীক্ষা ছাড়া উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের স্বজন প্রীতি ও টাকার বিনিময়ে তাদের পরিচিত কর্মীদের বহাল রেখে বাকি ২৬ জনকে চাকরীচ্যুত করা হয়। এ অবস্থায় হঠাৎ চাকরী হারিয়ে দিশেহারা আমি ও আমার পরিবার।

চাকরী হারানো কারিতাসের আরেক কর্মী ওসমান সরওয়ার বলেন, স্বজন প্রীতির মাধ্যমে বহাল থাকা অনেক কর্মী ভুঁয়া সার্টিফিকেট ধারী এবং অতীতেও টাকার বিনিময়ে ভূঁয়া সার্টিফিকেটে চাকরী দিয়েছেন কর্মকর্তারা। এই রকম দূর্নীতির গুঞ্জন চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে পরবর্তীতে তাদেরকে চাকরী থেকে বাদ দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, আমাকে চাকরী থেকে মার্চের ২৫ তারিখ না করে দেয় তারা। কিন্তু কয়েকদিন পর এপ্রিল মাসে কাজ করতে বলেন। আমরা কাজ করি, এখনো বেতন দেয়নি উল্টো আর ফোন না করার কথা বলছে কর্মকর্তারা। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে এমন সিদ্ধান্তে আমরা হতাশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনজিও সংস্থা ‘কারিতাসে’র মানব সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা আসিফ মাহমুদ সিবিএনকে বলেন, সংস্থার সাথে কর্মীদের নির্ধারিত চুক্তিবদ্ধের মেয়াদ শেষ হওয়ায় আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় কাজ করা কর্মীদের চাকরীচ্যুত হয়। কাউকে অনিয়ম করে চাকরীতে বহাল রাখা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

যদি মেয়াদ শেষ হয় তাহলে একই প্রকল্পে কাজ করা অন্যরা কিভাবে বহাল রয়েছে..এমন প্রশ্নের জবাবে এধরণের কেউ নেই বলেও দাবী করেন। কর্মরত কোন কর্মীর সার্টিফিকেট ভুঁয়া প্রমানিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে চাকরী থেকে বাদ দেওয়া হবে বলে জানান কারিতাসের এই কর্মকর্তা।

লিখিত পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে উখিয়া উপজেলা নির্বাহি অফিসার নিকারুজ্জামান চৌধুরী সিবিএনকে বলেন, কোন ভুক্তভোগী এনজিও সংস্থার কোন কর্মকর্তার অনিয়মের রোষানলে পতিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যেক এনজিও সংস্থার একটা নির্ধারিত প্রশাসনিক বিভাগ থাকে। তারা তাদের প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী কর্মী নিয়োগ করেন। এছাড়া কোন ভুক্তভোগী কোন এনজিও সংস্থার কর্মকর্তাদের অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করলে তখন তদন্ত সাপেক্ষে বিষয়টির যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •   
  •  
  •